গোলাগুলির ঘটনার পর থমথমে মশিয়ালী গ্রাম

গোলাগুলির ঘটনার পর থমথমে মশিয়ালী গ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: খুলনায় আওয়ামী লীগ নেতার পরিবারের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় মোট ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন আরও ৭ জন। এরমধ্যে স্থানীয় জনগণের গণপিটুনিতে ১ জন নিহত হয়েছেন। ১৬ জুলাই, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে মহানগরীর খান জাহান আলী থানার মশিয়ালীর ইস্টার্ন গেটে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে নজরুল ও গোলাম রসুল নামে দুজন ঘটনাস্থলেই মারা যান।

খুলনার ফুলতলা উপজেলার খানজাহান আলী থানাধীন মশিয়ালী গ্রাম। এলাকার প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা শেখ জাকারিয়া ও তার ভাইদের ছোড়া গুলিতে প্রাণ হারানো হারানো গ্রামবাসীর পক্ষে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শেখ জাকারিয়া ও তার  ভাইদের তিনটি বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছেন সাথে সাথে অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুর করেছেন জাকারিয়াদের সব আত্মীয়ের বাড়ি। মশিয়ালী গ্রামে শুক্রবার গিয়ে দেখা যায়, পুরো গ্রাম থমথমে। মোতায়েন রয়েছে পুলিশ। নিহতদের বাড়িতে শোকের আহাজারি চলছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই এলাকায় থাকা জাকারিয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মুজিবর রহমান শেখ নামের একজনকে অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশ। এলাকাবাসীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে ‘নিরীহ’ মুজিবর রহমানকে ডেকে নিয়ে অস্ত্র দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছেন জাকারিয়া ভাইয়েরা। এ কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। পরে রাত আটটার দিকে এলাকাবাসী দল বেঁধে জাকারিয়াদের বাড়ি গেলে নির্বিচার গুলি ছোড়েন জাকারিয়া ও তাঁর ভাইয়েরা। পুলিশও বলছে, জাকারিয়া ভাইদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ ছিলেন এলাকাবাসী। বছর কয়েক আগে বাবা হাসান আলী দ্বিতীয় বিয়ে করায় বাবাকেও কুপিয়ে জখম করেছিলেন ছেলেরা।

শেখ জাকারিয়া খানজাহান আলী থানা আওয়ামী লীগের সহ–প্রচার সম্পাদক। হামলার পর তাঁকে ওই পদ থেকে বহিষ্কার করেছে থানা আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে ছোট ভাই জাফরিন খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশ আগে থেকেই ওই এলাকায় সুদের ব্যবসা করতেন জাকারিয়া, মিল্টন ও জাফরিন। টাকা দেওয়ার সময় সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হতো। সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারলে কেড়ে নেওয়া হতো দোকান, ঘরবাড়ি। রোজার সময় ওই এলাকায় বাবুল শেখ নামের একজন একটি দোকান দেন। ওই দোকানের জন্য তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করেন জাকারিয়া। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় লোকজন নিয়ে দোকান ভাঙচুর ও মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই ফুঁসে ছিলেন এলাকাবাসী।

ওই এলাকার মসজিদ ও মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ছিলেন শেখ জাকারিয়া। গত ৩০ জুন ওই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। বাবুলের দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করার অভিযোগে এলাকাবাসী এবার ওই কমিটি থেকে জাকারিয়াকে বাদ দিতে চাইছিলেন। আজ শুক্রবার পুরোনো কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করার কথা ছিল। এটা নিয়েও এলাকাবাসীর সঙ্গে জাকারিয়া ভাইদের বিরোধ চরম মাত্রায় পৌঁছায়। ওই বিরোধ থেকেই মুজিবর রহমানকে ডেকে নিয়ে হাতে অস্ত্র দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। রাত সাড়ে আটটার দিকে এরই প্রতিবাদ করতে গিয়ে জাকারিয়া ভাইদের হামলার শিকার হন তাঁরা।

খানজাহান আলী থানার ওসি জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিহতদের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

পোষ্টটি প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করতে পারেন...

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!