পাঁচ শরিয়াহ ব্যাংককে চিঠি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
- আপডেটঃ ০৪:৫৭:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩
- / ১০৮৮ বার পঠিত
শরীয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকায় সতর্ক করে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে আগামী ২০ কমর্দিবসের মধ্যে অ্যাকাউন্টে রাখতে না পারলে লেনদেন বন্ধ করা হবে কি না পরে সিদ্ধান্ত হয়নি।এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয়ের নিয়মিত কাজ বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানটি।
তবে লেনদেন বিরত রাখার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক। আজ রোববার দুপুরে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য দেন। ব্যাংক পাঁচটি হলো ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।
মো. মেজবাউল হক আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকগুলোর সিআরআরের পাশাপাশি এসএলারের বেশিরভাগ রাখতে হয় নগদে। যে কারণে সিকিউরিটিজ থাকে খুব কম। এর আগে আইসিবি ইসলামীক ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে কোনো সিকিউরিটিজ ছাড়া একই উপায়ে ধার দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বছরখানেক ধরে বিধিবদ্ধ তারল্য রাখতে না পারায় শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ইসলামী ব্যাংককে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ২০ দিনের মধ্যে চলতি হিসাবের ঋণাত্মক স্থিতি সমন্বয় করা না হলে ক্লিয়ারিং বা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা থেকে ব্যাংকগুলোকে বিরত রাখা হবে।
আজ সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয় এ নিয়ে চিঠি দিলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগ। ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর কাঠামোগত সমস্যার কারণে কিছু ব্যাংক তারল্যসংকটে পড়েছে। এ নিয়ে ভবিষ্যতে কাজ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২-এর ৩৬(১) ধারা অনুযায়ী আমানতকারীদের সুরক্ষায় প্রতিটি ব্যাংকের মোট তলবি ও মেয়াদি দায়ের একটি অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে হয়। বর্তমানে প্রচলতি ধারার ব্যাংকের জন্য এ হার ১৭ শতাংশ। আর শরিয়াহভিত্তিক পরিচালিত ব্যাংকের জন্য সাড়ে ৯ শতাংশ। ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোকে সরকারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগের বিপরীতে সহজে বিনিময়যোগ্য সম্পদ বা এসএলআর হিসেবে সাড়ে ৫ শতাংশ এবং বিধিবদ্ধ নগদ জমা সংরক্ষণ বা সিআরআর হিসেবে ৪ শতাংশ নগদে রাখতে হয়। কোনো ব্যাংক যদি সিআরআর রাখতে না পারে তাহলে অসংরক্ষিত অংশের ওপর ৯ শতাংশ হারে দণ্ডসুদ দিতে হয়। আর এসএলআর রাখতে ব্যর্থ অংশের ওপর ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে জরিমানা আরোপ হয়। কোনো ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে ৪২ দিন ব্যর্থ হলে পরে বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশের ৩৬(৫)(এ) অনুযায়ী প্রত্যেক পরিচালককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করতে হবে। এরপরও বিধিবদ্ধ জমা সংরক্ষণে ব্যর্থ হলে ৩৬(৫)(বি) অনুযায়ী নতুন আমানত নেওয়া বন্ধ করতে হবে।
এখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য। এরপর বহিস্থ চাপ থেকে বের হয়ে এলে সংকটে পড়া ব্যাংকের সুশাসন নিয়ে কাজ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।










