এম.এ.ওয়াদুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্টের উদ্যোগে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে অক্সিজেন প্লান্ট উদ্বোধন

এম.এ.ওয়াদুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্টের উদ্যোগে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে অক্সিজেন প্লান্ট উদ্বোধন

রাসেল আল জোবায়েরঃ চাঁদপুর ২৫০শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে “সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ প্লান্ট” এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

আজ শনিবার সকালে ভাষা’বীর এম.এ.ওয়াদুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্টের উদ্যোগে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে “সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ প্লান্ট” ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে শুভ উদ্বোধন করেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এম.পি মহোদয় এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শৈল চিকিৎসক ও চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ডাঃ জে আর ওয়াদুদ টিপু।

সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্টটি মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী স্হানীয় সংসদ সদস্য ডাঃ দীপু মনি এবং তার বড় ভাই জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ডাঃ জে আর ওয়াদুদ টিপুর বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত ভাষাবীর এমএ ওয়াদুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সহযোগিতায় করা হয়েছে।

স্পেকট্রার এজিএম ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর আলম জানান এখন থেকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রোগীদের প্রয়োজন সাপেক্ষে হাই ফ্লো অক্সিজেন সরবরাহ করা যাবে। আর এর দ্বারা কোভিড অথবা নন-কোভিড রোগীদের মধ্যে যারা প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের অভাবে মারা যেতেন সেটা আর হবে না। এই হাই ফ্লো অক্সিজেনের দ্বারা প্রতি রোগীকে ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ লিটার অক্সিজেন দেয়া যাবে। আর বর্তমান ব্যবস্থাপনার দ্বারা দেয়া যাচ্ছে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ লিটার।

চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ সাখাওয়াত উল্লাহ এবং হাসপাতালের আরএমও ডাঃ সুজাউদ্দৌলা রুবেল বলেন, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এবং তাঁর বড়ভাই ডাঃ জে আর ওয়াদুদ টিপু এ দুজনের দ্রুত পদক্ষেপ এবং সার্বিক সহযোগিতায় চাঁদপুরে স্বাস্থ্য খাতে অনেক বড় একটি কাজ সম্পন্ন হয়েছে । যার দ্বারা শুধু চাঁদপুর জেলাবাসীই নন, আশপাশের কয়েকটি জেলার মানুষও উপকৃত হবে।

সিভিল সার্জন আরো বলেন,বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে যারা প্রচন্ড- শ্বাসকষ্ট নিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে আসে, তাদের অনেকেই অক্সিজেনের অভাবে মারা যান। এ বিষয়টি আমাদের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী জানতে পেরে তিনি এবং তাঁর বড়ভাই সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্টের উদ্যোগ নেন। যেটির আজ শুভ উদ্ভোদন হলো। প্রথমে আইসোলেশন ওয়ার্ডে কোভিড এবং নন কোভিড রোগীদের মধ্যে ভাগ করে ৩০ টি বেডে এই অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। একই সাথে তৃতীয় তলায় দুটি কেবিনে পাঁচটি বেডেও এ ব্যবস্থা রাখা হবে। তাঁরা জানান, করোনা চলে গেলেও এই অক্সিজেন প্লান্ট সব সময়ের জন্যই কাজে লাগবে। এখানে আইসিইউ স্থাপন করা হলে তখনও এই অক্সিজেন প্লান্ট কাজে লাগবে।

শুভ উদ্বোধন শেষে ডাঃ জে আর ওয়াদুদ টিপু বলেন, করোনা আক্রান্ত ৮০% লোকই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যায় এবং এই ৮০% এর মধ্যে ৫০% লোকের কোন উপসর্গ থাকে না।তাদের শুধু হালকা গলা ব্যাথা,জ্বর- স্বর্দি বা ছোট খাটো সমস্যা থাকে। আর বাকী যে ৩০% রোগী তাদের মধ্যে ১০/১২ভাগ লোকের শ্বাসকষ্ট হয়।তাই আমরা যদি প্রথম দিকে যথেষ্ট পরিমাণ অক্সিজেন সাপ্লাই দিতে পারি তাহলে সে সকল রোগীদের আর ভেন্টিলেটরের প্রয়োজন পড়বে না।আর ভেন্টিলেটর স্হাপন যদিও খুব ব্যয়বহুল তবুও আমরা চেষ্টা করলে অর্থ যোগাড় করে এটি স্হাপন করতে পারতাম। কিন্তু এটি চালাতে প্রয়োজন অভিজ্ঞ ডাক্তার, সিস্টার এবং ওয়ার্ডবয় যা আমাদের সেই পর্যাপ্ত ম্যানপাওয়ার নেই।

পোষ্টটি প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করতে পারেন...

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!