ইসরাইলের সাথে চুক্তি, ফিলিস্তিনের পিঠে ছুরি বসিয়েছে আমিরাত: হামাস

ইসরাইলের সাথে চুক্তি, ফিলিস্তিনের পিঠে ছুরি বসিয়েছে আমিরাত: হামাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :   ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কুটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার চুক্তি করতে সম্মত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং আবুধাবির যুবরাজ শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের মধ্যে টেলিফোন আলাপে এই সমঝোতা চূড়ান্ত হয়।

এদিকে, ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ও ইসলামিক জিহাদ এ চুক্তির নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এ চুক্তির কারণে ফিলিস্তিন সংকট বিন্দুমাত্র হ্রাস পাবে না। স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রধান মাহমুদ আব্বাস চুক্তির বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে ফিলিস্তিনি দলগুলোর জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ফিলিস্তিনি জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেয়ার পর ফিলিস্তিনির ইসলামি প্রতিরোধ সংগঠনগুলো এ ব্যাপারে তাদের কঠোর প্রতিবাদের কথা জানিয়েছে।

ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেছেন, এই সমঝোতা ফিলিস্তিনি জাতির স্বার্থ রক্ষা করবে না। তিনি আরো বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইহুদিবাদী ইসরাইলের দখলদারিত্ব ও ফিলিস্তিনবিরোধী অপরাধযজ্ঞের ‘প্রতিদান’ হিসেবে তেল আবিবের সঙ্গে এই সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে তিনি কটাক্ষ করেন।

হামাসের আরেক মুখপাত্র ফাউজি বারহুম বলেছেন, তেল আবিবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ফিলিস্তিনি জাতির পিঠে ছুরি বসিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ইহুদিবাদী ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা করবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

এদিকে ফিলিস্তিনের ইসলামি জিহাদ আন্দোলন বলেছে, এই সমঝোতার মাধ্যমে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভাকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করা হয়েছে। জিহাদ আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা দাউদ শিহাব এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আরব আমিরাত এ সিদ্ধান্ত নিয়ে ইসরাইলের মোকাবিলায় নতজানু নীতি গ্রহণ করেছে এবং এর ফলে তেলআবিবের ফিলিস্তিন বিদ্বেষী তৎপরতা আরো জোরদার হবে।

উল্লেখ্য, ইসরাইলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কয়েক মাস আগে ঘোষণা করেছিলেন যে, অধিকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও কৌশলগত জর্দান উপত্যকার শতকরা ৩০ ভাগ এলাকা তেল আবিব দখল করে নেবে। এজন্য তিনি ১ জুলাই থেকে ইসরাইলের মন্ত্রিসভায় আলোচনা শুরু করবেন। কিন্তু জুলাই মাস পার হয়ে গেলেও সে আলোচনা শুরু হয় নি। বিষয়টি নিয়ে ইসরাইলের মন্ত্রিসভা ব্যাপকভাবে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে। এছাড়া, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা ইসরাইলি পরিকল্পনার বিপক্ষে অবস্থান নেয়। ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকেও শক্ত প্রতিরোধমূলক অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছে। এ কারণে ইসরাইল পশ্চিমতীর ও জর্দান উপত্যকা দখলের পরিকল্পনা স্থগিত করতে বাধ্য হয়।

পোষ্টটি প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করতে পারেন...
  • 14
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!