অর্থ আদালত স্টাডি রুম (পর্ব-৪) বিষয়: মুসলিম বিবাহ পদ্ধতি

অর্থ আদালত স্টাডি রুম (পর্ব-৪) বিষয়: মুসলিম বিবাহ পদ্ধতি

স্টাডি রুম ডেস্ক:
বাংলাদেশের আইন অনুসারে, ছেলেদের বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স নির্ধারন করা হয়েছে ২১ বছর এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ১৮ বছর। এর কম বয়সে ছেলে কিংবা মেয়ের বিয়ে দেওয়া হলে সেটি বাল্যবিবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়। বাল্যবিবাহ আইনত দন্ডনীয় অপরাধ।

বাংলাদেশে ১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ-বিচ্ছেদ আইন, ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন, ১৯৭৪ ও ১৯৭৫ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইন, ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইন প্রভৃতি আইনের সমন্বিত নিয়ম-ধারার অধীনে মুসলমান সমাজে আইনী  বিবাহ ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পাদিত হয়। মুসলিম আইন অনুসারে বিয়ে কেবলমাত্র একটি ধর্মীয় দায়িত্বই নয়, একটি দেওয়ানী চুক্তিও। এই আইন অনুসারে একটি পূর্ণাঙ্গ বিয়ের জন্য কতিপয় শর্ত পূরণ করতে হয়ঃ
১। উভয়পক্ষের ন্যুনতম বয়স
২। পারস্পরিক সম্মতি
৩। দেনমোহর
৪।  প্রাপ্তবয়স্ক ২ জন সাক্ষী

মুসলিম আইন অনুসারে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক এবং এই দায়িত্ব পুরুষের। এই দায়িত্ব পালন না করলে ২ বছর পর্যন্ত মেয়াদে বিনা শ্রম কারাদন্ড বা ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। বিয়ের অনুষ্ঠানে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা উত্তম, তবে কোন কারণে তা  না হলে ৩০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্টেশন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৫(২) অনুযায়ী, যেক্ষেত্রে একজন নিকাহ রেজিস্ট্রার ব্যতিত অন্য ব্যাক্তি দ্বারা বিবাহ অনুষ্টিত হয়, সেক্ষেত্রে বর বিবাহ অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী (৩০) ত্রিশ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রারের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করবেন। উক্ত আইনের ৫(৩) ধারা অনুসারে, প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর তাৎক্ষণিক নিকাহ রেজিস্ট্রার বিবাহটি রেজিস্ট্রি করবেন।

ধারা ৫(৪) অনুযায়ী অত্র আইনের বিধান লঙ্ঘন করলে দুই বছর পর্যন্ত মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা তিন হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

বিবাহ রেজিস্ট্রি হওয়ার পরই, রেজিস্টারের যে পৃষ্টায় বিবাহ রেজিস্ট্রি করা হয়েছে, তার সত্যায়িত নকল তুলে সংরক্ষণ করতে হবে। মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৯ অনুযায়ী, এ ধরনের নকলের জন্য কোন ফিস প্রদান করতে হবে না।

কোনো নারীর স্বামী মারা গেলে অথবা তাকে স্বামী কর্তৃক তালাক দেওয়া হলে, ঐ নারীর গর্ভে আগের স্বামীর সন্তান আছে কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য, ইদ্দত পালন না করে, অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারেন না। এটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য, তালাকপ্রাপ্ত হলে পরপর ৩টি পূর্নাঙ্গ ঋতুকালীন সময়, আর স্বামী মারা গেলে ৪ মাস ১০ দিন সময় অপেক্ষা করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে যদি কোনো গর্ভ সঞ্চার হওয়ার লক্ষণ প্রকাশিত না হয়, তাহলে তিনি ইদ্দত শেষ করে অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারবেন। আর যদি গর্ভের লক্ষন প্রকাশিত হয়, তাহলে তার ইদ্দত হবে সন্তান জন্ম দেওয়া পর্যন্ত। সন্তান জন্ম নিলে এর পরে তিনি অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারবেন।

যে সকল সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিবাহ নিষিদ্ধঃ

রক্তসম্পর্কের ভিত্তিতে (৯ টি): ১)মা ২)বোন ৩)মেয়ে ৪)দাদী ৫)নানী ৬)খালা ৭)ফুফু 8)ভাতিজী ৯)ভাগ্নী|

দুগ্ধপানের ভিত্তিতে: ১) দুধমাতা  ২) দুধমাতার বোন  ৩) দুধমাতার মেয়ে।
(কোন ছেলেসন্তান জন্মের প্রথম দু’বছরের মধ্যে আপন মা ছাড়া রক্ত সম্পর্কের বাইরে যদি কোন মহিলার স্তন্যদুগ্ধ পান করে থাকে, তবে তাকে ঐ ছেলে সন্তানের দুধমাতা বলা হয়| বিবাহের ক্ষেত্রে আপন মায়ের মত ঐ মহিলার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। তাই একজন পুরুষের জন্য তার দুধমাতার সঙ্গে এবং দুধমাতার বোন ও মেয়ের সঙ্গে বিবাহ নিষিদ্ধ।)

বিবাহের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞাঃ
১। সৎ-মা, সৎ-দাদি, সৎ-নানী
২। কোন না কোন সময় সহবাস করেছে এমন স্ত্রীর কন্যা
৩। শাশুড়ি, নানী-শাশুড়ি, দাদি-শাশুড়ি
৪। ছেলের বউ, নাতির বউ
৫। স্ত্রীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকা অবস্থায় তার বোন, খালা, ফুফু, স্ত্রীর ভাইয়ের অথবা বোনের কন্যা।

ধর্মের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞাঃ
একজন মুসলিম পুরুষ কোন মুশরিক (মূর্তিপূজারী) বা কাফির (অবিশ্বাসী) নারীকে বিয়ে করতে পারবে না, শুধুমাত্র কোন মুসলিম নারী এবং পাশাপাশি কোন ইহুদি বা খ্রিষ্টান নারীকেও বিয়ে করতে পারবে।

অপরদিকে একজন মুসলিম নারী শুধুমাত্র একজন মুসলিম পুরুষকেই বিয়ে করতে পারবে।

পোষ্টটি প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করতে পারেন...
  • 129
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!