দিল্লিকে পাত্তা দেয়নি মুম্বাই, রাজস্থানের তেওয়াতিয়া-রাজের কাছে হায়দরাবাদ হার

দিল্লিকে পাত্তা দেয়নি মুম্বাই, রাজস্থানের তেওয়াতিয়া-রাজের কাছে হায়দরাবাদ হার

স্পোর্টস ডেস্ক:

মুখোমুখি দুই অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক। লড়াইটা হঠাৎই একটু পথ হারিয়ে ফেলা দুই দলের নিজেদের ফিরে পাওয়ার। তাতে প্রায় অবিশ্বাস্যভাবে চার ম্যাচ পর জিতলো স্টিভেন স্মিথের রাজস্থান র‌য়্যালস। জেতালেন সেই রাহুল তেওয়াতিয়া, রেকর্ড রান তাড়া করে পাঞ্জাবের বিপক্ষে আগের জয়ের অন্যতম নায়ক ওদিকে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসকে সহজেই হারিয়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস উঠে গেছে শীর্ষে।

রবিবার আইপিএলে আবার ছিল ‘ডাবল হেডার’- দুই ম্যাচের দিন। এদিন রাজস্থানের লড়াইটাই রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে বেশি। অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচ জেতার একটা অভ্যাস গড়ে তুলছে রাজস্থান। আবারও রাহুল তেওয়াতিয়াই তাদের পাঁচ উইকেটে জেতালেন প্রায় অসম্ভব জায়গা থেকে। সর্বোচ্চ ৪৫ রান করে তেওয়াতিয়াই ম্যান অব দ্য ম্যাচ। জয়ের জন্য ১৫৯ রানের লক্ষ্যের দিকে ছুটে ১৬ ওভার শেষে রাজস্থান ছিল ১০৫/৫। চার ওভারে তুলতে হবে ৫৪ রান- দৃশ্যত অসম্ভব রাস্তাটুকু কী দারুণভাবেই না দলকে পার করে দিলেন তেওয়াতিয়া ও রিয়ান পরাগ। ৪৭ বলে ৮৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন তারা। অবশ্য ভাগ্যও তেওয়াতিয়ার পক্ষে ছিল। রশিদ খানের বল স্টাম্পে আঘাত করলেও বেল পড়েনি! শেষ তিন ওভারে ৩৬ রানের প্রয়োজনীয়তার মুহূর্তে রশিদের করা ১৮তম ওভারের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বলে চার মেরে ম্যাচের রংই বদলে দেন তেওয়াতিয়া। দুই বাঁহাতি পেসার খলিল ও নটরাজনের করা শেষ দুই ওভারের শেষ বলটি খেলতেই হয়নি। চারটি চার ও দুই ছয়ে ২৮ বল থেকে ৪৫ করে অপরাজিত থাকেন তেওয়াতিয়া, পরাগের অপরাজিত ৪২ রানের ইনিংসটি ২৬ বলে গড়া দুই চার ও দুই ছক্কায়। এ ম্যাচেই প্রথম খেলতে নামেন ইংল্যান্ড অলরাউন্ডার বেন স্টোকস। কিন্তু ওপেনিংয়ে নেমে ৬ বলে ৫ রান করে বোল্ড হয়েছেন খলিলের বলে। অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ (৫), বাটলার (১৬) বা সঞ্জু স্যামসনের (২৬) কেউ ভালো করতে পারেননি।

টসজয়ী হায়দরাবাদের হয়ে ওপেনার ও অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার ৩৮ বলে ৪৮ রান  ও মনীশ পান্ডে  ৪৪ বলে ৫৪ রান করেন। তবে পাওয়ার প্লেতে এ মৌসুমের সর্বনিম্ন ২৬ রান তুলেছে তারা।  কেন উইলিয়ামসন ও প্রিয়ম গার্গের ছোট্ট দুটি ‘ঝড়’ না থাকলে ১৫৮ রান হওয়াটাও কষ্টকর ছিল।

আবুধাবিতে তরুণ অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের দল দিল্লিকে পেশাদার পারফরম্যান্সে ৫ উইকেটে হারিয়েছে রোহিত শর্মার মুম্বাই। প্রথমে দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ১৬২ রানে দিল্লিকে আটকে ফেলেন বোল্ট-বুমরা-প্যাটিনসন-পান্ডিয়ারা। পরে কুইন্টন ডি কক ও সুরিয়াকুমার যাদবের দুটি ফিফটি দুই বল বাকি থাকতেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেয় মুম্বাইকে। ৩২ বলে ৬ ছার ও এক ছক্কায় ৫৩ রান করে রাবাদার শিকার সুরিয়াকুমার। অশ্বিনের অফস্পিনে ক্যাচ হওয়ার আগে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৬ বল থেকে ৫৩ রান করেছেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ ডি কক। দিল্লির মাত্র ৪টি উইকেট নিলেও মুম্বাইয়ের বোলাররা একটি মাত্র ছক্কা খেয়েছেন। সেই ছক্কাটি অপরাজিত ৬৯ রান করা ওপেনার শিখর ধাওয়ানের। তার ৫২ বলের ইনিংসে চার ছিল ৬টি।

সাতটি করে ম্যাচ শেষে সমান পাঁচ জয়ে দিল্লি ও মুম্বাইয়ের পয়েন্ট ১০ হলেও নেট রান রেটেই শীর্ষে মুম্বাই। পয়েন্ট তালিকার নিচের দিকের লড়াইয়ে সাতটি করে ম্যাচ শেষে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও রাজস্থানের পয়েন্টও সমান ৬। নেট রান রেট ব্যবধান গড়ে দেওয়ায় রাজস্থান আছে ছয়ে, হায়দরাবাদ পাঁচে।

হায়দরাবাদ: ২০ ওভারে ১৫৮/৪( পান্ডে ৫৪, ওয়ার্নার ৪৮, উইলিয়ামসন ২২*,আর্চার ১/২৫, ত্যাগী ১/২৯) ও রাজস্থান: ৯.৫ ওভারে ১৬৩/৫ (তেওয়াতিয়া ৪৫*, পরাগ ৪২*, স্যামসন ২৬, রশিদ ২/২৫, খলিল ২/৩৭)।

দিল্লি: ২০ ওভারে ১৬২/৪ (ধাওয়ান ৬৯*, আইয়ার ৪২, রাহানে ১৫, ক্রুনাল ২/২৬, বোল্ট ১/৩৬) ও মুম্বাই : ১৯.৪ ওভারে ১৬৬/৫(ডি কক ৫৩, সুরিয়াকুমার ৫৩, কিষাণ ২৮, রাবাদা ২/২৮, অক্ষর ১/২৪)।

পোষ্টটি প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করতে পারেন...
  • 1
    Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!