ফয়’স লেক পাহাড়ে রেলওয়ের গাছ চুরি

ফয়’স লেক পাহাড়ে রেলওয়ের গাছ চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

চট্টগ্রামের ফয়’স লেক লাগোয়া পাহাড়ের গাছ কেটে সাবাড় করার অভিযোগ উঠেছে ইজারাদার প্রতিষ্ঠান কনকর্ডের বিরুদ্ধে। ইজারা নেওয়া জমির অধিকাংশই পাহাড়ি অঞ্চল। রেলওয়ের মালিকানাধীন পাহাড়ে রয়েছে অসংখ্য গাছপালা। অভিযোগ রয়েছে, কনকর্ডের কতিপয় ব্যক্তি এবং নিরাপত্তা কর্মীদের ম্যানেজ করে প্রায় প্রতি রাতে সেই গাছ কাটছে সংঘবদ্ধ একটি চক্র। পরে সেগুলো বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে।

নগরীর আকবরশাহ এবং খুলশী থানা এলাকায় ফয়’স লেকের কনকর্ড অ্যামিউজমেন্ট ওয়ার্ল্ডের অবস্থান। বিনোদন কেন্দ্রটিকে ঘিরে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান যেমন রয়েছে, তেমনি সেখানকার পাহাড়গুলোর আশপাশে গাছ পাচারকারীর সদস্যরা অবৈধভাবে বসবাস করে। এই সুযোগে প্রতি রাতে গাছ কেটে সাবাড় করছে তারা। কাটার পর সেগুলো বিভিন্ন স্থানে স্তূপ করে রাখে। পরে থানা পুলিশ এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে সেগুলো বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। বেশ কয়েকটি রাস্তা দিয়ে বের হয় এসব গাছ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সীবিচ ছায়া নীড় আফতাব ঘোনা এলাকার এক বাসিন্দা জানান, তাদের এলাকার হাসেম ওরফে চাপাতি হাসেম, ইকবাল, ইয়াসিন, নুর হোসেন এবং বাবুর্চি হোসেন কাঠ পাচারকারীদের মধ্যে অন্যতম। শনিবার পুলিশের হাতে জব্দ হওয়া পিকআপ ভর্তি সেগুন কাঠগুলো আয়েশা নামে এক নারীর বলে দাবি করা হয়। তবে রহস্যজনক কারণে পুলিশ ওই নারীকেও আটক করেনি।

জানা যায়, আয়েশা চাপাতি হাসেমের মেয়ে। ইকবাল ও ইয়াসিন তার (আয়েশার) ভাই। এ ছাড়া ওই নারী পুলিশের সোর্স হিসাবে পরিচিত। এ কারণে থানার সঙ্গে তার সখ্য রয়েছে। তবে আয়েশা এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘কনকর্ড এবং থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে পাহাড় থেকে গাছ কাটা হয়। আটক হওয়া গাছগুলো আমার বাসার ফার্নিচার বানানোর জন্য ভাইদের মাধ্যমে কেটেছি।

আকবরশাহ থানাধীন বেলতলী ঘোনা, নাছিয়া ঘোনা, কনকর্ডের সী-ওয়ার্ল্ড সংলগ্ন ঝিল এলাকায় থাকে গাছ পাচারকারীরা। এ ছাড়া খুলশী থানার জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটি সংলগ্ন আফতাব ঘোনা ও রং পাহাড়ের আশপাশেও থাকে তারা। শনিবার পিকআপ ভর্তি সেগুন কাঠ উদ্ধারের পর স্থানীয় বাসিন্দারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটির সড়ক দিয়ে সেগুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে সংঘবদ্ধ একটি চক্র। গাছ কাটার সঙ্গে কনকর্ড এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জড়িত থাকায় সবাই নীরব ভূমিকা পালন করে। কেউ তথ্য দিলেও ঘটনাস্থলে যায় না পুলিশ। ফলে দিন দিন বৃক্ষ শূন্য হয়ে পড়ছে এসব পাহাড়।

এ প্রসঙ্গে খুলশী থানার ওসি সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন সেগুন কাঠভর্তি পিকআপ জব্দের ঘটনায় মামলা না হলেও জিডি হয়েছে। এই বিষয়ে তদন্ত চলছে।’ সূত্র জানায়, ২০০৫ সাল থেকে ফয়’স লেকের ৩৩৬ দশমিক ৬২ একর জমি ব্যবহার করছে কনকর্ড। এজন্য রেলওয়ে ও বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে কনকর্ডের ত্রি-পক্ষীয় চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু এখন পর্যন্ত নানা ধরনের চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে চুক্তির একাধিক শর্ত ভঙ্গ এবং ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ব্যয় জটিলতায় ২০১৭ সালে ইজারা বাতিল করে রেলওয়ে। পরে চুক্তি বাতিলের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যায় কনকর্ড। প্রায় চার বছর পর শর্তসাপেক্ষে উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কনকর্ড অ্যামিউজমেন্ট ওয়ার্ল্ডের জিএম এনামুল করিম যুগান্তরকে বলেন, ‘গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা আগের চেয়ে কমে এসেছে। এগুলোকে প্রতিরোধ করার জন্য ২২ জন আনসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখছে। এর সঙ্গে কনকর্ডের কেউ জড়িত নয়।

পোষ্টটি প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করতে পারেন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!