ঢাকা , বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাবিতে ছাত্রলীগের ২৮৯ জন বহিষ্কার, সাময়িক বরখাস্ত ৯ শিক্ষক

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটঃ ১২:৩১:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫
  • / ৮৬৩ বার পঠিত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ২৮৯ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।  বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী বলে জানা গেছে।  একই সঙ্গে একটি অধিকতর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া হামলায় মদদ দেয়ার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে ৯ শিক্ষককে।

 

গতকাল সোমবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সিন্ডিকেট সভা শেষে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান এসব তথ্য জানান।

 

উপাচার্য জানান, ১৫ জুলাই রাতে জাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ২৮৯ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া একটি অধিকতর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে, যাদের ছাত্রত্ব শেষ তাদের সনদ স্থগিত করা হবে, যারা পরীক্ষা ও ভাইভা দিয়েছে তাদের ফলাফল স্থগিত করা হবে এবং নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সাময়িক বহিষ্কার করা হবে।

 

এছাড়া আন্দোলন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ ও পুলিশি হামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৯ জন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে আরও ১০ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের আরও বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করতে অনুষদভিত্তিক ছয়টি স্ট্রাকচারাল কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক আলমগীর কবির, সহযোগী অধ্যাপক ফিরোজ-উল-হাসান, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক বশির আহমেদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সাবেক প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইস্রাফিল আহমেদের নাম নিশ্চিত হওয়া গেছে।

 

এদিকে হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম এবং রেজিস্ট্রার আবু হাসান অবসরে চলে যাওয়ায় তাদের পেনশন সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

 

অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের কয়েকজন সদস্যের নামে থাকা স্থাপনার নাম বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, শেখ রাসেল হল এবং শেখ হাসিনা হলের নাম পরিবর্তন করা হবে বলে জানা গেছে। এছাড়া ১৫ জুলাইয়ের রাত জাবিতে কালো রাত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

অর্থআদালতডটকম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার হতে বিরত থাকুন।

জাবিতে ছাত্রলীগের ২৮৯ জন বহিষ্কার, সাময়িক বরখাস্ত ৯ শিক্ষক

আপডেটঃ ১২:৩১:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ২৮৯ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।  বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী বলে জানা গেছে।  একই সঙ্গে একটি অধিকতর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া হামলায় মদদ দেয়ার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে ৯ শিক্ষককে।

 

গতকাল সোমবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সিন্ডিকেট সভা শেষে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান এসব তথ্য জানান।

 

উপাচার্য জানান, ১৫ জুলাই রাতে জাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ২৮৯ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া একটি অধিকতর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে, যাদের ছাত্রত্ব শেষ তাদের সনদ স্থগিত করা হবে, যারা পরীক্ষা ও ভাইভা দিয়েছে তাদের ফলাফল স্থগিত করা হবে এবং নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সাময়িক বহিষ্কার করা হবে।

 

এছাড়া আন্দোলন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ ও পুলিশি হামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৯ জন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে আরও ১০ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের আরও বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করতে অনুষদভিত্তিক ছয়টি স্ট্রাকচারাল কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক আলমগীর কবির, সহযোগী অধ্যাপক ফিরোজ-উল-হাসান, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক বশির আহমেদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সাবেক প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইস্রাফিল আহমেদের নাম নিশ্চিত হওয়া গেছে।

 

এদিকে হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম এবং রেজিস্ট্রার আবু হাসান অবসরে চলে যাওয়ায় তাদের পেনশন সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

 

অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের কয়েকজন সদস্যের নামে থাকা স্থাপনার নাম বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, শেখ রাসেল হল এবং শেখ হাসিনা হলের নাম পরিবর্তন করা হবে বলে জানা গেছে। এছাড়া ১৫ জুলাইয়ের রাত জাবিতে কালো রাত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।