উদ্বোধনের আগেই ডুবে গেলো চাঁদপুরের সেই বিদ্যালয়টি

উদ্বোধনের আগেই ডুবে গেলো চাঁদপুরের সেই বিদ্যালয়টি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  চাঁদপুরে মেঘনা নদীতে বিলীন হওয়ার শঙ্কায় থাকা সেই স্কুল এবং দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রটি অবশেষে উদ্বোধনের আগেই ডুবে গেছে। দুই কোটি ২৯ লাখ টাকায় নির্মিত ‘রাজরাজেশ্বর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়’ নামে তিনতলা এই স্থাপনাটি বৃহস্পতিবার সকালে ডুবে যায়।

বন্দোরখোলা ইউনিয়নের চরাঞ্চলে স্থাপিত এই বিদ্যালয়টির কারণে শিবচর উপজেলার বন্দোরখোলা ইউনিয়নের মমিন উদ্দিন হাওলাদারকান্দি. জব্বার আলী মুন্সীকান্দি, বজলু মোড়লের কান্দি, মিয়া আজম বেপারীর কান্দি, রহমত হাজীর কান্দি, জয়েন উদ্দিন শেখ কান্দি, মসত খাঁর কান্দিসহ প্রায় ২৪টি গ্রাম ও ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার চর নাসিরপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের ছেলে-মেয়েরা এই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতো। বিদ্যালয়টি ছিল চরাঞ্চলের একমাত্র দৃষ্টিনন্দন তিনতলা ভবনসহ আধুনিক সুবিধা সমৃদ্ধ একটি উচ্চ বিদ্যালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চরের এই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের সকলেই চরের বাসিন্দা। মূল ভূ-খন্ড এখান থেকে বেশ দূরে হওয়ায় চরের ছেলে-মেয়েরা অন্যত্র গিয়ে লেখাপড়া করার সুযোগ পেতো না। এই বিদ্যালয়টি হওয়ার কারণে এখন চরের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করতো।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সফিউল্লাহ সরকার বলেন, রোববার থেকে ভবনটি নদীর মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকলেও বৃহস্পতিবার সকালে তলিয়ে যায়।চরের ছোট ছোট প্রায় ২৪টি গ্রাম থেকে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী ছিল বিদ্যালয়টিতে। এখন এটি ডুবে যাওয়াতে উক্ত বিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর লেখাপড়া হুমকির মধ্যে পড়েছে।

রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হযরত আলী বেপারী বলেন, গত বছর জানুয়ারিতে সাইট সিলেকশনের সময় মেঘনা নদী অনেক দূরে ছিল। তখন কেউ ভাবেনি নদী ভাঙতে ভাঙতে ভবনটির কাছে চলে আসবে।

চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বাবুল আখতার বলেন, রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নটি চারপাশে পদ্মা-মেঘনা নদী দ্বারা বেষ্টিত। বর্তমানে পদ্মা-মেঘনার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি ও প্রচণ্ড স্রোতে ভবনটি তলিয়ে গেছে।

পোষ্টটি প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করতে পারেন...
  • 98
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!