ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে
- আপডেটঃ ০৩:৫৬:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩
- / ৯৫৭ বার পঠিত
রেকর্ডটা বারবার টিভি স্ক্রিনে ভেসে উঠছিল। সঙ্গে ধারাভাষ্যকার মার্ক রিচার্ডসনের কণ্ঠ। ঘরের মাঠে সব প্রতিপক্ষ মিলিয়ে টানা সর্বোচ্চ ১৮ ওয়ানডে জয়ের রেকর্ডটা অস্ট্রেলিয়ার। এর আগে ঘরের মাঠে টানা ১৭ ম্যাচ জেতা নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশকে হারাতে পারলেই রেকর্ডটি ছুঁয়ে ফেলত। সিরিজ জয়ের কাজটা প্রথম দুই ম্যাচ জেতায় আগেই সেরে ফেলেছে কিউইরা। শেষ ম্যাচে তাদের লক্ষ্য ছিল ধবলধোলাইয়ের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ডে ভাগ বসানো।
শনিবার ভোরে টসে জিতে স্বাগতিকদের আগে ব্যাটিংয়ে পাঠান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। এর পর বল হাতে তোপ দাগেন শরিফুল-সাকিব-সৌম্যরা। ফলে টাইগার পেসারদের বোলিং তোপে মাত্র ৯৮ রানেই অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড।
এর পর ৯৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১৫.১ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে দুর্দান্ত এক জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে কিউইদের বিপক্ষে নিজেদের উনিশতম ম্যাচে এসে প্রথম জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ।
কিউইদের দেওয়া ৯৯ রানের লক্ষ্যে আজ টাইগারদের হয়ে ব্যাটিং ইনিংসের সূচনা করেন সৌম্য ও এনামুল হক বিজয়। তবে বল হাতে তিন উইকেট তুলে নেওয়ার পর আজ ব্যাট হাতে নিজের পারফরম্যান্স দেখানোর সুযোগ পাননি আগের ম্যাচে ১৬৯ রান করা সৌম্য। ১৬ বল খেলে ৪ রান করার পর রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।
এর পর ক্রিজে বিজয়ের সঙ্গী হন অধিনায়ক শান্ত।এ দুজনের ব্যাটেই আজ ইতিহাস গড়া এক বিজয়ের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ। এ দুই টাইগার ব্যাটার মিলে গড়েছেন ৬৯ রানের এক জুটি। তবে দলীয় ৮৪ রানে উইলিয়াম ওরুর্কির শিকার হয়ে ৩৩ বলে ৭ চারে ৩৭ রান করে সাজঘরে ফিরে যান বিজয়।
তবে বিজয় ফিরলেও এদিন সহজেই ঐতিহাসিক এক জয়ের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ। বিজয় সাজঘরে ফেরার পর ক্রিজে অধিনায়ক শান্তর সঙ্গী হন লিটন দাস। এ দুজন মিলেই পরে জয়ের বন্দরে ভিড়িয়েছেন বাংলাদেশকে। আর জয়ের পথে দুর্দান্ত এক অর্ধশতক তুলে নিয়েছেন শান্ত, করেছেন ৪২ বলে ৮ চারে ৫১ রান।
এর আগে নেপিয়ারের ম্যাকলিন পার্কে ধবলধোলাই এড়ানোর লক্ষ্যে মাঠে নেমে টসে জিতে কিউইদের আগে ব্যাটিংয়ে পাঠান টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। আর বল হাতে শুরু থেকেই দাপট দেখাতে শুরু করেন বোলাররা। আর কিউইদের ডেরায় আজ প্রথম আঘাত হানেন তানজিম হাসান সাকিব। চতুর্থ ওভারের শেষ বলেই তরুণ এই পেসারের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে মুশফিক রহিমের গ্লাভসবন্দি হয়ে সাজঘরে ফিরেন রাঁচীন রবীন্দ্র।
কিউইদের দলীয় ১৬ রানে প্রথম উইকেট তুলে নেওয়ার পর দ্রুতই আরও এক উইকেট তুলে নেন সাকিব। অষ্টম ওভারে তার বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে শান্তর হাতে ক্যাচে পরিণত হয়ে সাজঘর ফিরেন হেনরি নিকোলস। ফলে দলীয় ২২ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েন কিউইরা। সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দেন শরিফুল ইসলাম।
১৬.৩ ওভারের সময় কিউই অধিনায়ক টম লাথামকে বোল্ড করেন টাইগার পেসার। এর পর কিউইদের স্কোরবোর্ডে আরও ৩ রান যোগ হতেই ফের আঘাত হানেন শরিফুল। এবার তার বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফিরেন আরেক ওপেনার উইল ইয়াং। ফলে ৬১ রানেই চার টপ অর্ডার ব্যাটারকে হারিয়ে বিপাকে পড়েন স্বাগতিকরা।
দুই টাইগার পেসারের সঙ্গে এর পর উইকেট তুলে নেওয়ার উৎসবে যোগ দেন সৌম্য সরকার। শরিফুল ও সাকিব আরও ২ উইকেট তুলে নেওয়ার পর কিউইদের শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন সৌম্য। সাজঘরে পাঠান জশ ক্লার্কসন ও অ্যাডাম মিলনেকে।
এর পর আর কিউইদের হাল ধরতে পারেনি কেউ। ফলে ৩১.৪ ওভারেই নিজেদের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে সব থেকে কম রান করার রেকর্ড গড়ে ৯৮ রানেই অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। টাইগারদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন শরিফুল, সৌম্য ও সাকিব।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড : ৩১.৪ ওভারে ৯৮
(ইয়াং ২৬, ল্যাথাম ২১, ক্লার্কসন ১৬, অশোক ১০; তানজিম ৩/১৪, সৌম্য ৩/১৮, শরীফুল ৩/২২, মোস্তাফিজ ১/৩৬)
বাংলাদেশ : ১৫.১ ওভারে ৯৯/১
(নাজমুল ৫১*, এনামুল ৩৭, সৌম্য ৪ আহত*, লিটন ১*; ও’রুরক ১/৩৩)
ফল : বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : তানজিম হাসান।
সিরিজ : নিউজিল্যান্ড ২–১ ব্যবধানে জয়ী।










