এমন ম্যাচ খুব কমেই হয়েছে!২য় সুপার ওভার! মরুভূমিতে আবারো ছক্কা ঝড়!

এমন ম্যাচ খুব কমেই হয়েছে!২য় সুপার ওভার! মরুভূমিতে আবারো ছক্কা ঝড়!

স্পোর্টস ডেস্ক:

আরব আমিরাতে অনুষ্ঠানরত আইপিএলটা এবার দারুণ একটা প্যাটার্ন নিয়ে এগোচ্ছে। দুর্দান্ত কিছু ম্যাচ হওয়ার পর কয়েকটি ঘুমপাড়ানি একপেশে ম্যাচ। তারপর আবার গোটা দুই-তিন রোমাঞ্চ জাগানিয়া ম্যাচ। রবিবার রাজস্থানের রেকর্ড রান তাড়া করে জয়ের পর আজ বিরাট কোহলির র‌য়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর জিতলো সুপার ওভারে। মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে সুপারে ম্যাচ জয়ের নায়ক কে? কোহলি স্বয়ং। তার বাউন্ডারিতেই এসেছে জয়সূচক রান।

এদিন সুনীল গাভাস্কারের মুখেই প্রশস্তি ঝরলো কোহলির। অথচ আগের ম্যাচে কোহলির ব্যর্থতায় ব্যাঙ্গালোরের হারের পর তাকে নিয়ে কথা বলে কী ঝামেলাতেই না পড়েন ভারতের ক্রিকেট কিংবদন্তি। গাভাস্কার তার সমালোচনা করতেন কি করতেন না অন্যকথা। তবে এ ম্যাচে তার ব্যাট থেকে ওই একটা চার না বেরোলে সমালোচনার হাত থেকে মনে হয় না কোহলি নিস্তার পেতেন। ব্যাটের মরচে যে ঝেড়ে ফেলতে পারেননি সেটি পরিষ্কার। লেগস্পিনার রাহুল চাহারের বলে ক্যাচ হওয়ার আগে জঘন্য ব্যাটিংয়ে ১১ বলে করেছেন মাত্র ৩ । তবুও তার দল দুশো পেরিয়েছে তিনটি ফিফটি এবং শিভম দুবের ছোট অথচ তীব্র একটা ঝড়ের সুবাদে। ওপেনার দেবদূত পাড়িক্কাল ৪০ বলে করেছেন ৫৪, ৩৫ বলে অ্যারন ফিঞ্চ ৫২। এবি ডি ভিলিয়ার্স ২৪ বলে ৫৫ ও দুবে ১০ বলে অপরাজিত ২৭ রানের ইনিংস খেলে বেঙ্গালুরুকে নিয়ে যান ২০১ রানে। রানের মধ্যে থাকা পাড়িক্কাল-ফিঞ্চ দুই ওপেনারকেই আউট করেছেন মুম্বাইয়ের সফলতম বোলার ট্রেন্ট বোল্ট।

দুশো রান চেজ করা কঠিন। আগেরদিন সঞ্জু স্যামসন ও রাহুল তেওয়াকিয়ার অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে পাঞ্জাবের বেঁধে দেওয়া ২২৪ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে রেকর্ড করেছে রাজস্থান। তাই বলে এ ম্যাচেও যে ওরকম কিছু ঘটতে পারে, কারো বিশ্বাস হয়নি। সাত ওভারের মধ্যেই টসজয়ী মুম্বাই ৩ উইকেটে ৩৯ ও ১২ ওভারের মধ্যে ৭৮/৪-এ পরিণত হয়। একটি একপেশে ম্যাচেরই সম্ভাবনা জেগে উঠেছিল। কিন্তু অন্যরকম ভাবলেন তরুণ উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান ইশান কিষাণ ও কাইরান পোলার্ড। মাত্র ১ রানের জন্য এবারের আইপিএলের তৃতীয় সেঞ্চুরিটি পাননি কিষাণ।

পঞ্চম উইকেটে ১১৯ রানের জুটি গড়ে মুম্বাইকে অবিশ্বাস্যভাবে জয়ের দোড়গোড়ায় নিয়ে যান তারা। শেষ ওভারে জয়ের দরকার ছিল ১৯ রান। শ্রীলঙ্কান পেসার ইসুরু উদানাকে কিষাণ দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে পরপর ছক্কা মারেন। চতু্র্থ বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ধরা পড়েন সীমানায়।  নয়টি ছক্কা ও দুই চারে ৫৮ বল থেকে ৯৯ করে আউট।  তবে প্রান্ত ছেড়ে গিয়েছিলেন বলে স্ট্রাইক পান পোলার্ড। জয়ের আশা ছিল সেজন্যই। শেষ বল থেকে করতে হতো ৫ রান। অর্থাৎ ২৩ বলে ৫৬ করা পোলার্ড একটি ছক্কা মারতে পারলেই হতো। কিন্তু মারতে পারলেন বাউন্ডারি। ২০১ রানে ম্যাচ  টাই, গড়ালো তা সুপার ওভারে।

সুপার ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করেন ব্যাঙ্গালোরের নবদীপ সাইনি। পোলার্ডের উইকেটটি হারিয়ে মুম্বাই করে ৭ রান। এ রান টপকাতে গিয়েও নাটক! বুমরার করা ওভারের তৃতীয় বলে আম্পায়ার কট বিহাইন্ড দিয়ে দিয়েছিলেন ডি ভিলিয়ার্সকে। বাঁচেন ডি আরএস নিয়ে। ৮ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ব্যাঙ্গালোর কোহলির ওই চারে। চিত্রনাট্যের আদর্শ রূপায়ণ! আইপিএলে অধিনায়ক হিসেবে কোহলির ১৫০তম ম্যাচে তার ব্যাটেই জয় এসেছে। যদিও বিচারকেরা যথার্থই ম্যাচের সেরা হিসেবে বেছে নিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ৩৬০ ডিগ্রি ব্যাটসম্যানকে।

 

পোষ্টটি প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করতে পারেন...
  • 6
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!