ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অবৈধ ১৮ হাজার ভারতীয়কে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরানোর পরিকল্পনা ভারতের

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটঃ ০৪:৫০:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৫
  • / ৮৮১ বার পঠিত

ক্ষমতায় বসার বহু আগে থেকেই চরমভাবে অবৈধ অভিবাসী বিরোধী ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে ধারায় যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েই অভিবাসীদের বিরুদ্ধে একের পর এক নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন তিনি, যেখানে জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বাতিল থেকে শুরু করে সীমান্তে জরুরি অবস্থা জারি পর্যন্ত বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ রয়েছে। এরই মধ্যে তার নেওয়া এসব পদক্ষেপের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ অভিবাসী ইস্যু সমাধানে তৎপর হয়ে উঠেছে বিভিন্ন দেশ, যার মধ্যে আছে ভারতও। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের ১৮ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে ফেরত নেয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে দেশটির সরকার।

 

আজ বুধবার (২২ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য দিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।

 

ব্লুমবার্গের সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে এবং ভারতীয় নাগরিকদের বৈধ অভিবাসন ভিসা রক্ষা করতেই ভারত সরকার অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীদের চিহ্নিতে মার্কিন কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করছে।

 

ট্রাম্পের প্রথম নির্বাহী পদক্ষেপগুলোর অনেকগুলোই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসনকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জাতীয় সীমান্ত জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং মার্কিন-মেক্সিকো সীমান্তে সেনা মোতায়েন করা।

 

সূত্রগুলো ব্লুমবার্গকে জানিয়েছে, যদিও এখন পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসকারী ১৮ হাজার ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে, কিন্তু এর প্রকৃত সংখ্যা সম্ভবত আরও অনেক বেশি। পিউ রিসার্চ সেন্টারের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আনুমানিক সাত লাখ ২৫ হাজার অবৈধ ভারতীয় অভিবাসী রয়েছে, যা মেক্সিকো ও এল সালভাদোরের পরে তাদের তৃতীয় বৃহত্তম সংখ্যা।

 

ভারতীয় অভিবাসীদের শনাক্ত ও নির্বাসনের পদক্ষেপকে ট্রাম্পের দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে শান্ত করার প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ট্রাম্পের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে এবং তারা নিয়মিত একে অপরকে ‘ভালো বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেন। তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার আমেরিকা ফার্স্ট নীতির অংশ হিসেবে ভারতের ওপর উচ্চ বাণিজ্য শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন, যা ভারতের জন্য ক্ষতিকর হবে এবং মোদি সরকার যেকোনো বাণিজ্য সংঘাত এড়াতে মরিয়া বলে মনে করা হচ্ছে।

 

ভারত সরকার বহিষ্কারের সংখ্যা নিশ্চিত করেনি। তবে তারা জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসনের সমস্যা মোকাবলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গি ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ‘অভিবাসন ও গতিশীলতা সংক্রান্ত ভারত-মার্কিন সহযোগিতার অংশ হিসবে, উভয় পক্ষই অবৈধ অভিবাসন রোধ করার জন্য একটি প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত রয়েছে। ভারত থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসনের জন্য আরও সুযোগ তৈরি করার জন্য এটি করা হচ্ছে।’

 

জয়সওয়াল জোর দিয়ে বলেন, প্রক্রিয়াটি ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। তিনি বলেন, অক্টোবরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে শতাধিক অবৈধ ভারতীয়কে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল এবং গত এক বছরে এক হাজার জনেরও বেশি লোককে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

 

ভারত সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ অভিবাসীদের জন্য এইচ-১বি ভিসার মর্যাদা রক্ষা করা, যা প্রায়শই প্রযুক্তি এবং প্রকৌশলের মতো খাতে ব্যবহৃত হয়। ২০২৩ সালে প্রদত্ত সমস্ত এইচ-১বি ভিসার প্রায় ৭৫ শতাংশই ছিল ভারতীয়রা এবং উন্নত কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেতে আগ্রহী ভারতীয় কর্মীদের জন্য এগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবনরেখা হিসেবে দেখা হয়।

 

যদিও কিছু রিপাবলিকান অভিযোগ করেছেন, ভিসার ফলে বিদেশিরা এমন মর্যাদাপূর্ণ চাকরি নিতে পারছেন, যা আমেরিকানদের জন্য হওয়া উচিত ছিল।

 

টেসলা ও স্পেস এক্সের প্রতিষ্ঠাতা এলন মাস্ক এইচ-১বি প্রকল্পের প্রতি তার সমর্থন প্রকাশ করেছেন।

 

