নিয়মিত মধু খাওয়ার বিশেষ উপকারিতা

নিয়মিত মধু খাওয়ার বিশেষ উপকারিতা

নিউজ ডেস্ক:
স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে মধুর গুণ অপরিসীম। মধু রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং শরীরের ভেতরে ও বাইরে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষমতাও জোগান দেয়। মধুতে রয়েছে ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধকারী উপাদান। ভাইরাসের আক্রমণে বিভিন্ন ধরনের রোগ দেহকে দুর্বল করে দিতে পারে। এসব ভাইরাস প্রতিরোধে মধু খুবই কার্যকরভাবে কাজ করে।

প্রাকৃতিকভাবেই মধু নানা গুণের অধিকারী। এর রয়েছে একাধিক রোগ নিরাময়ের ক্ষমতাও। আর শীতে শরীরের উষ্ণতা বাড়াতে বিশেষভাবে সহায়তা করে মধু। কেননা মধু ভালো শক্তি প্রদায়ী একটি খাদ্য। দেহে তাপ ও শক্তি জুগিয়ে উষ্ণতা বাড়ায় মধু। তাই মধু খেলে শীত আপনাকে কাবু করতে পারবে না।

মধুর অনেক গুনের মধ্যে আমরা আজ কিছু জেনে নিবোঃ-

১। ১ (এক) চামচ মধু প্রতিদিন ১ গ্লাস পানিতে মিশিয়ে পান করলে মধুতে থাকা ক্যালসিয়াম রক্তে প্রবেশ করে। ফলে রক্তে হিমোগ্লোবিনের ভারসাম্য বজায় থাকে। এভাবে মধু রক্তস্বল্পতাকে প্রতিরোধ করে।

২। প্রতিদিন মধু খাওয়া হলে দেহের ইমিউন সিস্টেমের ভালো উন্নতি হয়। দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে অনেক গুন।

৩। মধুতে প্রচুর পরিমাণ শর্করা থাকে যা হজমে সাহায্য করে থাকে। কারণ যে পরিমাণ ডেক্সট্রিন থাকে তা রক্তে প্রবেশ করে তাই দ্রুত কাজ করে।

৪। মধুতে রয়েছে অনেক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান, যেটা ক্ষত, পোড়া ও কাটা জায়গায় লাগালে দ্রুত ভালো হয়। কোথাও পুড়ে বা কেটে গেলে ক্ষত স্থানে মধুর পাতলা প্রলেপ দিয়ে দিন। অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যথা কমবে ও দ্রুত নিরাময় হবে। মধুতে আছে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান, যেটা ক্ষত পরিষ্কার করতে সাহায্য।

৫। ফুসফুসের রোগ ও শ্বাসকষ্ট নিরাময়ে মধু অনেক উপকারী। বলা হয়ে থাকে যে ফুসফুসের যাবতীয় রোগে মধু উপকারী। নিয়মিত মধু খেলে শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য বেশ ভালো হবে।

৬। মধু ওজন কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে ১ গ্লাস কুসুম গরম পানিতে ১ চামচ মধু মিশিয়ে পান করলে হজমশক্তি বাড়ে। ফলে খাবারের ক্যালোরি দ্রুত ক্ষয় হয়। যাদের খুসখুসে কাশির সমস্যা বেশি, তারা নিয়ম করে প্তিদিন ১ চামচ আদার রসের সঙ্গে ১ চামচ মধু মিশিয়ে খান। দ্রুত আরোগ্য হবেন।

৭। পাকস্থলীর সুস্থতায় মধু খুবই উপকারী। এটি পাকস্থলীর কাজকে জোরালো করে এবং হজমের গোলমাল দূর করে। এর ব্যবহার হাইড্রোক্লোরিক এসিড ক্ষরণ কমিয়ে দিয়ে অরুচি, বমিভাব এগুলো দূর করে।

৮। মধু রক্তের হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করে বলে এটি রক্তশূন্যতায় দূর করে। কারণ এতে থাকে কপার, লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ। মধুতে আছে ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ভোরে ১ চা চামচ খাঁটি মধু খেলে কোষ্ঠবদ্ধতাও কমে যায়।

