ভারতফেরত যাত্রীদের বাধ্যতামুলক কোয়ারেন্টাইন

ভারতফেরত যাত্রীদের বাধ্যতামুলক কোয়ারেন্টাইন

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বিশেষ অনুমতি নিয়ে ভারত থেকে অনেকে দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার (৬ মে) পর্যন্ত ভারত হতে দেশে ফেরা সকল বাংলাদেশিকে ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, খুলনা ও নড়াইল জেলার টিচার্স ট্রেনিং সেন্টার ও পি টি আই কেন্দ্রে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করা হয়েছে।

ভারত ফেরত এসব বাংলাদেশী নাগরিকদের পুলিশি পাহারায় ভিন্ন ভিন্ন জেলার কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসকল সেন্টারে যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগত এসকল নাগরিকদের বাড়ি চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, খুলনা, ফরিদপুর, রংপুর, বগুড়া, নেত্রকোনা, কুমিল্লা ও রাজশাহী জেলায়।



বুধবার (৫ মে) বেনাপোল স্থলবন্দরে ভারত হতে আগত তিন শতাধিক যাত্রীদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে তাদের কয়েকজনের সাথে “অর্থ আদালত’র” কথা হয়। তারা তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এই বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন বিষয়ে, ফাহিম পাঠান নামে একজন আগত যাত্রী বলেন- বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে আমাদেরকে জিম্মি করে পাসপোর্ট রেখে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেনটাইনে পাঠাচ্ছে খুলনায়। ৪ বার করোনা টেস্ট করলাম প্রায় ৬ হাজার টাকার উপর খরচ করে। এখন নিজের টাকায় থাকতে হবে ১৪ দিন। হোটেল বিল খাওয়া সহ ১৪ দিনে খরচ হবে ১৪ হাজার টাকার বেশি। রোগী ও এডেন্ডেন্ট মিলে সবারই প্রায় ৩০ হাজারে বেশি খরচ হবে।

ইন্ডিয়া থেকে ফেরত এসে আজ এখনে সকল লোক প্রায় শূন্য হাতে। উনাদের উপর জুলুম না করে সরকারি খরচে রাখা যেতো, খাবার দেয়া যেতো, সরকারি স্কুল, কলেজ, ভার্সিটিতে জায়গা দেয়া যেতো। মার্কেট খোলা, সব খোলা হাজার হাজার টাকার টেস্ট করে এখন নিজ খরচে কোয়ারেনটাইনে। অনেক বয়স্ক লোক কান্নাকাটি করেছে, লাভ হয়নি। এই দেশে রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশ ফেরত রোগীদের কোয়ারেনটাইনে রাখার ব্যবস্থা নাই। থাকবে কি করে দেশের যত টাকা আছে সব পিকে হলাদার, দরবেশ বাবারা খেয়ে ফেলে। অথচ বিশ্ববাসী জানে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ !



আমি ভেলর থেকে চিকিৎসা করিয়ে আসলাম, সেখানে (তামিলনাড়ুতে) করোনার সময় সকল হোটেলের ভাড়া মওকুফ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ তিনবেলা খাবার এসে যায় বাড়িতে। কি আর বলব, একটা ঝামেলায় পড়ে গেলাম। হোম কোয়ারেনটাইনে ও দিতে পারত। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল কিন্তু আমাদের দায়ীত্বশীল ব্যক্তিরা প্রচন্ড দায়ীত্বজ্ঞানহীন!

ঈদ না হয় এই বছর  করলাম না কিন্তু এভাবে শত শত মানুষকে বিপদে ফেলতে পারেন না। সবাই সকল আত্মীয়, স্বজন রেখে ঈদের আনন্দ বাদ দিয়ে দূরে থাকবে, সকলকে অনিরাপদ রাখবে। বারবার করোনা টেস্ট করার পর যখন দেশে আসার অনুমতি দেয়া হয় তখন আবার হাজার হাজার টাকা বোঝা চাপিয়ে দেয়া আসলেই খুবই অন্যায়। সকল মানুষ অভিশাপ দিচ্ছে।

যদিও কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে পৌঁছে ফাহিম পাঠান তার ফেসবুক স্টাটাসে সন্তুষ্টির জানিয়ে পোস্ট করেছেন- “ফাইনালি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ খুলনায়, কোয়ারেনটাইনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। খাওয়া-দাওয়া নিজেদের খরচে। থাকার পরিবেশ, পুলিশ প্রটোকল ও বিহেভিয়ার সবই ভাল। সবমিলে প্রশংসনীয়। বাসায় যেতে না পারার কারনে খারাপ লাগছে। সবার জন্য যেভাবে ভাল হোক সেটাই ভালো।”

পোষ্টটি প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করতে পারেন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!