এমবিবিএস’এর জেলা কোটা বাতিল, পরিবর্তন মুক্তিযোদ্ধা কোটায়
- আপডেটঃ ১১:৩২:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩
- / ৯৪৭ বার পঠিত
২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় জেলা কোটা বাতিল করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নির্ধারিত সময়ে আসন পূরণ করা না গেলে সেসব আসনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি থাকা দ্বিতীয়বার ভর্তিচ্ছুদের ১০ নম্বর কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৪ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় জেলা কোটা বাতিল করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নির্ধারিত সময়ে আসন পূরণ করা না গেলে সেসব আসনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পাবেন। ২৪ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষাসংক্রান্ত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান বলেন, ২৪ ডিসেম্বরের সভায় সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দিতে চাইলে ১০ নম্বর কাটা যাবে। এ শিক্ষাবর্ষে জেলা কোটাও থাকছে না। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় শিক্ষার্থী না পাওয়া গেলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সেসব আসনে ভর্তির সুযোগ পাবেন।
দ্বিতীয়বার ভর্তিচ্ছুদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকেই মেডিকেলে ভর্তি থেকেও দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেয়। পরবর্তীতে ভালো কোথাও ভর্তির সুযোগ পেলে তাঁর পূর্বের আসনটি নষ্ট হয়ে যায়। এতে সরকারের অর্থ অপচয় হয়। আমরা এবার এ বিষয়ে কঠোরতার জন্য সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি থাকা দ্বিতীয়বার ভর্তিচ্ছুদের ১৫ নম্বর কাটার পরামর্শ দিয়েছিলাম। পরে সবার পরার্শক্রমে ১০ নম্বর কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় নিরুৎসাহিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
তবে সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি নেই এমন দ্বিতীয়বার ভর্তিচ্ছুদের জন্য পূর্বের মতো ৫ নম্বর কাটা যাবে বলেও জানান অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মো. জামাল।
জানা গেছে, মেডিকেলের মোট আসনের ২০ শতাংশ আসন বরাদ্দ থাকে জেলা কোটায় আবেদন করা শিক্ষার্থীদের জন্য। এই কোটা সবার জন্যই প্রযোজ্য। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে জেলা কোটায় প্রায় ৭৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। গড়ে প্রতিটি জেলা থেকে প্রায় ১২ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তবে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে এই সুযোগ পাচ্ছেন না শিক্ষার্থীরা।
২৪ ডিসেম্বর সভা শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষায় ন্যূনতম নম্বর (পাস নম্বর) গতবারের মতো এবারও ৪০ রাখা হয়েছে। মাইগ্রেশনের সময় আমরা তিনবার দিচ্ছি। বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তির জন্য সব কলেজকে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা সব কলেজে চয়েজ একবারে দিতে পারবেন, সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতেও একই নিয়ম বহাল।’
পরীক্ষা অনুষ্ঠানের সময় উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা ২০২৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি এবং ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষা ৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে দুই পরীক্ষা।
তিনি আরও বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে মেডিকেল পরীক্ষার বিষয়ে কারো কোনো অভিযোগ ছিল না। প্রশ্নফাঁস নিয়ন্ত্রণে সবকিছু ডিজিটাল ও অত্যাধুনিক করা হয়েছে। একজন প্রশ্নকারী একটি প্রশ্নই করেন, অন্যরা তা জানতে পারেন না। যে পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র পাঠানো হয় এবং খোলা হয়, তা ডিজিটাল পদ্ধতিতে। যে কারণে যে কেউ প্রশ্ন খুলতেও পারবে না। এমনকি নেয়ার পথেও যদি কেউ খোলার চেষ্টা করে, তাহলে ডিজি অফিসে লালবাতি জ্বলে ওঠে। এমনকি পরীক্ষার সময় কোচিং সেন্টারগুলোও বন্ধ থাকে।’
আবেদন শুরু ৪ জানুয়ারিঃ
ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের সময় উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ বছর এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার জন্য বিদেশি শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন আগামী ৪ জানুয়ারি থেকেই। দেশি শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন ১০ জানুয়ারি থেকে। ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা আবেদনের সুযোগ পাবেন। ভর্তির জন্য ফি জমা নেওয়া হবে ২৪ জানুয়ারি থেকে। রোল বা আসন বরাদ্দ করা হবে ২৬ জানুয়ারি থেকে। পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরণ করা হবে ৫ জানুয়ারি।










