শৃঙ্খলা ফিরেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

শৃঙ্খলা ফিরেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রাস্তা দখল করে বসেছে মুখরোচক বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকান। ফেরিওয়ালারা ঘুরছেন ছোলা-বুট-বাদাম নিয়ে। চা-শিঙাড়ার দোকানগুলো ঘিরে ক্রেতার জটলা। আছে ভাসমান লোকও। গত কয়েকদিন আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র এলাকার (টিএসসি) প্রতিদিনের চিত্র ছিল এটি। তবে গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ভাসমান দোকান বসতে দিচ্ছে না প্রশাসন। এতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরেছে প্রতিষ্ঠানটিতে। এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

তবে এখনও রাস্তায় তীব্র যানজট, প্রকট হর্নের আওয়াজ। আছে মানুষের ভিড়। মাঝেমধ্যেই চলে নানা উৎসব আর উচ্চ আওয়াজে কনসার্ট। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার জন্য এ পরিবেশ মোটেই সুখকর নয়।

টিএসসির পাশেই ছাত্রীদের দুটি হল। হলের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, উচ্চ আওয়াজের কারণে তাঁদের পড়ায় বিঘ্ন ঘটে। গভীর রাত পর্যন্ত কনসার্টের কারণে তাঁরা পড়তে এবং ঘুমাতে পারেন না। কর্তৃপক্ষকে বারবার বলেও এর কোনো সুরাহা হচ্ছিল না। সভা, উৎসব আয়োজন, কনসার্ট ও গাড়ির হর্নের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের কোনো নীতিমালা নেই।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবাধ চলাচলের সুযোগ থাকায় বিনোদন কেন্দ্রের মতো জড়ো হন মানুষ। আবার টিএসসির আশপাশে ছাউনিগুলো ভবঘুরে এবং অপ্রকৃতিস্থ মানুষের আশ্রয়স্থল। তাদের হাতে বিভিন্ন সময়ে হেনস্তা ও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটছে না।

ক্যাম্পাসের সার্বিক দায়িত্বে রয়েছে এস্টেট অফিস এবং প্রক্টরিয়াল অফিস। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলো সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে। অবাধ যান চলাচলের সুযোগ থাকায় বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা। ঘটছে ছিনতাইসহ নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।

আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের সামনের যাত্রী ছাউনি, সলিমুল্লাহ হলের সামনে এবং সুফিয়া কামাল হলসংলগ্ন ফুট ওভারব্রিজ, বকশীবাজারের রাস্তা, দোয়েল চত্বর ও শহীদ মিনার এলাকায় ভাসমান নেশাগ্রস্ত মানুষের অবাধ চলাচল এবং বসবাস। শামসুন নাহার হলের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রহিমা বেগম বলেন, ভাসমান লোকজন ও মাদকাসক্তদের কারণে চলাচলে সবসময় অনিরাপদ বোধ করি। সূর্য সেন হলের শিক্ষার্থী আজিজুল হক বলেন, ‘ক্যাম্পাসে টোকাই, ফুল বিক্রেতা এবং ভিক্ষুকের সংখ্যাও কম নয়।’

এসব বিষয়ে সমাধান জানতে চাইলে লেখক শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কখনোই দুর্গের মতো ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয় কখনও জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়নি। ঢাকার বড় দুই-তিনটি রাস্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে গেছে। সেগুলো মাটির নিচে টানেল দিয়ে অথবা ফ্লাইওভার দিয়ে নিতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিরাপদ করা যাবে। তবে এটি করতে অর্থ এবং সদিচ্ছার প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক্যাম্পাস পুলিশ’ গড়ে তোলা প্রয়োজন। তাঁরা শিক্ষিত, প্রশিক্ষিত, সাবেক শিক্ষার্থী হবেন। যাঁরা পুলিশের প্রশিক্ষণ পাবেন, বন্দুক ও বাঁশি তাঁদের থাকবে না। তাঁদের ক্যাম্পাসের প্রতি মায়া থাকবে। তাহলে সবাই তাঁদের সহজে মেনে নেবেন। এ ছাড়া ক্যাম্পাসের ভেতরের রাস্তাগুলোতে আলাদা লেন করা যায়।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে কোনো বিষয়ে সহায়তা চাইলে তাঁরা দিতে প্রস্তুত।’

প্রক্টর ড. একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘অবৈধ ভাসমান দোকান বসতে না দেওয়ার এ অবস্থা বজায় রাখতে হবে। শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্ন করে এমন কিছু যেন বসতে না পারে সেজন্য কাজ করছেন তাঁরা।’
ভিসি প্রফেসর মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘চারদিকে খোলা একটি জায়গা, নানা ধরনের মানুষ আসে। তবে আমাদের প্রক্টরিয়াল টিম এবং সহকারী প্রক্টররা সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

Loading

পোষ্টটি প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করতে পারেন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!