ঢাকা , বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

থমথমে অবস্থা গোপালগঞ্জে, চলছে কারফিউ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটঃ ০২:২৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫
  • / ৮২০ বার পঠিত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পথসভাকে কেন্দ্র করে বুধবার দিনভর সংঘর্ষ আর প্রাণহানির ঘটনায় গোপালগঞ্জে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। চলছে প্রশাসনের ডাকা ২২ ঘণ্টার কারফিউ।

 

গতকাল বুধবার (১৬ জুলাই) এ জেলায় এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ আর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ঘিরে রাতভর উত্তেজনার পর সকালে দেখা গেছে জেলা জুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। কারফিউয়ের কারণে সকাল থেকে বন্ধ বেশিরভাগ দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

 

কারফিউয়ের মধ্যে এ পর্যন্ত ২০ জনকে আটকের খবর নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মীর মো. সাজেদুর রহমান।

 

মূলত বুধবার (১৬ জুলাই) রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এই ২০ জনকে আটক করার কথা জানান তিনি।

 

আটকদের গোপালগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আটকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানান ওসি মীর মো. সাজেদুর রহমান। গোপালগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে বলেও জানান তিনি।

 

এদিকে থমথমে পরিস্থিতি দেখা গেছে গোপালগঞ্জজুড়ে। মূল সড়কগুলোকে সকাল থেকে চোখে পড়েনি অভ্যন্তরীণ রুটের যানবাহন, বন্ধ ছিল দোকানপাট-বাজার। তবে বিভিন্ন অলিগলির সড়কের মানুষের চলাচল দেখা গেছে। কিছু এলাকায় খুলেছে খাবারের দোকান-হোটেল।

 

আজ বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সকালে শহরের বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে দেখা গেছে, এখনো পড়ে আছে ইটপাটকেল, বাঁশসহ যান চলাচলে নানা প্রতিবন্ধক সামগ্রী। সড়কের পাশে থাকা গাছ কেটে রাস্তার ওপর ফেলেও যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে দেখা গেছে বেশ কিছু স্থানে। জরুরি প্রয়োজনে যারা ঘর ছেড়ে বেরিয়েছেন তাদের চোখে মুখে দেখা গেছে আতঙ্কের ছাপ।

 

এর আগে বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গোপালগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত হওয়ার খবর এসেছে। বুধবার সকালে এনসিপি নেতারা গাড়িবহর নিয়ে শহরে ঢোকার আগেই পুলিশের গাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ঘটনার সূত্রপাত হয়।

 

পরে ইউএনওর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ পরিস্থিতির মধ্যে বেলা দেড়টার দিকে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্ক এলাকায় সমাবেশ মঞ্চে হামলা চালায়।

 

এক পর্যায়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। পরে তারা সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানে করে পুলিশ সুপার কার্যালয় ছাড়েন। দুপুরে জেলা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় সন্ধ্যায় কারফিউ জারির ঘোষণা আসে।

অর্থআদালতডটকম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার হতে বিরত থাকুন।

থমথমে অবস্থা গোপালগঞ্জে, চলছে কারফিউ

আপডেটঃ ০২:২৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পথসভাকে কেন্দ্র করে বুধবার দিনভর সংঘর্ষ আর প্রাণহানির ঘটনায় গোপালগঞ্জে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। চলছে প্রশাসনের ডাকা ২২ ঘণ্টার কারফিউ।

 

গতকাল বুধবার (১৬ জুলাই) এ জেলায় এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ আর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ঘিরে রাতভর উত্তেজনার পর সকালে দেখা গেছে জেলা জুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। কারফিউয়ের কারণে সকাল থেকে বন্ধ বেশিরভাগ দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

 

কারফিউয়ের মধ্যে এ পর্যন্ত ২০ জনকে আটকের খবর নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মীর মো. সাজেদুর রহমান।

 

মূলত বুধবার (১৬ জুলাই) রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এই ২০ জনকে আটক করার কথা জানান তিনি।

 

আটকদের গোপালগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আটকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানান ওসি মীর মো. সাজেদুর রহমান। গোপালগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে বলেও জানান তিনি।

 

এদিকে থমথমে পরিস্থিতি দেখা গেছে গোপালগঞ্জজুড়ে। মূল সড়কগুলোকে সকাল থেকে চোখে পড়েনি অভ্যন্তরীণ রুটের যানবাহন, বন্ধ ছিল দোকানপাট-বাজার। তবে বিভিন্ন অলিগলির সড়কের মানুষের চলাচল দেখা গেছে। কিছু এলাকায় খুলেছে খাবারের দোকান-হোটেল।

 

আজ বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সকালে শহরের বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে দেখা গেছে, এখনো পড়ে আছে ইটপাটকেল, বাঁশসহ যান চলাচলে নানা প্রতিবন্ধক সামগ্রী। সড়কের পাশে থাকা গাছ কেটে রাস্তার ওপর ফেলেও যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে দেখা গেছে বেশ কিছু স্থানে। জরুরি প্রয়োজনে যারা ঘর ছেড়ে বেরিয়েছেন তাদের চোখে মুখে দেখা গেছে আতঙ্কের ছাপ।

 

এর আগে বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গোপালগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত হওয়ার খবর এসেছে। বুধবার সকালে এনসিপি নেতারা গাড়িবহর নিয়ে শহরে ঢোকার আগেই পুলিশের গাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ঘটনার সূত্রপাত হয়।

 

পরে ইউএনওর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ পরিস্থিতির মধ্যে বেলা দেড়টার দিকে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্ক এলাকায় সমাবেশ মঞ্চে হামলা চালায়।

 

এক পর্যায়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। পরে তারা সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানে করে পুলিশ সুপার কার্যালয় ছাড়েন। দুপুরে জেলা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় সন্ধ্যায় কারফিউ জারির ঘোষণা আসে।