বন্ধুকে ধর্ষণের পর হত্যা: দিহানের জামিন বাতিল

বন্ধুকে ধর্ষণের পর হত্যা: দিহানের জামিন বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রাজধানীর কলাবাগানে ইংরেজি মাধ্যম পড়ুয়া স্কুলছাত্রীকে (১৭) ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় তার বন্ধু ফারদিন ইফতেখার ওরফে দিহানের জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সাথে মামলাটির বিচার দ্রুত শেষ করতে বলেছেন আদালত।

আজ (১১ জানুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার কাজলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ বিষয়ে তার আপিল নিষ্পত্তি করে রায় দেন। আদালতে আজ আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী কাজী ফেরদাউসুল হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুজিত চ্যাটার্জি।এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুজিত চ্যাটার্জি জানান, বিচারিক আদালত দিহানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন দিহান। আজ আপিল নিষ্পত্তি করে তার জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলাটির বিচার দ্রুত শেষ করতে বলেছেন আদালত।

২০২০ সালের নভেম্বর মাসে ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ওই স্কুলছাত্রীর সঙ্গে পরিচয় হয় দিহানের। এরপর তাদের মধ্যে মেসেঞ্জারে নিয়মিত কথা হতো। পরিচয়ের এক মাসের মাথায় ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি দিহান মেসেঞ্জারে ওই স্কুলছাত্রীকে তার বাসায় যেতে প্ররোচিত করেন। ২০২১ সালের ৭ জানুয়ারি গৃহকর্মী বাসা থেকে চলে যাওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে ফোন দিয়ে ওই স্কুলছাত্রীকে বাসার বাইরে আসতে বলেন দিহান। এরপর ওই স্কুলছাত্রী তার বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাকে নিজেদের বাসায় নিয়ে যান দিহান।

পরে দিহান তার বাড়ি থেকে ওই স্কুলছাত্রীকে ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে তার আগেই ওই স্কুলছাত্রী মারা যান। পরদিন দিহানকে আসামি করে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা। এরপর দিহানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ জানিয়েছিলেন, মেয়েটির শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া না গেলেও যৌনাঙ্গ ও পায়ুপথে ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। বিকৃত যৌনাচারের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।

 

পোষ্টটি প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করতে পারেন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!