ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাটের আগুনে কাছে পাত্তাই পেল না কলকাতা

ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাটের আগুনে কাছে পাত্তাই পেল না কলকাতা

স্পোর্টস ডেস্ক:
শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়াম। টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। যারা এবারের আইপিএলের খোঁজখবর একটু হলেও রেখেছেন তাঁদের জানা এখানে ২০০ রান করেও স্বস্তিতে থাকতে পারে না দলগুলো। কিন্তু সেই ভেন্যুতেই আজ ১৯৪ রানের পুঁজি নিয়েও কী সহজেই না জিতে গেল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। রান তাড়া করতে নেমে বিরাট কোহলিদের প্রতিপক্ষ কলকাতা নাইট রাইডার্স থেমেছে ৯ উইকেটে ১১২ রান তুলে । ৮২ রানে জিতে সপ্তম ম্যাচে পঞ্চম জয় পেয়েছে বেঙ্গালুরু। সমান সাত ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস ও দিল্লি ক্যাপিটালসেরও বেঙ্গালুরুর মতো ১০ পয়েন্ট। তবে নেট রান রেটের হিসেবে সবার ওপরে মুম্বাই, এরপরই দিল্লি। বেঙ্গালুরু আছে তিনে। রান তাড়ায় চতুর্থ ওভারেই ২৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় কলকাতা। ১২ বলে ৮ রান করা ইংলিশ ব্যাটসম্যান টম ব্যান্টনকে বোল্ড করে দেন পেসার নবদীপ সাইনি। সেখান থেকেই দলের রানটাকে ৫১ রানে নিয়ে যায় শুবমান গিল ও নিতীশ রানার দ্বিতীয় উইকেট জুটি। রান তোলায় অবশ্য টি-টোয়েন্টির গতি ছিল না। ৯ রান করতে ১৪ বল খেলা রানা ওয়াশিংটন সুন্দরকে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড। ৪ রান পর অসম্ভব এক সিঙ্গেল নিতে গিয়ে রানআউট গিলও। ২৫ বলে ৩৪ রান করেছেন ভারতের হয়ে দুটি ওয়ানডে খেলা ব্যাটসম্যান।

এরপর দলকে ৬২ ও ৬৪ রানে রেখে ফেরেন কলকাতার দুই ব্যাটিং ভরসা দিনেশ কার্তিক ও এউইন মরগানও। অধিনায়ক কার্তিক ২ বলে ১ ও মরগান করেন ১২ বলে ৮ রান। মরগান যখন ফেরেন ৫ উইকেট হাতে নিয়ে ৫৩ বলে ১৩১ রানের সমীকরণ কলকাতার সামনে। ষষ্ঠ উইকেটে রাহুল ত্রিপাঠীকে নিয়ে ১৬ বলে ২১ রান তুলে একটু গতি বাড়াতে চেয়েছিলেন আন্দ্রে রাসেল। ১০ বলে ১৬ রান করা ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার ইসুরু উদানার বলে একস্ট্রা কাভারে ক্যাচ তুলতেই মূলত শেষ কলকাতার সব আশা।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া বেঙ্গালুরুর ইনিংসটা ২ উইকেটে ১৯৪ হয়েছে এবি ডি ভিলিয়ার্সের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে। অ্যারন ফিঞ্চের বিদায়ের পর ১৩তম ওভারে উইকেটে আসেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক। বেঙ্গালুরুর স্কোর তখন ২ উইকেটে ৯৪। শুরুতে অবশ্য শান্তই ছিল তাঁর ব্যাট।

১৬তম ওভারটি যখন শুরু হলো ২ উইকেটে ১১১ রান বেঙ্গালুরুর। উইকেটে থাকা কোহলির রান ২১ বলে ২০, ডি ভিলিয়ার্সের ৯ বলে ৮। শেষ পাঁচ ওভারে ডি ভিলিয়ার্স ঝড়ে ৮৩ রান তোলে বেঙ্গালুরু। এই রানের ৬৫-ই প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানের। ৩৩ বলে ৫ চার ও ৬ ছক্কা ডি ভিলিয়ার্স শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৭৩ রানে। অন্য পাশে দর্শক হয়ে থাকা বেঙ্গালুরু অধিনায়ক অপরাজিত ছিলেন ৩৩ রানে (২৮ বল)। কমলেশ নাগরকোটি, প্যাট কামিন্স ও আন্দ্রে রাসেলকে ২টি করে ছক্কা মেরেছেন ডি ভিলিয়ার্স। ডি ভিলিয়ার্স ঝড় ওঠার আগে কয়েক ওভারে বেঙ্গালুরুর ব্যাটিং দেখে মনে হয়নি টি-টোয়েন্টি চলছে। অ্যারন ফিঞ্চের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে ৬৭ রান তুলে দেবদূত পাড়িক্কালের (২৩ বলে ৩২ রান) বিদায়ের পর রান মন্থর হয়ে যা বেঙ্গালুরুর রান তোলার গতি।

উইকেটে বিরাট কোহলি ও অ্যারন ফিঞ্চ। অথচ নবম থেকে দ্বাদশ—টানা চার ওভার কোনো চার-ছক্কা নেই। নবম ওভার থেকে ১৫তম ওভার পর্যন্ত সাত ওভারে ৪২ রান তোলে বেঙ্গালুরু। ৩৭ বলে ৪৭ রান করে ফিঞ্চ আউট হয়েছেন এই সময়েই ।

আগামী বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরু পরের ম্যাচটি খেলবে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে। শুক্রবার কলকাতার ম্যাচ মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে।

বেঙ্গালুরু:  ২০ ওভারে ১৯৪/২(ডি ভিলিয়ার্স ৭৩*, ফিঞ্চ ৪৭, কোহলি ৩৩*, পাড়িক্কাল ৩২, কৃষ্ণ ১/৪২, রাসেল ১/৫১ ও

কলকাতা: ২০ ওভারে ১১২/৯ (গিল ৩৪, রাসেল ১৬, ত্রিপাঠি ১৬, মরিস ২/১৭, সুন্দর ২/২০)।

পোষ্টটি প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করতে পারেন...
  • 6
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!