ঢাকা , সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিপাহ ভাইরাস নিয়ে বিপদে বাংলাদেশে

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটঃ ০৪:২৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩
  • / ১১৩৪ বার পঠিত

বাংলাদেশে এ সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খেজুরের রস বিক্রির ধুম দেখে দুশ্চিন্তায় জনস্বাস্থ্যবিদ ও ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ‘আইইডিসিআর’ নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার নিয়ে সার্বক্ষণিক গবেষণা করে।

 

এ বছর মার্চ মাস পর্যন্ত দেশে ১৪ জন নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জনই মারা গেছেন। তাঁদের মধ্যে ৭১ শতাংশের মৃত্যু হয়েছেতাঁদের মধ্যে ৭১ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে।

 

এ বছর রাজশাহীতে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বেশি। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে মারা গেছেন দু’জন। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে সাত বছরের শিশু। এ বছর অন্যান্য এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে এ বছর নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের হার বেশি। গেল বছরও বেশ কয়েকজন নিপাহ ভাইরাসে আক্রমণে মারা গেছেন।

 

১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ায় সর্বপ্রথম নিপাহ ভইরাস শনাক্ত করা হয়। এ সময় ২৫৭ জন আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ১০৫ জন। মালেশিয়ার কেমপুং নিপাহ শহরে এ ভাইরাস প্রথম সংক্রমিত হয় বলে এর নামানুসারে নিপাহ ভাইরাস রাখা হয়।

বাংলাদেশে সর্বপ্রথম নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের বিষয়টি ধরা পড়ে ২০০১ সালে।

 

২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত মেহেরপুর, নওগাঁ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, ঠাকুরগাঁও, কুষ্টিয়া, মানিকগঞ্জ ও রংপুরে মানব দেহে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। গেল বছর উত্তরাঞ্চলের লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় প্রথম এ ভাইরাস ধরা পড়ে। পরে কুড়িগ্রাম, রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও দিনাজপুরেও সংক্রমণের ঘটনা ঘটে। ২৪ জন আক্রান্ত হয়ে ১৭ জন মারা যায়। এর আগে ২০১০ সালের জানুয়ারিতে ফরিদপুরে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করে জানা গেছে অসতর্কভাবে অন্য রোগীর সেবা করার কারণে সংক্রমণের হার বেড়েছে। এ পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রায় ৩২৫ জনের মধ্যে ২৫০ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। এ ভাইরাসে আক্রান্তদের মারা যাওয়ার হার ৭১ ভাগের বেশি। তবে এটা নিয়ে ভয় পেলে চলবে না। সচেতন হতে হবে।

 

নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ঘটলেও এ নিয়ে সচেতনতা কম। খেজুরের রস একেবারে না খাওয়াটাই যেখানে বাঁচার উপায়, সেখানে রীতিমতো উৎসব করে রস খাওয়ার আয়োজন করছে নানা প্রতিষ্ঠান। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার তো আছেই। একে নিপাহ ভাইরাস ছড়ানোর একটি বিপদ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও অন্তত তিন বিপদ। বিপদ তিনটি হলো এবার শিশু-কিশোরদের বেশি আক্রান্ত হওয়া, মায়ের বুকের দুধে নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি এবং নতুন একটি জেলায় এই ভাইরাস শনাক্ত হওয়া।

 

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে বিক্রি হচ্ছে খেজুরের রস। রাজধানীর নন্দীপাড়া থেকে দেওয়া এক পোস্টে রস বিক্রির কথা জানানো হয়।

 

এবার নিপাহ ভাইরাস নতুন একটি জেলায় ছড়িয়েছে। জেলাটি হলো ঢাকার কাছের নরসিংদী। নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ এযাবৎ বেশি দেখা গেছে রাজশাহী, পাবনা, নাটোর, নওগাঁ; ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও শরীয়তপুর জেলায়

 

জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বলছিলেন, ‘এবার নরসিংদী জেলায় নিপাহ ভাইরাসের রোগী পাওয়ার অর্থ হলো এ ভাইরাস এখন দেশের অন্য এলাকায় বিস্তৃত হয়ে পড়ছে। এটা একটা বিপদ। এখন দরকার এ বিস্তৃতি রোধ করা।

 

আইইডিসিআরের গবেষণায় দেখা যায়, চলতি বছর দেশে একজন প্রসূতির বুকের দুধে নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ওই মায়ের সন্তানের পরে মৃত্যু ঘটে। বুকের দুধে নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া সারা বিশ্বে একটি বিরল ঘটনা।

 

এখন প্রশ্ন , খেজুরের রসের তাহলে কী হবে। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, খেজুরের গুড় তৈরিই সঠিক উপায়। এতে ক্ষতি নেই। কিন্তু কোনোক্রমেই কাঁচা রস খাওয়া যাবে না।

 