৯। ত্বক যখন অতিরিক্ত ড্রাই হয়ে যায় তখন আপনি মুখে মধু লাগাতে পারেন। ১ (এক) চামচ মধু নিয়ে ত্বকে লাগিয়ে নিন। ১৮-২০ মিনিট মুখে রেখে হালকা গরম পানিতে মুখ ধুয়ে নিন। মধু আমাদের শরীরে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়া হিসেবে কাজ করে। এটা ত্বকের গভীরে গিয়ে ত্বক পরিষ্কার করে।

১০। চুলকে ময়েশ্চারাইজ করতে শ্যাম্পুর সঙ্গে মধু মিক্স করে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। চুলে লাগিয়ে কিছু সময় রেখে তারপর মিশ্রণটি দিয়ে চুল পরিষ্কার করতে হবে। এতে চুল আগের থেকে অনেক কোমল ও ঝলমলে হবে।

একটি গরম পানীয় মধু যোগ করুন।

গলা ব্যথা বা মধু দিয়ে কাশি সহজ করার সময়, এটি একটি গরম পানীয়তে যুক্ত করা ভাল। উষ্ণতা গলায় স্নিগ্ধ এবং এটি আপনাকে হাইড্রেটেড রাখে যা শ্লেষ্মা পাতলা রাখে। এক কাপ চা বা গরম জলে এক চা চামচ বা মধুর যোগ করে আপনি অস্বস্তি লাঘব করতে এবং একই সাথে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করতে পারেন।

আপনার মধু এবং গরম জলের মিশ্রণের স্বাদ আরও ভাল করতে, এক চা চামচ লেবুর রসও যোগ করুন। এটি পানীয়টির মিষ্টিতা সামঞ্জস্য করতে সহায়তা করবে।

খাটি মধুর অনেক কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যেমন- খাঁটি মধুতে কখনো কোন কটু গন্ধ থাকে না।মধু সংরক্ষণে কোনো প্রকার পৃজারভেটিভ জাতীয় উপাদান দরকার হয় না। যদি খাঁটি মধু পরীক্ষা করতে চান, তাহলে খাটি মধু পানির গ্লাসে ড্রপ আকারে ছেড়ে দিন। খাঁটি মধু হলে ড্রপ অবস্থায়ই গ্লাসের নিচে চলে যাবে।

লক্ষণগুলি শুরু হলে মধু গ্রহণ শুরু করুন।

যদি আপনার কাশি বা গলা ফুটে উঠছে যা অবিলম্বে শুরু হয় তবে তাড়াতাড়ি মধু খাওয়া শুরু করুন এবং যখনই সারা দিন আপনার প্রয়োজন হবে তা নিয়ে নিন। এটি আপনাকে গুরুতর লক্ষণগুলির অভিজ্ঞতা এড়াতে সহায়তা করবে কারণ এটি আপনার অসুস্থতার সময় আপনার জ্বালা সীমাবদ্ধ করবে।

লক্ষণগুলির সূত্রপাত থেকে মধু গ্রহণ আপনাকে এগুলি মোকাবেলায় সহায়তা করতে পারে তবে সর্বদা একসাথে এগুলি দূর করতে পারে না।

শোবার আগে মধু গ্রহণ।

মধু আপনার কাশি বা গলা ফোলাতে দিনরাত সাহায্য করতে পারে। বিছানার আগে মধুর সাথে একটি গরম পানীয় পান করা রাতের সময়ের কাশি দমন করতে সহায়তা করে।

একটি উষ্ণ কাপ চায়ে মধু যুক্ত করা আপনার লক্ষণগুলি সহজ করতে পারে এবং আপনাকে ঘুমাতে যাওয়ার মেজাজে পেতে সহায়তা করে।

তবে এমন একটি চাতে মধু যুক্ত করুন যা ঘুমকে উত্সাহ দেয়, যেমন ক্যামোমাইল বা অন্যান্য ক্যাফিন মুক্ত ভেষজ চা। একটি ক্যাফিনেটেড চা পান করার ফলে আপনাকে ঘুমাতে সমস্যা হতে পারে।

পোষ্টটি প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করতে পারেন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!