হৃদরোগে বছরে পৌনে ৩ লাখ মানুষ বাংলাদেশে মারা যায়

হৃদরোগে বছরে পৌনে ৩ লাখ মানুষ বাংলাদেশে মারা যায়

নিউজ ডেস্ক : 
আজ ২৯ সেপ্টেম্বর,‘বিশ্ব হৃদপিন্ড দিবস’ ওয়ার্ল্ড হার্ট ডে। হৃদরোগ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী এ দিবসটি পালিত হচ্ছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘হৃদয় দিয়ে হৃদরোগ প্রতিরোধ।’

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে,কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ বা হৃদরোগ পৃথিবীব্যাপী মানব মৃত্যুর একক কারণ হিসেবে শীর্ষে অবস্থান করছে। তবে,শুধু উচ্চমাত্রায় ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের ফলেই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় ২১ শতাংশ এবং হৃদরোগজনিত মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধি পায়  ২৮ শতাংশ । ট্রান্সফ্যাটের প্রধান উৎস পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল (পিএইচও) যা বাংলাদেশে ডালডা বা বনস্পতি ঘি নামে পরিচিত।

বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় পৌনে তিন লাখ মানুষ হৃদরোগজনিত অসুস্থতায় মারা যায়। আর কেবলমাত্র ট্রান্সফ্যাটজনিত হৃদরোগে মৃত্যু সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ।

সম্প্রতি ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউট এর গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের বাজারে  প্রচলিত বিভিন্ন ব্রান্ডের  প্রতি ১০০ গ্রাম পিএইচও নমুনায় সর্বোচ্চ ২০.৯ গ্রাম পর্যন্ত ট্রান্স ফ্যাট এর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা ডব্লিউএইচও’র সুপারিশকৃত মাত্রার তুলনায় ১০ গুণেরও বেশি। আর উচ্চমাত্রায় ট্রান্সফ্যাট (ট্রান্স ফ্যাটি এসিড) গ্রহণ হার্ট অ্যাটাকসহ হৃদরোগজনিত মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

এ প্রসঙ্গে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল  রেজা চৌধুরী বলেছেন, খাবারে ট্রান্স ফ্যাটের পরিমাণ বৃদ্ধি হলে  সেখান থেকে লো ডেনসিটি লাইফো প্রেটিন ( এল ডি এল) হৃদযন্ত্রের রক্ত নালিতে চর্বির আস্তরণ সৃষ্টি করে এবং তাতে  রক্তনালি সরু হয়ে রক্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয়। এর ফলে হৃদরোগের আক্রমণ ও মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমান বলেন, ট্রান্সফ্যাট ক্ষতিকর চর্বিজাতীয় খাবার। এটি রক্তের ‘ভালো’ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় ও ‘খারাপ’ কোলেস্টরেলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। রক্তে অতিরিক্ত মাত্রার খারাপ কোলেস্টেরল হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। একজন মানুষ খাবারে যত বেশি ট্রান্সফ্যাট গ্রহণ করবেন,তার হার্ট ও রক্তনালি রোগের ঝুঁকিও তত বাড়বে।

গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের চারটি শীর্ষ ব্র্যান্ডের ডালডাতে, সর্বোচ্চ ট্রান্সফ্যাটের উপস্থিতি প্রায় ২১ গ্রাম। আর গড়ে প্রতি ১০০ গ্রাম ডালডায় মিলেছে ১১ গ্রাম। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, ১০০ গ্রাম ডালডায় ট্রন্সফ্যাট থাকার কথা মাত্র ২ গ্রাম।

খাদ্যে ট্রান্সফ্যাট ব্যবহার  বিষয়ে বাংলাদেশে  সুনির্দিষ্ট কোনো নীতি না থাকায় ক্ষতিকর হওয়া সত্বেও খাদ্যমান নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষে দেশে ডালডা জাতীয় পণ্যের অনুমোদন বন্ধ রাখা সম্ভব হচ্ছে  না। তবে, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আশার খবর দিয়ে বলছে, খাদ্যে ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন তারা।

পোষ্টটি প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করতে পারেন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!