অর্থআদালতডটকম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার হতে বিরত থাকুন।

নিপাহ ভাইরাস নিয়ে বিপদে বাংলাদেশে

আপডেটঃ ০৪:২৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩

বাংলাদেশে এ সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খেজুরের রস বিক্রির ধুম দেখে দুশ্চিন্তায় জনস্বাস্থ্যবিদ ও ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ‘আইইডিসিআর’ নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার নিয়ে সার্বক্ষণিক গবেষণা করে।

 

এ বছর মার্চ মাস পর্যন্ত দেশে ১৪ জন নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জনই মারা গেছেন। তাঁদের মধ্যে ৭১ শতাংশের মৃত্যু হয়েছেতাঁদের মধ্যে ৭১ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে।

 

এ বছর রাজশাহীতে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বেশি। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে মারা গেছেন দু’জন। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে সাত বছরের শিশু। এ বছর অন্যান্য এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে এ বছর নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের হার বেশি। গেল বছরও বেশ কয়েকজন নিপাহ ভাইরাসে আক্রমণে মারা গেছেন।

 

১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ায় সর্বপ্রথম নিপাহ ভইরাস শনাক্ত করা হয়। এ সময় ২৫৭ জন আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ১০৫ জন। মালেশিয়ার কেমপুং নিপাহ শহরে এ ভাইরাস প্রথম সংক্রমিত হয় বলে এর নামানুসারে নিপাহ ভাইরাস রাখা হয়।

বাংলাদেশে সর্বপ্রথম নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের বিষয়টি ধরা পড়ে ২০০১ সালে।

 

২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত মেহেরপুর, নওগাঁ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, ঠাকুরগাঁও, কুষ্টিয়া, মানিকগঞ্জ ও রংপুরে মানব দেহে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। গেল বছর উত্তরাঞ্চলের লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় প্রথম এ ভাইরাস ধরা পড়ে। পরে কুড়িগ্রাম, রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও দিনাজপুরেও সংক্রমণের ঘটনা ঘটে। ২৪ জন আক্রান্ত হয়ে ১৭ জন মারা যায়। এর আগে ২০১০ সালের জানুয়ারিতে ফরিদপুরে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করে জানা গেছে অসতর্কভাবে অন্য রোগীর সেবা করার কারণে সংক্রমণের হার বেড়েছে। এ পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রায় ৩২৫ জনের মধ্যে ২৫০ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। এ ভাইরাসে আক্রান্তদের মারা যাওয়ার হার ৭১ ভাগের বেশি। তবে এটা নিয়ে ভয় পেলে চলবে না। সচেতন হতে হবে।

 

নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ঘটলেও এ নিয়ে সচেতনতা কম। খেজুরের রস একেবারে না খাওয়াটাই যেখানে বাঁচার উপায়, সেখানে রীতিমতো উৎসব করে রস খাওয়ার আয়োজন করছে নানা প্রতিষ্ঠান। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার তো আছেই। একে নিপাহ ভাইরাস ছড়ানোর একটি বিপদ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও অন্তত তিন বিপদ। বিপদ তিনটি হলো এবার শিশু-কিশোরদের বেশি আক্রান্ত হওয়া, মায়ের বুকের দুধে নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি এবং নতুন একটি জেলায় এই ভাইরাস শনাক্ত হওয়া।

 

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে বিক্রি হচ্ছে খেজুরের রস। রাজধানীর নন্দীপাড়া থেকে দেওয়া এক পোস্টে রস বিক্রির কথা জানানো হয়।

 

এবার নিপাহ ভাইরাস নতুন একটি জেলায় ছড়িয়েছে। জেলাটি হলো ঢাকার কাছের নরসিংদী। নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ এযাবৎ বেশি দেখা গেছে রাজশাহী, পাবনা, নাটোর, নওগাঁ; ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও শরীয়তপুর জেলায়

 

জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বলছিলেন, ‘এবার নরসিংদী জেলায় নিপাহ ভাইরাসের রোগী পাওয়ার অর্থ হলো এ ভাইরাস এখন দেশের অন্য এলাকায় বিস্তৃত হয়ে পড়ছে। এটা একটা বিপদ। এখন দরকার এ বিস্তৃতি রোধ করা।

 

আইইডিসিআরের গবেষণায় দেখা যায়, চলতি বছর দেশে একজন প্রসূতির বুকের দুধে নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ওই মায়ের সন্তানের পরে মৃত্যু ঘটে। বুকের দুধে নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া সারা বিশ্বে একটি বিরল ঘটনা।

 

এখন প্রশ্ন , খেজুরের রসের তাহলে কী হবে। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, খেজুরের গুড় তৈরিই সঠিক উপায়। এতে ক্ষতি নেই। কিন্তু কোনোক্রমেই কাঁচা রস খাওয়া যাবে না।