বইয়ের দাম বাড়বে উচ্চ মাধ্যমিকের

বইয়ের দাম বাড়বে উচ্চ মাধ্যমিকের

সব পাঠ্যবইয়ের দাম বাড়ছে এবার উচ্চ মাধ্যমিকের। কাগজ সংকট এবং কালি, প্লেটসহ মুদ্রণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকারি-বেসরকারি উভয়পর্যায়ের বইয়ের দাম বাড়ানো হচ্ছে।

৭ মাসের সেশনজট মাথায় নিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হচ্ছে। এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাশ করেছে ১৭ লাখ ৪৩ হাজার ৬১৯ জন। গত মাসে তাদের প্রথম ধাপে আবেদন নেওয়া হয়। এই ধাপে ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৪৬ জন আবেদন করেছিল। যদিও তাদের মধ্যে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়েছে ১২ লাখ ৭৮ হাজার ১১৪ জন।

দ্বিতীয় ধাপে কাল ও পরশু আবেদন নেওয়া হবে। আর তৃতীয় ধাপের আবেদন ১৬ জানুয়ারি নেওয়া হবে। সাধারণত প্রতিবছর গড়ে ১৪ লাখ শিক্ষার্থী এই স্তরে ভর্তি হয়। সেই হিসাবে অন্তত ১৪ লাখ শিক্ষার্থী বই কিনবে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম বলেন, উচ্চমাধ্যমিকের বই তৈরিতে ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ১৮ জানুয়ারির মধ্যে দরপত্র চূড়ান্ত করা হবে। এরপর মুদ্রণের কার্যাদেশ দেওয়া হবে। ১ ফেব্রুয়ারি ক্লাস শুরুর আগেই বই বাজারে দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, এ বছর কাগজের দাম বেড়ে যাওয়ায় একাদশের বইয়ের দাম কিছুটা বাড়ানোর দাবি এসেছে। বাস্তবতা বিবেচনায় প্রকাশকরা ৫০ শতাংশ বাড়ানো দাবি করেছেন। তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আর বেসরকারি বইয়ের দামও এনসিটিবির বইয়ের মতো একই হারে বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন তিনি।

উচ্চ মাধ্যমিকের সব বই শিক্ষার্থীদের কিনে পড়তে হয়। এরমধ্যে বাংলা, বাংলা উপন্যাস, বাংলা নাটক, ইংরেজি ও আইসিটি এই ৫টি বইয়ের স্বত্ব এনসিটিবির। সংস্থাটি প্রতিবছর দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রেতা বা পরিবেশক নিয়োগ করে। বেসরকারি প্রকাশকরা এসব বই বাজারজাত করে থাকে।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা একাদশ শ্রেণির এসব বইয়ের দাম এখন পর্যন্ত ১৫ শতাংশ বাড়ানোর চিন্তা আছে। তারা এ ব্যাপারে প্রতিযোগিতা কমিশনের কাছ থেকে মতামত নেবেন। এরপরই দাম নির্ধারণ করবেন।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপুস) সহসভাপতি শ্যামল পাল যুগান্তরকে বলেন, এই মুহূর্তে বাজারে প্রত্যেক মুদ্রণসামগ্রীর সংকট আছে। বিশেষ করে কাগজের সংকট বেশি। আগে যেই নিউজপ্রিন্টের দাম ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা প্রতিটন ছিল এখন তা ১ লাখের উপরে।

অন্যদিকে এই স্তরে ৩৮টি পাঠ্যবই আছে। সেই হিসাবে বাকি ৩৩টি বই বাংলাবাজারকেন্দ্রিক প্রকাশকরা রচনা করে পাণ্ডুলিপি এনসিটিবি থেকে অনুমোদন নেন। শিক্ষাক্রম অনুযায়ী সংস্থাটি ওইসব বইয়ের অনুমোদন ও মূল্য নির্ধারণ করে দেয়।

এরপর প্রকাশকরা তা প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে বাজারজাত করেন। যদিও অভিযোগ আছে, এনসিটিবি যে বই অনুমোদন দেয় বা প্রকাশকরা যে পাণ্ডুলিপি অনুমোদন নেন তা বাজারজাত করেন না। কেননা, ওই বইয়ের আকার ছোট হয়। তাই একটি বই দেখিয়ে অনুমোদন নিয়ে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান অন্য বই বাজারে ছাড়েন। কিন্তু ওই ভিন্ন বইয়ের দাম প্রকাশকরা ইচ্ছামতো নির্ধারণ করেন। ফলে বইয়ের দামে সরকারের আর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এই প্রক্রিয়ায় পকেট কাটা পড়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। এমন বাস্তবতায় বইয়ের দাম ২৭ শতাংশ বাড়ানো হলে তা কোথায় গিয়ে ঠেকে সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।

কালিসহ অন্যান্য সামগ্রীর দামও প্রায় শতভাগ বেড়েছে। তাই বইয়ের দাম সমান্তরালে ৫০ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো দরকার। কিন্তু এত দাম একবারে বাড়ালে অভিভাবকরা তা কিনতে পারবেন না। বিপরীত দিকে ওই অবস্থায় বিক্রিও কমে যেতে পারে। তাই সবকিছু চিন্তা করে তারা ২৭ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সমিতির এ সিদ্ধান্ত সব প্রকাশনা সংস্থা বাস্তবায়ন করবে।

পোষ্টটি প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করতে পারেন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!