পঞ্চম জয় পাঞ্জাবের গেইল ঝড়ে কলকাতাকে উড়িয়ে চারে পাঞ্জাব

পঞ্চম জয় পাঞ্জাবের গেইল ঝড়ে কলকাতাকে উড়িয়ে চারে পাঞ্জাব

স্পোর্টস ডেস্ক:
সপ্তাহ দুয়েক আগেই মুখোমুখি হয়েছিল দল দুটি। ডাবল সুপার ওভারের যে ম্যাচটিকে আইপিএল ইতিহাসের সেরা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সেই কলকাতা নাইট রাইডার্স-কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব যখন ফিরতি লেগে মুখোমুখি, তখন দুবাইয়ের শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচটি সামনে আসতে বাধ্য। না, এবার আর রোমাঞ্চকর কোনও মুহূ্র্তের জন্ম হয়নি। আসলে ক্রিস গেইল তেমন কোনও সম্ভাবনা তৈরিই হতে দেননি। ক্যারিবিয়ান হার্ডহিটারের ঝড়ো ব্যাটে দুবাইয়ের ম্যাচের মতো শারজাতেও পাঞ্জাবের হাসি।

গেইল ২৯ বলে খেললেন ৫১ রানের ঝড়ো ইনিংস। অন্যদিকে ওপেনিংয়ে নেমে মানদীপ সিং ৫৬ বলে অপরাজিত থাকলেন ৬৬ রানে। তাতে কলকাতা নাইট রাইডার্সের ২০ ওভারে ৯ উইকেটে করা ১৪৯ রানের স্কোরটা মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে পেরিয়ে গেছে পাঞ্জাব। ৭ বল আগেই ৮ উইকেটে পাওয়া জয়ে লোকেশ রাহুলরা উঠে এসেছে পয়েন্ট টেবিলের চার নম্বরে। ১২ ম্যাচ শেষে পাঞ্জাবের পয়েন্ট ১২। সমান ম্যাচে কলকাতারও সমান পয়েন্ট, তবে নেট রানরেটে পিছিয়ে থাকায় ইয়োন মরগানরা পাঁচ নম্বরে।

১৫০ রানের লক্ষ্যে পাঞ্জাবের শুরুটা ছিল মন্থর। যদিও শক্ত ভিত পায় উদ্বোধনী জুটিতে ৪৭ রান আসায়। ফর্মের তুঙ্গে থাকা রাহুল ভালো শুরু করেও বেশিদূর যেতে পারেননি, ২৫ বলে ৪ বাউন্ডারিতে করে যান ২৮ রান। তার বিদায়ের পর গেইল ঝড়ে সহজ জয় নিশ্চিত করে পাঞ্জাব।

শুরুতে অবশ্য একটু দেখেশুনে খেলেছেন গেইল। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে হয়ে ওঠেন ভয়ঙ্কর। চার-ছক্কার বৃষ্টিতে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে দলের জয় থেকে ৩ রান দূরে থাকতে আউট হয়ে যান তিনি। ২৯ বলে ২ চার ও ৫ ছক্কায় সাজানো ৫১ রানের ইনিংসটির সৌজন্যে ম্যাচসেরা পুরস্কারও উঠেছে তারই হাতে।

ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছেন মানদীপ। ঠাণ্ডা মাথার ব্যাটিংয়ে ৫৬ বলে ৮ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ৬৬ রানে। আর জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারা নিকোলাস পুরান অপরাজিত থাকেন ২ রানে।
পাঞ্জাবের হারানো দুটি উইকেট নিয়েছেন লকি ফার্গুসন ও বরুন চক্রবর্তী।

এর আগে পাঞ্জাব অধিনায়ক রাহুলের টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ দেন তার বোলাররা। শুরুতেই এলোমেলো হয়ে পড়ে কলকাতার ব্যাটিং লাইন-আপ। মুখোমুখি প্রথম বলেই আউট নিতিশ রানা (০)। ওই ধাক্কা কাটিয়ে উঠবে কী, উল্টো ১০ রানে তাদের নেই ৩ উইকেট। বল হাতে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের এনে দেওয়া দারুণ শুরু কাজে লাগিয়ে পরপর্ দুই উইকেট তুলে নেন মোহাম্মদ সামি। এই পেসার প্যাভিলিয়নে ফেরান রাহুল ত্রিপাথি (৭) ও দিনেশ কার্তিককে (০)। দুজনই ধরা পড়েন ‍উইকেটকিপার রাহুলের গ্লাভসে।

কঠিন পরিস্থিতিতে অধিনায়ক মরগানের কাছে সময়োপযোগী একটা ইনিংসের দাবি ছিল কলকাতার। ইংল্যান্ডের সীমিত ওভারের অধিনায়ক প্রত্যাশা মিটিয়েছেন। ওপেনার শুবমান গিলকে সঙ্গী করে চতুর্থ উইকেটে যোগ করেন গুরুত্বপূর্ণ ৮১ রান। ২৫ বলে ৫ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় মরগানের বিদায়ের পর আবারও চাপে পড়ে কলকাতা।

ব্যর্থতায় খাতায় একে একে যোগ দেন সুনীল নারাইন (৬), কমলেশ নগরকোটি (৬) ও প্যাট কামিন্স (১)। এরপরও কলকাতার রান দেড়’শর কাছাকাছি যেতে পেরেছে গিল ও শেষ দিকে লকি ফার্গুসন ব্যাটে ঝড় তুললে। ওপেনিংয়ে নেমে গিল ৪৫ বলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় খেলে যান ৫৭ রানের কার্যকরী ইনিংস। আর ফাগুর্সন ১৩ বলে ৩ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ২৪ রানে।

কলকাতার টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দেওয়া সামি ৪ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে পেয়েছেন ৩ উইকেট। আর দুটি করে উইকেট নিয়েছেন ক্রিস জর্ডান ও রবি বিষ্ণু।

পোষ্টটি প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করতে পারেন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!