নতুন অর্থবছরের বাজেটে অপ্রদর্শিত আয়ের অর্থ ‘বিনা শর্তে’ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে দেয়ার সুযোগ চেয়েছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন-বিএমবিএ। প্রস্তাবিত বাজেটে কিছু পারিবর্তন চেয়ে রোববার একটি চিঠি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে পাঠিয়েছে মার্চেন্ট ব্যাংকারদের এ সংগঠনটি।
অ্যাসোসিয়েশনে সভাপতি সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে মোট ৫টি দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
প্রথম দাবিতে বলা হয়েছে কোনো শর্ত ছাড়া কালো টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার সুযোগ দেওয়া হোক।
দ্বিতীয় দাবিতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হার কমানোর দাবি জানিয়েছে বিএমবিএ।
এছাড়া বন্ড বাজার গড়ে তুলতে বন্ডের আয়ের ওপর কর হার কমানোর দাবি জানিয়েছে বিএমবিএ।
পাশাপাশি মার্চেন্ট ব্যাংকের কর হার ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ করার দাবি জানেয়ছে তারা।
শেষ দাবিতে সংগঠনটি পুঁজিবাজারে লেনদেনের ওপরে কর শূন্য দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক শূন্য ১৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০২০-২১ সালের প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়াতে ১০ শতাংশ কর দিয়ে ‘কালো টাকা সাদা’ করার সুযোগ দেওয়া কথা বলেছেন। তবে সাথে শর্ত দিয়েছেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করলে সেই টাকা ৩ বছরে পুঁজিবাজার থেকে বের করা যাবে না।
পুঁজিবাজার ছাড়াও ১০ শতাংশ কর দিয়ে ফ্ল্যাট কেনা, নগদজমা, ব্যাংকে জমা, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের মত ক্ষেত্রে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে বাজেটে, সেসব ক্ষেত্রে কোনো শর্ত দেওয়া হয়নি।
বিএমবিএ চিঠিতে বলেছে, “অপ্রদর্শিত আয় অন্য সকল পর্যায়ে নিয়মিতকরণে যেহেতু কোনো শর্ত নেই, তাই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের শর্তটি প্রত্যাহার প্রয়োজন, অন্যথায় পুঁজিবাজারের চেয়ে ব্যাংকে আমানত রাখা বা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করার বিষয়ে মানুষ আগ্রহী বেশি হবে এবং পুঁজিবাজার উপকৃত হবে না। “তাই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের শর্ত শিথিল করে বিনা শর্তে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া এবং নগদ, ব্যাংকজমা,সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ ইত্যাদি বাতিল করা হলে পুঁজিবাজারের গতিশীলতা বৃদ্ধিতে এ সুযোগ সহায়ক হবে এবং অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।”