অর্থ আদালত স্টাডি রুম (পর্ব-২) বিষয়: ভূমি রেজিস্ট্রেশন

অর্থ আদালত স্টাডি রুম (পর্ব-২) বিষয়: ভূমি রেজিস্ট্রেশন

স্টাডি রুম ডেস্ক :
সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়কে স্থায়ী করে রাখবার একটি চমৎকার উপায় হচ্ছে রেজিষ্ট্রেশন আইন। সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় মৌখিকভাবে হতে পারে। আবার লিখিত দলিল দ্বারাও হতে পারে।

কিন্তু মৌখিকভাবে ক্রয়-বিক্রয়ের বিপদ অনেক। প্রতারিত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। সময়ের সাথে সাথে সম্পত্তির মূল্য বৃদ্ধি পায়। ফলে অনেকেই লোভ সম্বরণ করতে না পেরে ছলে বলে এবং কৌশলে কি করে অন্যের সম্পত্তি আত্মসাত করা যায় তার প্রচেষ্টা চালায়। যিনি সম্পত্তি বিক্রয় করেন তিনি লোভের বশবর্তী হয়ে বিক্রয়টি অস্বীকার করিতে পারেন বা সম্পূর্ণ বিক্রয় মূল্য পান নাই বলে আপত্তি উপস্থাপন করতে পারেন। কাজেই দেখা যাচ্ছে সম্পত্তি মৌখিকভাবে ক্রয়-বিক্রয়ের বিপদ অনেক। কিন্তু লিখিত দলিল দ্বারা সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় করলে বিপদ অনেক কম থাকে। এমন কি প্রতারিত হবার সম্ভাবনাও কম থাকে। কেননা লিখিত দলিল মৌখিক দাবীর চাইতে মূল্যবান এবং অনেক বেশি প্রাধান্য পায়। লিখিত দলিল থাকলে মিথ্যা দাবী তুলে ক্রয়-বিক্রয় অস্বীকার করে সুবিধা করা যায় না।

কিন্তু লিখিত দলিল কি সব সময় নিরাপদ? না তাও নয়। কেননা লিখিত দলিল দ্বারাও প্রতারণার সম্ভাবনা থাকে। দলিল লিখিয়া তাহা দশ পনের বৎসর পূর্বে সম্পাদিত হয়েছিল। কাজেই দেখা যাচ্ছে যে সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় লিখিত দলিল দ্বারা হলেই যে বিপদের আশংকা থাকে না, তা নয়। এই আশংকা দূর করবার বিধান রেজিষ্ট্রেশন আইনে দেওয়া হয়েছে। যাহাতে লিখিত দলিলের পিছনের তারিখ দিয়া দলিল রেজিষ্ট্রি করে নেওয়া সম্ভব না হয়। কারণ এই আইনে দলিল সম্পাদনের চার মানের মধ্যেই রেজিষ্ট্রির জন্য দলিল দাখিল করার বিধান দেওয়া হয়েছে। লিখিত দলিল হারিয়ে যাইতে পারে, নষ্ট হয়ে যেতে পারে, অপাঠ্য বা অস্পষ্ট হয়ে পড়িতে পারে। কিন্তু দলিল খানি যদি রেজিষ্ট্রি হইয়া থাকে তা হলে সহজেই ঐ দলিলের নকল নেওয়া যেতে পারে। রেজিষ্ট্রেশন আইনের বলেই তা সম্ভব হয়েছে। বহু বৎসরের অভিজ্ঞতার ফসলএই রেজিষ্ট্রেশন আইন। #অর্থ_আদালত

রেজিষ্ট্রেশন আইনের উদ্দেশ্যঃ
রেজিষ্ট্রেশন আইনের উদ্দেশ্য’র সার-সংক্ষেপঃ
১) দলিলের যথার্থতা সম্পর্কে চূড়ান্ত নিশ্চয়তা বিধান করা;
২) আদান-প্রদানের প্রচার প্রদান করা;
৩) জাল-জালিযাতি প্রতিরোধ করা;
৪) একটি সম্পত্তির ইতিপূর্বে কোন বিধি-ব্যবস্থা হয়েছে কিনা উহা নির্ণয়ের সুযোগ প্রদান করা; এবং
৫) স্বত্ব-দলিলের নিরাপত্তা বিধান করা এবং মূল দলিল হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে সে ক্ষেত্রে স্বত্ব প্রমাণের সুযোগ বিধান করা।

রেজিষ্ট্রেশন আইনের ক্রম বিকাশঃ
১৭৮১ খৃষ্টাব্দে তৃতীয় জর্জের আমলে রেজিষ্ট্রেশন আইন সর্বপ্রথম বঙ্গীয় বিধিবদ্ধ আইন নামে প্রাদেশিক আইন হিসেবে জন্মলাভ করে। উক্ত আইনের ১৪ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ত্রিবিধ ক্ষমতা নিয়ে যথা- দলিল, রেজিষ্ট্রীকরণ, জরীপকরণ ও নামজারীকরণের প্রথম রেজিষ্ট্রার মিঃ এডওয়ার্ড টিরেটা নিয়োগ লাভ করেন।

পরবর্তীকালে ১৮৬৫, ১৮৬৬, ১৮৬৮, ১৮৭১, ১৮৭৭, ১৮৭৯, ১৮৮৩, ১৮৮৬, ১৮৮৮, ১৮৮৯, ১৮৯১ ও ১৮৯৯ সালে বিভিন্নভাবে  আইন প্রণয়ন করে মূল আইনের পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে যুগের চাহিদা মেটানো হয়। সর্বশেষ ১৯০৮সালে পূর্বের সকল বিক্ষিপ্ত আইন ও বিধানগুলোকে সংকলিত করে বর্তমান রেজিষ্ট্রেশন আইন Act XVI প্রণয়ন করা হয়।

রেজিস্ট্রেশন প্রশাসন
রেজিষ্ট্রেশন কার্য পরিচালনার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি রেজিষ্ট্রেশন পরিদফতর রয়েছে। বর্তমানে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবন জেলাগুলিকে রেজিষ্ট্রেশন পরিদফতরের আওতার বাহিরে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশে একজন ইন্সপেক্টর জেনারেল আছেন যিনি সাধারণতঃ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পর্যায়ের অফিসারগণের মধ্য হতে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে থাকেন। ইন্সপেক্টর জেনারেলের অধীনে সহকারী ইন্সপেক্টর জেনারেল, রেজিষ্ট্রি অফিস সমূহের পরিদর্শক, জেলা রেজিষ্ট্রার, সাব-রেজিষ্ট্রার, অবকাঠামোভূক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। #ortho_adalot

সম্পত্তি ক্রয়পূর্ব প্রস্তুতি
১) মালিকানা স্বত্বের অনুসন্ধান ও যাচাই
২) দখলী স্বত্ব যাচাই
৩) তল্লাশী
৪) রাজস্ব দফতর তল্লাশী
৫) রেজিষ্ট্রেশন অফিস তল্লাশী

অনুসন্ধান করবেন কোথায়?
ভূমির বেচা বিক্রির মেয়াদ ১ হতে ৩ বছর হলে থানা সাব-রেজিষ্ট্রার অফিস এবং এর বেশী হলে জেলা রেজিষ্ট্রার অফিস।

সাব-রেজিস্ট্রারের নিকট দলিল রেজিস্ট্রিকরণ।

দলিলের সার্টিফাইড কপি উত্তোলন। 

পোষ্টটি প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করতে পারেন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!