প্রসঙ্গ কপিরাইট আইন ২০০০ (২য় পর্ব)

প্রসঙ্গ কপিরাইট আইন ২০০০ (২য় পর্ব)

স্টাডি রুম ডেস্ক : 

(১ম পর্বের পর …..)
যিনি কপিরাইট আইনের অধীনে অধিকার প্রয়োগ করবেন:
কপিরাইট আইন ২০০০ এর চতুর্থ অধ্যায়ের ১৭ ধারা মোতাবেক কোন কর্মের প্রণেতা ওই কর্মের কপিরাইটের প্রথম স্বত্বাধিকারী হবেন। তবে অত্র ধারায় থেকে (ক-জ) পর্যন্ত আটটি ক্ষেত্রে তা ব্যতিক্রম হবে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বা সরকারি কোন কর্মের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না ।এছাড়া অত্র আইনের 8 ধারা ভবিষ্যত কোন কর্মের ক্ষেত্রে কর্মটি অস্তিত্বশীল বা প্রকাশিত হবারপূর্ণ বা আংশিক মেয়াদের জন্য স্বত্ব নিয়োগ হবে ।এছাড়াও অত্র আইনের ৪৮ ধারার ব্যাখ্যা অনুসারে কোন ভবিষ্যৎ কর্মের কপিরাইটের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তিটি অস্থিতিশীল হবার পূর্বে মৃত্যুবরণ করলে তার আইনানুগ প্রতিনিধি লাইসেন্স ভিন্নরূপে কোন কিছু না থাকলে লাইসেন্স এর সুবিধা ভোগ করতে পারবেন তবে অত্র আইনের বিধান মোতাবেক কপিরাইট রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্তকরণ বাধ্যতামূলক নয় ।যদি উক্তরূপ রেজিষ্টার সকল আদালতের মূল দলিল বা মূলকপি উপস্থাপনে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে।

কপিরাইটের মেয়াদ :
অত্র আইনের ২৪ ধারার বিধান মোতাবেক কোন সঙ্গীত, সাহিত্য, নাট্য, শিল্পকর্মের কপিরাইট তার মৃত্যুর পরবর্তী বছর হতে ৬০ বছর পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে।২৭ ধারা বিধান মোতাবেক শব্দ রেকর্ডিং এর ক্ষেত্রে যে বছর রেকর্ডিং প্রকাশ করা হয়েছে উহার পরবর্তী বছর হইতে ৬০ বছর পর্যন্ত কপিরাইট বলবৎ থাকবে ।এছাড়াও ফটোগ্রাফের কপিরাইটের মেয়াদ (২৮নং ধারা) এবং কম্পিউটার সৃষ্ট কর্মের কপিরাইটের মেয়াদ (ধারা-২৮ ক) প্রথম প্রকাশের পরবর্তী বছর হইতে ৬০ বছর পর্যন্ত কপিরাইট বিদ্যমান থাকবে।অত্র আইনের ৩০ থেকে ৩২ ধারায় সরকারি কর্মের ক্ষেত্রে সরকার এবং আন্তর্জাতিক সংগঠনের কর্মের ক্ষেত্রে যে বছর কর্মটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছে তার পরবর্তী বছর শুরু হতে ৬০ বছর পর্যন্ত কপিরাইট অধিকার বিদ্যমান থাকবে।

কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য দেওয়ানী প্রতিকার:
কপিরাইট আইনের ৭১ ধারার বিধান মোতাবেক যদি কোন ব্যক্তি কোন কর্মের কপিরাইট অধিকার লঙ্ঘন করেন, যা অত্র আইন দ্বারা কপিরাইটের মালিককে দেওয়া হয়েছে তবে কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য অত্র আইনের ৭৬ ধারা মোতাবেক স্বত্বাধিকারী ভিন্নরূপ কোন বিধান না থাকা সাপেক্ষে নিষেধাজ্ঞা ক্ষতিপূরণ হিসাব ও অন্যান্য প্রতিকার এবং আইনে প্রদত্ত অন্যান্য প্রতিকার পাইবেন। অত্র আইনের বিধান মোতাবেক কপিরাইট লঙ্ঘন মামলা রুজু ও বিচার করার এখতিয়ার রয়েছে জেলা জজ আদালতের। এ ক্ষেত্রে মামলার স্থানীয় এখতিয়ার হবে অধিকার লঙ্ঘনকারী ব্যক্তিবর্গের অথবা ব্যক্তির অর্থাৎ বাদীর স্থানীয় অধিকার বা ব্যবসা পরিচালনা বা ব্যক্তিগত লাভের জন্য পরিচালিত ব্যাবসায়িক কর্মস্থল । কপিরাইট আইনের বিধান মোতাবেক এই আইনের অধীনে কোন অপরাধ সংঘটিত হলে ৯২ ধারার বিধান মোতাবেক সে অপরাধের বিচার একমাত্র দায়রা জজ আদালত করতে পারবেন এবং অপরাধের অধিক্ষেত্র হবে অত্র আইনের অধ্যায় ১১ এর অধীনে ধারা ৬২,৬৪ এবং ৬৫। অর্থাৎ এই সকল ধারার বিধান লংঘন করলে দায়রা আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে মূলত এই শাস্তি মূল প্রকাশকের জন্য প্রযোজ্য হবে। ৬৬ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার আছে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের ।

