ঢাকা , বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় রোগী ভর্তির রেকর্ড

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটঃ ০৪:০১:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ নভেম্বর ২০২৪
  • / ৮৮৪ বার পঠিত

দেশে ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। এডিস মশাবাহিত রোগটিতে মৃত্যুর পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৩৭০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে মারা গেছেন ৬ জন। এ বছর এখন পর্যন্ত একদিনে ভর্তি হওয়া সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগীর সংখ্যা এটি। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৩২৬ জনের এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৭ হাজার ১৩৮ জন।

 

গতকাল মঙ্গলবার (০৫ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্য থেকে এসব জানা যায়।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১২২, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪৪, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৬৮, ঢাকা উত্তর সিটিতে ২৫৯, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ২৪৮, খুলনা বিভাগে ১৩৫, রাজশাহী বিভাগে ২৮, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৯ এবং রংপুর বিভাগে ২৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

 

এদিকে একদিনে সারা দেশে ১ হাজার ৩০৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬২ হাজার ৬১০ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সবমিলিয়ে ৬৭ হাজার ১৩৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৩২৬ জনের।

 

চলতি বছরে আক্রান্তদের মধ্যে ৬৩ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৬ দশমিক ৮ শতাংশ নারী। এছাড়া এখন পর্যন্ত মৃত ৩২৬ জনের মধ্যে ৫১ দশমিক ৫ শতাংশ নারী এবং ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ।

 

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, ডেঙ্গু এখন সিজনাল নেই, সারা বছরই হচ্ছে। বৃষ্টি শুরু হলে এটা বাড়ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিরোধক ওষুধ ব্যবহারের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সব জায়গায় প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। একই সঙ্গে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কীটতত্ত্ববিদ ড. মনজুর চৌধুরী বলছেন, মশানিধনে শুধু জেল-জরিমানা আর জনসচেতনতা বাড়িয়ে কাজ হবে না। সঠিকভাবে জরিপ চালিয়ে দক্ষ জনবল দিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

প্রতিবছর বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। ২০২৩ সালের জুন থেকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। গত বছর দেশে ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। এর মধ্যে ঢাকায় ১ লাখ ১০ হাজার ৮ এবং ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ লাখ ১১ হাজার ১৭১ জন।

অর্থআদালতডটকম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার হতে বিরত থাকুন।

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় রোগী ভর্তির রেকর্ড

আপডেটঃ ০৪:০১:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ নভেম্বর ২০২৪

দেশে ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। এডিস মশাবাহিত রোগটিতে মৃত্যুর পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৩৭০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে মারা গেছেন ৬ জন। এ বছর এখন পর্যন্ত একদিনে ভর্তি হওয়া সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগীর সংখ্যা এটি। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৩২৬ জনের এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৭ হাজার ১৩৮ জন।

 

গতকাল মঙ্গলবার (০৫ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্য থেকে এসব জানা যায়।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১২২, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪৪, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৬৮, ঢাকা উত্তর সিটিতে ২৫৯, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ২৪৮, খুলনা বিভাগে ১৩৫, রাজশাহী বিভাগে ২৮, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৯ এবং রংপুর বিভাগে ২৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

 

এদিকে একদিনে সারা দেশে ১ হাজার ৩০৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬২ হাজার ৬১০ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সবমিলিয়ে ৬৭ হাজার ১৩৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৩২৬ জনের।

 

চলতি বছরে আক্রান্তদের মধ্যে ৬৩ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৬ দশমিক ৮ শতাংশ নারী। এছাড়া এখন পর্যন্ত মৃত ৩২৬ জনের মধ্যে ৫১ দশমিক ৫ শতাংশ নারী এবং ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ।

 

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, ডেঙ্গু এখন সিজনাল নেই, সারা বছরই হচ্ছে। বৃষ্টি শুরু হলে এটা বাড়ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিরোধক ওষুধ ব্যবহারের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সব জায়গায় প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। একই সঙ্গে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কীটতত্ত্ববিদ ড. মনজুর চৌধুরী বলছেন, মশানিধনে শুধু জেল-জরিমানা আর জনসচেতনতা বাড়িয়ে কাজ হবে না। সঠিকভাবে জরিপ চালিয়ে দক্ষ জনবল দিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

প্রতিবছর বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। ২০২৩ সালের জুন থেকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। গত বছর দেশে ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। এর মধ্যে ঢাকায় ১ লাখ ১০ হাজার ৮ এবং ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ লাখ ১১ হাজার ১৭১ জন।