অর্থআদালতডটকম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার হতে বিরত থাকুন।

অবৈধ ১৮ হাজার ভারতীয়কে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরানোর পরিকল্পনা ভারতের

আপডেটঃ ০৪:৫০:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৫

ক্ষমতায় বসার বহু আগে থেকেই চরমভাবে অবৈধ অভিবাসী বিরোধী ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে ধারায় যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েই অভিবাসীদের বিরুদ্ধে একের পর এক নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন তিনি, যেখানে জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বাতিল থেকে শুরু করে সীমান্তে জরুরি অবস্থা জারি পর্যন্ত বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ রয়েছে। এরই মধ্যে তার নেওয়া এসব পদক্ষেপের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ অভিবাসী ইস্যু সমাধানে তৎপর হয়ে উঠেছে বিভিন্ন দেশ, যার মধ্যে আছে ভারতও। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের ১৮ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে ফেরত নেয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে দেশটির সরকার।

 

আজ বুধবার (২২ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য দিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।

 

ব্লুমবার্গের সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে এবং ভারতীয় নাগরিকদের বৈধ অভিবাসন ভিসা রক্ষা করতেই ভারত সরকার অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীদের চিহ্নিতে মার্কিন কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করছে।

 

ট্রাম্পের প্রথম নির্বাহী পদক্ষেপগুলোর অনেকগুলোই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসনকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জাতীয় সীমান্ত জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং মার্কিন-মেক্সিকো সীমান্তে সেনা মোতায়েন করা।

 

সূত্রগুলো ব্লুমবার্গকে জানিয়েছে, যদিও এখন পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসকারী ১৮ হাজার ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে, কিন্তু এর প্রকৃত সংখ্যা সম্ভবত আরও অনেক বেশি। পিউ রিসার্চ সেন্টারের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আনুমানিক সাত লাখ ২৫ হাজার অবৈধ ভারতীয় অভিবাসী রয়েছে, যা মেক্সিকো ও এল সালভাদোরের পরে তাদের তৃতীয় বৃহত্তম সংখ্যা।

 

ভারতীয় অভিবাসীদের শনাক্ত ও নির্বাসনের পদক্ষেপকে ট্রাম্পের দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে শান্ত করার প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ট্রাম্পের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে এবং তারা নিয়মিত একে অপরকে ‘ভালো বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেন। তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার আমেরিকা ফার্স্ট নীতির অংশ হিসেবে ভারতের ওপর উচ্চ বাণিজ্য শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন, যা ভারতের জন্য ক্ষতিকর হবে এবং মোদি সরকার যেকোনো বাণিজ্য সংঘাত এড়াতে মরিয়া বলে মনে করা হচ্ছে।

 

ভারত সরকার বহিষ্কারের সংখ্যা নিশ্চিত করেনি। তবে তারা জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসনের সমস্যা মোকাবলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গি ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ‘অভিবাসন ও গতিশীলতা সংক্রান্ত ভারত-মার্কিন সহযোগিতার অংশ হিসবে, উভয় পক্ষই অবৈধ অভিবাসন রোধ করার জন্য একটি প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত রয়েছে। ভারত থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসনের জন্য আরও সুযোগ তৈরি করার জন্য এটি করা হচ্ছে।’

 

জয়সওয়াল জোর দিয়ে বলেন, প্রক্রিয়াটি ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। তিনি বলেন, অক্টোবরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে শতাধিক অবৈধ ভারতীয়কে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল এবং গত এক বছরে এক হাজার জনেরও বেশি লোককে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

 

ভারত সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ অভিবাসীদের জন্য এইচ-১বি ভিসার মর্যাদা রক্ষা করা, যা প্রায়শই প্রযুক্তি এবং প্রকৌশলের মতো খাতে ব্যবহৃত হয়। ২০২৩ সালে প্রদত্ত সমস্ত এইচ-১বি ভিসার প্রায় ৭৫ শতাংশই ছিল ভারতীয়রা এবং উন্নত কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেতে আগ্রহী ভারতীয় কর্মীদের জন্য এগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবনরেখা হিসেবে দেখা হয়।

 

যদিও কিছু রিপাবলিকান অভিযোগ করেছেন, ভিসার ফলে বিদেশিরা এমন মর্যাদাপূর্ণ চাকরি নিতে পারছেন, যা আমেরিকানদের জন্য হওয়া উচিত ছিল।

 

টেসলা ও স্পেস এক্সের প্রতিষ্ঠাতা এলন মাস্ক এইচ-১বি প্রকল্পের প্রতি তার সমর্থন প্রকাশ করেছেন।