কপিরাইট অধিকার লঙ্গন জনিত অপরাধের শাস্তি :
কপিরাইট আইন ২০০০এর ৮২ ধারার বিধান মোতাবেক চলচ্চিত্র ছাড়া অন্য কোন কর্মের কপিরাইট যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ লংঘন করে তাহলে তিনি অনূন্য ৬ মাস এবং অনূর্ধ্ব ৪ বছরের কারাদণ্ড এবং অনূন্য ৫০ হাজার টাকা ও অনূর্ধ্ব ২ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। অতঃপর ৮৩ ধারার বিধান মোতাবেক ৮২ ধারার অধীনে দণ্ডিত হয়ে যদি উক্ত ব্যক্তি পুনরায় একই অপরাধ সংগঠন করে দ্বিতীয় পরবর্তী প্রত্যেক অপরাধের জন্য ছয় মাস হতে অনধিক তিন বছরের কারাদণ্ড এবং এক লক্ষ টাকা হতে অনধিক তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন ।এছাড়াও অধ্যায়ের ৮৪ থেকে ৯১ ধারা পর্যন্ত কপিরাইট আইন লঙ্ঘনের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা বর্ণনা করা হয়েছে।

আপিল পদ্ধতি:
কপিরাইট আইনের ৯৪ ধারার বিধান মোতাবেক ম্যাজিস্ট্রেটের কতিপয় আদেশের বিরুদ্ধে আদেশ প্রদানের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল যোগ্য আদালতে আপিল করতে হবে। যদি রেজিস্টার প্রদত্ত কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে হয় ৯৫ ধারার বিধান মোতাবেক,তিন মাসের মধ্যে বোর্ডের নিকট আপীল করতে পারবেন ।তবে শর্ত থাকে যে এ ধারার অধীনে বোর্ডের শুনানী গ্রহণকালে রেজিষ্ট্রার ,বোর্ডের সদস্য হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারবে না। অত্র আইনের ৯৫ ধারার বিধান মোতাবেক বোর্ডের আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি তিন মাসের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারবেন তবে এক্ষেত্রে ধারা-৬ এর আওতাধীন প্রণীত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল চলবেনা। বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত অর্থ প্রদানের আদেশ কার্যকর করা হবে।

আপীলের তামাদি গণনা :
কপিরাইট আইন ২০০০ এর ৯৮ ধারায় সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আপীলের পদ্ধতি (৯৬ ধারানুসারে) এবং ৯৭ ধারায় আপীলের ক্ষেত্রে তামাদি গণনার বিধান গণনা করা হয়েছে। যে আদেশ বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপীল করা হবে তার সার্টিফাইড কপি বা ক্ষেত্রমত সিদ্ধান্ত রেকর্ড প্রদানের জন্য গৃহীত সময় বাদ দিতে হবে।

উপসংহার :
১৭ টি অধ্যায়ে বিভক্ত ১০৫ টি ধারায় বেষ্টিত ২০০০ সালের কপিরাইট আইন গ্রন্থস্বত্ব কপি করার অধিকার বা কর্মের উপর প্রণেতার একচ্ছত্র অধিকার সৃষ্টি করে। যদিও আইনটি নানাপ্রকার আইনগত সুরক্ষা প্রদান করে তবুও এটি সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। অত্র আইনের ১০১ ধারার বিধান মোতাবেক এই আইনের উদ্দেশ্য সাধনে সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজ বা অন্য কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না যার ফলে অনেক সময় প্রকৃত অপরাধী আইনের চোখে ফাঁকি দিতে পারে।যা আইনের দৃষ্টিতে কাম্য নয় তবে মেধাভিত্তিক কর্মগুলোকে সুরক্ষা প্রদানের জন্য কপিরাইট আইন ২০০০ অনেকাংশে কার্যকর একটি আইন।

১ম পর্বের লিঙ্কঃ প্রসঙ্গ কপিরাইট আইন ২০০০ (১ম পর্ব) 

লেখকঃ আরফান সুলতানা প্রিয়াশ্রী, আইনজীবী।

পোষ্টটি প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করতে পারেন...
  • 35
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!