শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হলে কী হয়?

শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হলে কী হয়?

নিউজ ডেস্ক:
অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের মতোই ক্যালসিয়াম মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হলে দেখা দিতে পারে মারাত্মক সব রোগ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শেহজাদা সেলিম জানাচ্ছেন এ বিষয়ে।

ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত রোগ

রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা কম থাকলে হাইপোক্যালসেমিয়া হয়। সাধারণত ক্যালসিয়ামের ঘাটতি রোগ হিসেবেই এটি পরিচিত। দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতির কারণে দাঁতের সমস্যা, ছানি, মস্তিষ্কের জটিলতা দেখা দিতে পারে। হতে পারে অস্টিওপোরোসিস, যার ফলে হাড় ভঙ্গুর হয়ে যায়। হাড় ক্ষয় হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগতে হয় সিংহভাগ মানুষকেই। আমাদের দেশের ভৌগলিক অবস্থান, আবহওয়া, অপরিমিত খাদ্যাভ্যাস, পুষ্টি নিশ্চিতকরণে অজ্ঞতার কারণেই মূলত ৪০ এর পর থেকেই দেখা দেয় সমস্যাগুলো।

সাধারণত ২৪-২৫ বছর বয়স পর্যন্ত হাড়ের ঘনত্ব বাড়তে পারে। Bonedensity বা হাড়ের ঘনত্বের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং বিকাশ ঘটাতে ক্যালসিয়াম এবং ফসফেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় নূন্যতম ৫০০-৬০০ গ্রাম ক্যালসিয়াম সরবরাহ থাকতে হবে। এছাড়া ভিটামিন ডি এর স্বল্পতা, হাইপোপ্যারাথাইরয়েডিজম, ম্যাগনেসিয়ামের উচ্চ এবং স্বল্প মাত্রা, কেমোথেরাপি রোগীর ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম ঘাটতি তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা দিতে পারে।

আপনি নিশ্চয়ই জেনে আশ্চর্য হবেন না যে শরীরের ৯৯ শতাংশ ক্যালসিয়াম থাকে হাড়ে এবং কিছু থাকে দাঁতে। এ ছাড়া কিছু সফট টিস্যু এবং ফ্লুইডের মধ্যে পাওয়া যায়। তাই হাড় মজবুতভাবে গঠনে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার প্রয়োজন।

শরীরে কতটুকু ক্যালসিয়াম প্রয়োজন?

বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন ৭০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম খাওয়া প্রয়োজন। তবে গর্ভাবস্থায় এবং যেসব মায়েরা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান তাঁদের বেলায় এটি আরো বেশি প্রয়োজন। তবে এর পাশাপাশি ভিটামিন ডি-ও খেতে হবে। কেননা এটি শরীরে ক্যালসিয়ামকে শোষণ করতে সাহায্য করে।

ভিটামিন ডি পাওয়া যায় সূর্যের আলো থেকে এবং দুগ্ধ জাতীয় খাবার থেকে আসে ক্যালসিয়াম। এ ছাড়া সবুজ শাকসবজি, বাদাম, টফু, কমলা ইত্যাদিতে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।

ক্যালসিয়ামের অভাবে শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ হতে পারে। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে ক্যালসিয়ামের অভাবে শরীরে কী হয়।

১. ক্যালসিয়ামের অভাবে রিকেট রোগ হয়। এই রোগে হাড় নরম এবং দুর্বল হয়ে পড়ে। এ ছাড়া ভিটামিন ডিয়ের অভাব দীর্ঘস্থায়ী হাড়ের ক্ষতি করে দিতে পারে। রিকেট রোগ আগে একটি বড় ধরনের সমস্যা ছিল। তবে বর্তমানে এ সমস্যা অনেক কমেছে।

২. ক্যালসিয়ামের অভাবে হাড় ফ্র্যাকচার হয়। যারা ক্যালসিয়ামের অভাবে ভোগে তারা একপর্যায়ে হাড় ফ্র্যাকচারের সমস্যায় পড়তে পারে।মেয়েদের মনোপোজের (দীর্ঘস্থায়ী ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া) পর এই সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই বয়ঃসন্ধিকালে অবশ্যই ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

৩. ক্যালসিয়ামের অভাবে প্রবীণ বয়সে অস্টিয়োপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়ের রোগ হয়। গবেষণায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় তিন মিলিয়ন লোক এই সমস্যায় ভোগে। এ ছাড়া পারিবারিক ইতিহাস থাকলেও এই রোগ হতে পারে। ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডিয়ের অভাব, মদ্যপান ও ধূমপানের কারণেও এই সমস্যা হতে পারে। এই রোগ প্রতিকারে চিকিৎসকরা সাধারণত ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট দিয়ে থাকেন।

৪. এ ছাড়া বেশির ভাগ ক্যালসিয়াম কাজে লাগে হাড়ের গঠন এবং শক্তি বর্ধনে। যদি খাদ্য তালিকায় ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার না থাকে তাহলে এই হাড়ের গঠন দুর্বল হয় এবং শক্তি কম থাকে।

৫. ক্যালসিয়ামের অভাবে হাইপোক্যালসিয়মিয়া হয়ে পেশির টিট্যানি রোগ হয়। এ ছাড়া মুখে লাল অথবা গোলাপি রঙের র‍্যাশ হতে পারে। তাই এসব সমস্যা সমাধানে খাদ্য তালিকায় অবশ্যই ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে।

ক্যালসিয়াম পাবেন যেসব খাবারে:

দুগ্ধজাত পণ্য যেমন দুধ, পনির এবং দই, ফর্টিফায়েড খাদ্যশস্য, সামুদ্রিক মাছ, মটরশুঁটি, ডুমুর, ব্রকলি, সয়াদুধ, পালং শাক আমন্ড,আখরোট, বিভিন্ন প্রকার বাদাম এবং তিলের বীজে পাওয়া যায় ক্যালসিয়াম।

পোষ্টটি প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করতে পারেন...
  • 7
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!