কলকাতার সামনে ভেঙে পড়লো রাজস্থান

কলকাতার সামনে ভেঙে পড়লো রাজস্থান

স্পোর্টস ডেস্ক:

রাজস্থান রয়্যালসের (আরআর) ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ও মেন্টর শেন ওয়ার্ন কোয়ারেন্টিন পর্ব কাটিয়ে ডাগআউটে বসেই দলের হার দেখলেন। অথচ বুধবার ম্যাচ মাঠে গড়ানোর আগে সাক্ষাৎকারে অস্ট্রেলিয়ার স্পিন কিংবদন্তি বলেছিলেন, এবারের মৌসুমটা মনে হচ্ছে রাজস্থানের। তৃতীয় ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) কাছে তাদের প্রথম হার, অনেক পথ এখনও বাকি। আইপিএলের প্রথম চ্যাম্পিয়নরা আবারও চ্যাম্পিয়ন হতেই পারে, তবে এ ম্যাচের মতো খেললে হবে না। কেকেআরের ১৭৪ রান তাড়া করতে গিয়ে প্রতিদ্বিন্দ্বিতাই গড়তে পারলো না আরআর, হারলো ৩৭ রানে।

আরআর বা রাজস্থানের হারে কোনও দল আর অপরাজিত রইলো না। তিনটি করে ম্যাচ শেষে প্রত্যেকেরই কমপক্ষে একটি করে হার। দিল্লি, কলকাতা, রাজস্থান, ব্যাঙ্গালোর-চার দলের হাতে চারটি করে পয়েন্ট। নেট রান রেটে সবার ওপরে দিল্লি, দ্বিতীয় স্থানে কলকাতা। তারপর রাজস্থান, ব্যাঙ্গালোর চারে। বাকি চার দলেরই হাতে দুই পয়েন্ট করে, নেট রান রেটে সবচেয়ে পড়ায় সবার নিচে চেন্নাই।

দুই দলেই বড় বড় তারকা। কলকাতায় আছেন আইপিএলের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় (সাড়ে ১৫ কোটি রুপি) প্যাট কামিন্স। কিন্তু মাঝখান থেকে ম্যাচের সেরা হয়ে গেলেন ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে আসা পেসার শিভম মাভি। প্রথম চেঞ্জে বোলিং করতে এসেই মাভি ফিরিয়ে দিয়েছেন রাজস্থানের দুই বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান জস বাটলার ও এই টুর্নামেন্টের সেনসেশন সঞ্জু স্যামসনকে। স্যামসন এবার পারেননি। পঞ্চম ওভারে মাভির প্রথম শিকার ৯ বলে ৮ রান করা স্যামসন, সপ্তম ওভারে বাটলার। চার ওভারে মাভি দিয়েছেন ২০ রান। দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে স্বদেশি কামিন্সের বলে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন স্টিভ স্মিথ, রাজস্থানের রান তখন ১৫। সেটিকে ৩৯/৩ বানিয়ে মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছেন বলেই ম্যান অব দ্য ম্যাচ মাভি। কলকাতার পুরো বোলিং ইউনিটই এদিন ছিল দুর্দান্ত, যদিও পেসাররাই দিয়েছেন মূল ধাক্কা। দুটি করে উইকেট পেয়েছেন অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে আসা আরেক পেসার কমলেশ নগরকোটি এবং লেগস্পিনার বরুণ চক্রবর্তীও। ছয় বোলারের কেউই খালি হাতে ফেরেননি।

মাভির এমন বোলিংয়ের রহস্য কী? ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘আমি বোলিং শুরু করলে বল দু’দিকেই মুভ করতে থাকে। সুতরাং শুধু লেংথ ও লাইনটাই বজায় রেখেছি। প্রথমে ভেবেছিলাম উইকেটে কিছু নেই, কিন্তু বলে করতে এসে দেখি সিম করছে।’ রাজস্থানের তারকাখ্যাত টপঅর্ডারের বিপক্ষে অলআউট বোলিং আক্রমণে যাওয়াটাই কাজে লেগেছে কলকাতার।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে যাওয়া কলকাতার ব্যাটিং-সূচনাটা হয়েছিল দারুণ। ওপেনার সুনীল নারাইনকে হারিয়েই দশ ওভারের মধ্যে তুলে ফেলে ৮২ রান। মাত্র তিন রানের জন্য টানা দ্বিতীয় ফিফটি হয়নি শুভমান গিলের, তবে এই ওপেনারই কলকাতার দিশারী। জফরা আর্চারের দুর্দান্ত গতির কাটারে পরাস্ত হয়ে তাকেই ফিরতি ক্যাচ দেওয়ার আগে পাঁচটি চার ও একটি ছক্কা মেরেছেন গিল। কোনও ফিফটি নেই ইনিংসে, তবে মিলিত অবদানেই কলকাতা গেছে ১৭৪ রানের স্বস্তিদায়ক জায়গায়। শেষদিকে ইয়ন মরগানের ২৩ বলে ৩৪ রানের ইনিংসটি ছিল বিশেষ কিছু।

রান তাড়ায় ব্যাটিং ধসের কবলে পড়ে রাজস্থান, ১৪.৪ ওভারে ৮ উইকেটে পরিণত হয় ৮৮ রানে। ধসের সূচনা অধিনায়ক স্মিথের অদ্ভুত এক শট খেলতে যাওয়ার মাধ্যমে। জয়ের সম্ভাবনা একেবারেই উবে যাওয়ার পর নির্ভার টম কারেন একটি ফিফটি করে (৩৬ বলে ৫৪) কিছুটা মান বাঁচিয়েছেন দলের। আসলে কি বেঁচেছে? টি-টোয়েন্টিতে ৩৭ রানের হারা মানে গো-হারা।স জিতে ব্যাটিং না করে কী ভুলই যে করেছে রাজস্থান।দুবাই ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এর আগের পাঁচ ম্যাচেই জিতেছে প্রথমে ব্যাট করা দল। কলকাতার জয়ে সংখ্যাটা ছয়ে ছয়।

পোষ্টটি প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করতে পারেন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!