যমজ সন্তানের যত্ন

যমজ সন্তানের যত্ন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

প্রতি ৯০টি গর্ভধারণে একটি যমজ, প্রতি আট হাজার গর্ভধারণে একসঙ্গে তিন সন্তান এবং প্রতি সাত লাখ গর্ভধারণে একসঙ্গে চার সন্তানের ভূমিষ্ঠ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বর্তমানে একসঙ্গে তিন বা তারও বেশি সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গর্ভধারণে ওষুধ ও প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বেশি বয়সে মায়ের গর্ভধারণ এর প্রধান কারণ। এর ফলে বর্তমানে একসঙ্গে একাধিক সন্তান প্রসবের হার প্রায় প্রতি ৬৪ জনে একজন।

ঝুঁকি: যমজ সন্তানদের প্রায় ৬০ শতাংশের জন্ম সময়ের আগেই (প্রিটার্ম ডেলিভারি) হয়। তাদের ১১ শতাংশের জন্ম হয় ৩২ সপ্তাহের আগে। এতে এসব সন্তানের মৃত্যুঝুঁকি বেশি, বিশেষত একসঙ্গে তিন বা ততোধিক সন্তানের প্রসবের ক্ষেত্রে। মাতৃজরায়ুতে গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশ ব্যাহত (আইইউজিআর) হতে পারে। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর এসব শিশুর জন্য নিয়মিতভাবে বৃদ্ধি ও বিকাশের মনিটরিং চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। দৈহিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ত্রুটিবিচ্যুতির হার এক সন্তান প্রসবের তুলনায় একাধিক প্রসব হওয়া সন্তানদের চার থেকে আট শতাংশ বেশি। মাতৃজরায়ুতে থাকা যমজ সন্তানদের মধ্যে এক সন্তান থেকে অন্য সন্তানে রক্ত প্রবাহিত হওয়ার (টুইন-টুইন ট্রান্সফিউশন সিনড্রোম) ঝুঁকি প্রায় ১০-১৫ শতাংশ।

এতে যমজ সন্তানের একটি, যার থেকে রক্ত চলে যায় (ডোনার) তার রক্তস্বল্পতা, কম রক্তচাপ প্রভৃতি উপসর্গ দেখা যায়। অন্যদিকে যে সন্তান রক্ত গ্রহণ করে (রিসিপিয়েন্ট), তার অত্যধিক রক্তের মাত্রা ও হার্ট ফেইলিওর দেখা দিতে পারে। একাধিক সন্তান প্রসবের সময় সন্তানের অবস্থান (পজিশন) সঠিক না থাকার কারণে কখনও কখনও প্রসবে জটিলতা দেখা দেয়। জোড়া লেগে থাকা (কনজয়েন্ড টুইনস) একাধিক সন্তানের একটার সঙ্গে অন্যটার ত্বক বা নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জোড়া লেগে থাকার বিপত্তি ঘটতে পারে। তবে এর হার খুবই কম, প্রতি এক লাখ গর্ভধারণে একটা।

বিশেষ যত্ন: আত্মবিশ্বাসী মা যমজদের পূর্ণ ছয় মাস পর্যন্ত বুকের দুধ পান করাতে পারেন। এ ক্ষেত্রে মায়ের পুষ্টির দিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। ক্যাঙারু মাদার কেয়ার (মায়ের বুকে শিশুকে এমনভাবে শুইয়ে রাখা হয়, যেন দুজনের ত্বকে ত্বক লেগে থাকে) পদ্ধতিতে সন্তানদের শরীরের তাপমাত্রার সুরক্ষা দিতে হবে। নবজাতকের জন্য নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের (এনআইসিইউ) ব্যবস্থাপনা যথাযথ হতে হবে। নবজাতকের বৃদ্ধি ও বিকাশের দিকে (গ্রোথ মনিটরিং) বিশেষ নজর দিতে হবে, বিশেষত জন্মের প্রথম বছর। দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তির বিশেষ পরীক্ষা করতে হবে। সময়মতো ও নিয়মিত টিকা দিতে হবে।

পোষ্টটি প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করতে পারেন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!