ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ৯১৯ জন
- আপডেটঃ ০১:২১:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩
- / ৯১০ বার পঠিত
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এ বছর প্রতিদিন গড়ে ৯১৯ জন মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এঁদের মধ্যে দৈনিক গড়ে ৫ জন করে মারা যাচ্ছেন। মৃতদের মধ্যে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু ১৬৬ জন। গণমাধ্যমে পাঠানো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
সরকারি তথ্যের বাইরে বহু মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এঁদের একটি অংশ নিজেদের মতো করে চিকিৎসা নিয়েছে। সরকারি হিসাবের বাইরে আক্রান্তদের সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন। তবে জনস্বাস্থ্যবিদেরা মনে করেন, যত মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন, তার চার থেকে পাঁচ গুণ মানুষ বাস্তবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত থাকেন। সেই হিসাবে এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১২ থেকে ১৫ লাখ মানুষ।
বছর শেষ হতে এখনো ১৯ দিন বাকি। এরই মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৬ জন। এঁদের মধ্যে মারা গেছেন ১ হাজার ৬৬৭ জন। বাংলাদেশে ডেঙ্গুতে এত আক্রান্ত ও মৃত্যু এর আগে হয়নি। এ বছর বিশ্বে আর কোনো দেশে ডেঙ্গুতে এত মৃত্যুও হয়নি। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি হলেও দেশটিতে মৃত্যু এক হাজারের কম।
উষ্ণ আবহাওয়ায় ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটে বেশি। তবে শীত প্রায় চলে এলেও দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমছে না। গত বছরও শীতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ থাকলেও রোগটির এত বিস্তৃতি দেখা যায়নি। চলতি নভেম্বরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা গত বছরের এ সময়ের দ্বিগুণ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও কীটতত্ত্ববিদেরা অভিযোগ করে আসছেন, সরকার ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেই সরকার কিছুটা নড়েচড়ে বসে। শীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে এলে সরকারের কোনো কাজ আর চোখে পড়ে না। একইভাবে চলছে বছরের পর বছর।
২০০০ সাল থেকে দেশে নিয়মিত ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। অতীতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মূলত ঢাকা শহরেই দেখা গেছে। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, খুলনার মতো বড় বড় শহরে ডেঙ্গু দেখা গেলেও তার বিস্তার ছিল কম। তবে ২০১৯ সালে বেশ কয়েকটি জেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়েছিল।
এই বছর ৬৪ জেলার মানুষই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। পরিসংখ্যানে অনুসারে, আক্রান্তদের ৬৬ শতাংশ ঢাকা শহরের বাইরের মানুষ। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৩ হাজার, বরিশাল বিভাগে ৩৭ হাজার এবং খুলনা বিভাগে ৩৪ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। সবচেয়ে কম আক্রান্ত হয়েছেন সিলেট বিভাগে। এই বিভাগের চারটি জেলায় ১ হাজার ৪২৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
জনস্বাস্থ্যবিদেরা আশঙ্কা করছেন, পুরো শীতজুড়ে এই সংক্রমণ সারা দেশেই চলতে থাকবে এবং মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হলে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে। সারা দেশে মশা নিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যকর কর্মসূচি না থাকায় বৃষ্টিতে মশা বাড়বে। সেই সঙ্গে বাড়বে ডেঙ্গু। শীত শেষে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা আছে।
ডেঙ্গুতে নারীর চেয়ে পুরুষ বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বা হয়েছেন। সরকারের পরিসংখ্যান বলছে, আক্রান্তদের মধ্যে ৬০ শতাংশ পুরুষ এবং ৪০ শতাংশ নারী।তবে ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে বেশি মৃত্যু হচ্ছে নারীর। এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ১ হাজার ৬৬৭ জনের মধ্যে নারী ৫৭ শতাংশ। আর পুরুষ ৪৩ শতাংশ।
এই বছর ১৫ বছরের কম বয়সী ১৬৬ জন শিশু মারা গেছে ডেঙ্গুতে। ডেঙ্গুতে এত শিশুর মৃত্যু আগে কখনো হয়নি। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তারা বলেছেন, দেশের অনেক জেলায় শিশুদের ডেঙ্গু চিকিৎসার পর্যাপ্ত আয়োজন নেই।










