নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে মৃত ২৬, ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে মৃত ২৬, ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা এলাকার মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় মনির ফরাজি (৩০) নামের আরও এক ব্যক্তির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন পার্থ শংকর পাল বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাতে মনিরের মৃত্যু হয়। তার শরীর শতভাগ দগ্ধ ছিল। সঙ্গে শ্বাসনালী পুড়ে গেছে।  এখন চিকিৎসাধীন আছেন ১১ জন।

এদিকে, বায়তুস সালাত মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে বাংলাদেশ হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সচিব, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

আজ ০৭ সেপ্টেম্বর, সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মার ই-য়াম খন্দকার জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন।

রিটটি বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হবে। রিটের পক্ষে অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার শুনানি করবেন বলে জানিয়েছেন রিটকারী ব্যারিস্টার মার ই-য়াম খন্দকার।

গ্যাস সংযোগের ত্রুটি জানতে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে
মসজিদে বিস্ফোরণের পাঁচ দিনের মাথায় মসজিদের আশপাশে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ শুরু করেছে তিতাস গ্যাস কোম্পানি। তিতাসের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সিবিএ নেতার নেতৃত্বে আজ সোমবার সকালে মসজিদটির দরজার সামনে ও ডান পাশের গলিতে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ শুরু করা হয়।

এ বিষয়ে তিতাস কেন্দ্রীয় সিবিএর সভাপতি কাজিম উদ্দিন জানান, মসজিদে বিস্ফোরণের পর তিতাসের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আবদুল ওয়াহাবকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করা হয়। সেই কমিটির নেতৃত্বে গ্যাস সংযোগের কোথায় ত্রুটি বা লিকেজ আছে, তা বের করার জন্য এই খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলছে।

তিতাসের নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মফিজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি তদন্তকাজের অংশ। আমরা লাইনটা বের করার চেষ্টা করছি। লাইনটা বের করে আমরা দেখব, এর অবস্থানটা কোথায় এবং এখানে কোনো লিকেজ আছে কিনা, এটি আমরা আইডেন্টিফাই (চিহ্নিত) করব। অভিযোগ এসেছে যে, গ্যাস লিকেজ থেকে এ ঘটনা ঘটেছে। এখানে কোনো লিকেজ আছে কিনা, লিকেজ থেকে দুর্ঘটনার কোনো আশঙ্কা তৈরি হয়েছে কিনা, সেটাই আমরা আইডেন্টিফাই করব। এখানে তদন্ত কমিটি কাজ করবে।’

এর আগে বিস্ফোরণের ঘটনায় তিতাসের কোনো গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলী মো. আল মামুন। বিস্ফোরণস্থল পরিদর্শনে গিয়ে গত শনিবার সকালে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছিলেন মিঃ মামুন।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে গত শুক্রবার এশার নামাজের সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরই মধ্যে ২৬ জনের মরদেহই তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পোষ্টটি প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করতে পারেন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!