সুপার হিরো’ ফার্গুসন, সুপার ওভারে কলকাতার জয়

সুপার হিরো’ ফার্গুসন, সুপার ওভারে কলকাতার জয়

স্পোর্ট ডেস্ক:
আইপিএলে এর আগে কখনও সুপারওভারে গিয়ে জিততে পারেনি কলকাতা নাইট রাইডার্স। রবিবার সুপারওভারের গেরোটা কাটিয়ে প্রথম জিতলো তারা। আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে এই জয়ে তাদের প্লে-অফে খেলার সম্ভাবনাটা উজ্জ্বল হলো আরেকটু।

জয়ের নায়ক কিউই ফাস্ট বোলার লকি ফার্গুসন। এর আগে ২০১৭ ও ২০১৯ আইপিএলে ৪ ও ৫টি করে ম্যাচ খেলে ৩ ও ২টি উইকেট নিয়েছিলেন। এবার এসেই তার ধুন্ধুমার কাণ্ড! চার ওভারে ১৫ রান দিয়ে ২০ ওভারের ম্যাচে নিয়েছেন ৩ উইকেট। তার বোলিংই হায়দরাবাদকে কলকাতার ১৬৩ রান টপকাতে দেয়নি। আর সুপার ওভার তো ফার্গুসন ‘সুপার-হিরো’। ওয়ার্নার ও আবদুল সামাদকে দুই ইয়র্কারে বোল্ড করে হায়দরাবাদকে ২ রানের বেশি করতে দেননি। কলকাতা মাত্র ৩ রানের লক্ষ্য পায়। রশিদ খানের করা ওভারে ইয়ন মরগানের একটি সিঙ্গেল আর দিনেশ কার্তিকের পাওয়া দুই লেগ বাই থেকে ৪ বলেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলেছে কলকাতা। লকি ফার্গুসন এলেন, দেখলেন আর জয় করলেন!

ম্যাচ সুপারে গেলে সব আলো এসে পড়ে ওই ছয়টি বলের ওপর। মূল ২০ ওভারের খেলাটা একটু আড়ালেই পড়ে যায়। তবে তাতেও নাটকীয়তা ছিল বলেই ‘টাই-ব্রেকারে’ নিষ্পত্তি হয়েছে ম্যাচের!

টস জিতে ডেডিড ওয়ার্নার ব্যাটিং দেন কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। ভালো সূচনায়  পাওয়ার-প্লেতে তুলে ফেলেছিল ১ উইকেটে ৪৮ । কিন্তু মাঝখানের ওভারগুলোতে কলকাতার রানের চাকা তেমন গড়ায়নি। ১৪ ওভার শেষে ৯৬/৩, শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটে ১৬৩ রানে গেছে ইয়ন মরগান ও দিনেশ কার্তিকের ব্যাটিংয়ে। মরগান ২৩ বলে ৩ চার ও এক ছক্কায় ৩৪ করে আউট। কার্তিক ১৪ বলে ২৯ করে অপরাজিত ২টি করে চার ও ছক্কা মেরে।

এদের চেয়েও ভালো শুরু করে এই রানটা তাড়া করতে পারেনি হায়দরাবাদ। পাওয়ার-প্লেতে দুই ওপেনার কেন উইলিয়ামসন (১৯ বলে ২৯) ও জনি বেয়ারস্টো তুলে ফেলেছিলেন ৫৮ রান। ফার্গুসন বোলিংয়ে আসতেই সব এলোমেলো। উইলিয়ামসনকে ক্যাচ বানিয়ে, প্রিয়ম গার্গকে বোল্ড করেন ফার্গুসন। স্কোরবোর্ডে আর কোনও রান যোগ না হতেই বেয়ারস্টো (২৮ বলে ৩৮) শিকার বরুণ চক্রবর্তীর লেগস্পিনে। মনীশ পান্ডেও ইয়র্কড ফার্গুসনের বলে। রান রেটের চাপ বাড়লেও ওয়ার্নার ছিলেন বলে হায়দরাবাদ জয়ের দিকেই পা ফেলছিল। শেষ তিন ওভারে দরকার ৩৭ রান, ১৮তম ওভারে ৭ রান দেন ফার্গুসন। শেষ দুই ওভারে দরকার পড়ে ৩০ রান, ১৯তম ওভারে শিভম মাভিকে দুই চার মেরে শেষ বলে দুর্দান্ত রিলে ক্যাচে আউট সামাদ। এর পেছনেও ফার্গুসন, ডিপ মিডউইকেট বাউন্ডারি থেকে হাওয়ায় ভেসে সামাদের উড়িয়ে মারা বল পাঠান মাঠের মধ্যে, ক্যাচ নেন শুভমান গিল। ওই ওভারে আসে ১২।

শেষ ছয় বলে ১৮ রান ওয়ার্নার ও রশিদ খানের পক্ষে তুলে ফেলা সম্ভব বলে মনে করান আন্দ্রে রাসেল ওয়াইডে শুরু করে। বৈধ প্রথম বলে সিঙ্গেল নেন রশিদ, স্ট্রাইক পান ওয়ার্নার। পর পর তিন চার মারেন। শেষ বলে একটি ডাবলস হলেই হয়। কিন্তু ‘হাফ ফিট’ রাসেলের মিডল স্টাম্প বরাবর গুড লেংথ বলটিকে ফ্লিক করতে গিয়ে একটি লেগ-বাই আনেন ওয়ার্নার। ৩৩ বলে ৪৮ রানে অপরাজিত হায়দরাবাদ অধিনায়ক দেখেন ম্যাচ গড়িয়েছে সুপার ওভারে। যেখানে তাদের কপাল পুড়িয়েছেন ফার্গুসন!
নয় রাউন্ডের খেলা শেষে পাঁচ জয়ে ১০ পয়েন্ট কলকাতার, রইলো চতুর্থস্থানেই। হায়দরাবাদ পাঁচে, কিন্তু ব্যবধান ৪ পয়েন্টের। ওদিকে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে ডাবল সুপার ওভারে মুম্বাইকে হারিয়ে দিয়ে তাদের শীর্ষে উঠতে দেয়নি কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব।

কলকাতা: ২০ ওভারে ১৬৩/৫ (গিল ৩৬, মরগান ৩৪, কার্তিক ২৯*, রানা ২৯, নটরাজন ২/৪০, শঙ্কর ১/২০) ও
হায়দরাবাদ: ২০ ওভারে ১৬৩/৬ (ওয়ার্নার ৪৭*, বেয়ারস্টো ৩৬, উইলিয়ামস ২৯, সামাদ ২৩, ফার্গুসন ৩/১৫, কামিন্স ১/২৮)।

ফল: কলকাতা জয়ী সুপার ওভারে।

পোষ্টটি প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করতে পারেন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!