সব নাগরিকের জন্য পেনশন বিল সংসদে পাস

সব নাগরিকের জন্য পেনশন বিল সংসদে পাস

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সরকারি চাকরিজীবীরা ছাড়া দেশের সব প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিককে পেনশন সুবিধার আওতায় নিয়ে আসতে জাতীয় সংসদে ‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা বিল-২০২৩’ পাস হয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আলাদা গেজেট জারি করে তাদেরও এ সুবিধার আওতায় আনতে বিলে সুযোগ রাখা হয়েছে।

গতকাল সংসদের বৈঠকে এ বিল উত্থাপণ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। পরে এটি সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এদিকে এর আগে এ বিলের ওপর আনা জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাব নিষ্পত্তি করা হয়।

অপরদিকে এ বিলের কিছু অসঙ্গতি তুলে ধরে বিরোধী দলীয় সদস্যরা এর সমালোচনা করেন। তাদের দাবি, এটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। তবে তাদের সংশোধণের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

এ বিলে বলা হয়, জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে সর্বজনীন পেনশনের আওতায় ১৮ বছর থেকে ৫০ বছর বয়সী দেশের সব নাগরিক স্কিমের আওতায় থাকতে পারবেন। মাসিক পেনশন-সুবিধা পেতে হলে এ ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর চাঁদাদাতাকে নিয়মিত অন্তত ১০ বছর চাঁদা দিতে হবে। এরপর তিনি যে বয়সে উপনীত হবেন, সে বয়স থেকে আজীবন পেনশন সুবিধা পাবেন। দেশের বাইরে কর্মরত বাংলাদেশিরও ব্যবস্থাপনায় অংশ নিতে পারবেন।

এদিকে এই চাঁদার পরিমাণ কত হচ্ছে, সেটি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। আইন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ হার নির্ধারণ করবে। মাসিক বা ত্রৈমাসিকভাবে চাঁদা দেওয়া যাবে। এছাড়া অগ্রিম ও কিস্তিতেও চাঁদা দেওয়ার সুযোগ থাকছে।

পাস হওয়া বিলে বলা হয়, চাঁদাদাতার বয়স ৬০ বছর পূর্তিতে পেনশন তহবিলে পুঁঞ্জিভূত মুনাফাসহ জমার বিপরীতে পেনশন প্রদান করা হবে। একজন পেনশনার আজীবন এ সুবিধা পাবেন। তবে সরকার গেজেট জারি করে এটি বাধ্যতামূলক না করা পর্যন্ত এই পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ হবে ঐচ্ছিক।

বিলে আরও বলা হয়, পেনশনে থাকাকালীন কোনো ব্যক্তি ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মারা গেলে তার নমিনিকে বাকি সময়ের জন্য মাসিক পেনশন প্রাপ্য হবেন। এছাড়া চাঁদাদাতা কমপক্ষে ১০ বছর চাঁদা দেওয়ার আগে মারা গেলে তার জমাকৃত অর্থ মুনাফাসহ তার নমিনিকে ফেরত দেওয়া হবে।

এতে আরও বলা হয়, নিম্ন আয়সীমার নিচের নাগরিক কিংবা অসচ্ছল চাঁদাদাতার ক্ষেত্রে পেনশন তহবিলে মাসিক চাঁদার একটি অংশ সরকার অনুদান হিসেবে দিতে পারবে। নির্ধারিত এক বা একাধিক তপসিলি ব্যাংক জাতীয় পেনশন তহবিলের ব্যাংকার হিসেবে কাজ করবে।

এ বিলে একটি জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ গঠনের বিধান রয়েছে। এই কর্তৃপক্ষের একজন নির্বাহী চেয়ারম্যান ও চারজন সদস্য থাকবেন। তাদের নিয়োগ দেবে সরকার। এছাড়া বিলে ১৬ সদস্যের একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠনের বিধান রয়েছে। এর চেয়ারম্যান হবেন অর্থমন্ত্রী। এছাড়া এর সদস্য হবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, এনবিআর চেয়ারম্যান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি, এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি, উইমেন চেম্বাস অব কমার্সের সভাপতি। পরিচালনা পর্ষদের সদস্যসচিব হবেন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান।

পোষ্টটি প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করতে পারেন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!