ঢাবিতে ট্রান্সজেন্ডার কোটা বাতিলের দাবি শিক্ষার্থীদের
- আপডেটঃ ০৬:৪৯:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৩
- / ১০৫৮ বার পঠিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় ট্রান্সজেন্ডার কোটা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ট্রান্সজেন্ডারবিরোধী লেখা সম্বলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে ট্রান্সজেন্ডার কোটা বাতিলের জন্য স্লোগান দেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। এতে ভর্তি পরীক্ষায় ট্রান্সজেন্ডার কোটা বাতিলসহ আরো চার দফা দাবি তোলেন শিক্ষার্থীরা।
দাবিগুলো হলো- ১. অনতিবিলম্বে ভর্তি পরীক্ষায় ট্রান্সজেন্ডার কোটা বাতিল করতে হবে। ২. দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ভর্তি বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। ৩. ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ধারীদের কোটা ব্যবস্থার আওতায় আনার মাধ্যমে ট্রান্সজেন্ডার মতবাদকে প্রমোট করে সংবিধান ও দেশের আইন পরিপন্থী কাজ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে। ৪. হিজড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বিঘ্নে পড়াশোনা করতে পারে সেই পরিবেশ সৃষ্টির জন্য পর্যাপ্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
এসময় আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সাখাওয়াত জাকারিয়া বলেন, হিজরা এবং ট্রান্সজেন্ডার এক নয়। কিন্তু হিজরা সম্প্রদায়ের সহমর্মিতাকে কাজে লাগিয়ে বিকৃত মস্তিষ্কের ট্রান্সদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। একমাত্র কোটা তারাই দাবি করতে পারে যারা সমাজের পিছিয়ে পড়া জাতি। কিন্তু কি যুক্তির উপরে কোনো ধরনের শারীরিক সীমাবদ্ধতা ছাড়া ট্রান্সজেন্ডার কোটা চালু করা হয়েছে তা বোধগম্য নয়। ট্রান্সজেন্ডারদেরকে কোটা দেওয়ার অর্থ হলো বিশ্ববিদ্যালয়ে এলজিবিটিকে সমর্থন দেওয়া।
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, হিজরাদের কোটা থাকা যুক্তিযুক্ত কিন্তু ট্রান্সদের কোটা দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। নিজেদের বিকৃত করে কোটার দাবিদার হওয়া যায় না। ট্রান্স নাম করে পুরুষরূপী মহিলাদের কারণে আমরা মেয়েরা ভুক্তভোগী হবো। সে আমাদের আবাসিক হলে থাকবে। তার সঙ্গে রুম শেয়ার করতে হবে। যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়।
ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে একজন ট্রান্সমানুষ কখনোই তার শরীরের শতভাগ পরিবর্তন করতে সক্ষম নয়। সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ তারা পরিবর্তন করতে পারে। বাকি ৮০ শতাংশই তাদের অপরিবর্তিত থাকে। এক্ষেত্রে আমাদের নিরাপত্তার বিষয়টা থেকেই যায়। বিদেশে একটি কারাগারে এক অপরাধী তাকে ট্রান্সউইমেন দাবি করায় তাকে মহিলাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এরপরে দেখা যায় ওই কারাগারে তার দ্বারা আটজন নারী গর্ভবতী হয়। পরে তাকে পুনরায় পুরুষদের কারাগারে পাঠানো হয়। এরকম যদি হয় একজন পুরুষ আমাদের সঙ্গে হল শেয়ার করবে, রুম শেয়ার করবে, তার দ্বারা আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবো। এটা আমরা কখনোই চাই না। এর মাধ্যমে সমকামিতার বিজ আমাদের মাঝে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমি মেয়েদের প্রতিনিধি হয়ে এই কোটার বিলুপ্তি চাই।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ জোবায়ের বলেন, হিজড়া প্রকৃতিক বিষয় কিন্তু ট্রান্সজেন্ডার ভিন্ন বিষয়। একজন পুরুষে তিনটি বাচ্চা হওয়ার পর সে যদি দাবি করে, আমি এখন নারী হয়ে যাব। এখন তাকে কি মেয়ে হিসেবে মেনে নেওয়া হবে? তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্কুলার থেকে ট্রান্সজেন্ডার কোটা বাতিল করতে হবে।
বঙ্গমাতা হলের শিক্ষার্থী প্রিয়া বলেন, ট্রান্সজেন্ডার আর হিজড়া এক নয়। ট্রান্সজেন্ডাররা মানসিকভাবে বিকৃত। তাদের মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। এ মুহূর্তে ঢাবি বিশেষ কোটা চালুর কারণে সমাজে একটি বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হবে।
সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, ট্রান্সজেন্ডার কোটার নামে এলজিবিটিকে প্রোমোট করা হচ্ছে। এটি বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।










