মৌসুমেও কমেছে না আলুর দাম
- আপডেটঃ ১১:১২:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩
- / ৯৭৪ বার পঠিত
বাজারে নতুন আলুর সরবরাহ বেড়েছে। তবু সবজি জাতীয় খাদ্যপণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে আসেনি। মৌসুমেও বেশ চড়া আলুর দাম। গত চার-পাঁচ দিনে কেজিতে আরও ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত ১৫ ডিসেম্বর আলু আমদানির অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। বাজারে এখন ভারতীয় আলুর সরবরাহ নেই। হিমাগারগুলোতে পুরোনো আলু প্রায় শেষ। নতুন আলু পুরোদমে ওঠা শুরু করেনি। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহে কিছুটা টান পড়েছে। এ কারণে দাম বাড়তির দিকে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর মালিবাগ, মগবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে নতুন ও পুরোনো আলুর কেজি পড়ছে ৮০ টাকা। পুরোনো আলুর দাম কোথাও কোথাও একটু কমে ৭০ টাকা কেজিতেও মিলছে। আবার নতুন আলু আকারে বেশি ছোট হলে সেটির দামও একটু কম রাখা হয়। তবে প্রমাণ সাইজের যেকোনো আলুই ৮০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। গত সপ্তাহ থেকে উভয় পদের আলুর দাম কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেড়েছে।
ঢাকার মালিবাগ বাজারের এক সবজি ব্যবসায়ী বলেন, ‘আলুর দাম কমার দিকে ছিল। কিন্তু এই মাসের শুরুতে একটা বৃষ্টি হয়। এরপরই বাজারে আলু কম আসতে শুরু করে। তাতে দামও বাড়তে থাকে। মৌসুমের শুরুতে নতুন আলুর দাম কয়েক দিন একটু বেশি থাকলেও পুরোনো আলুর দাম কখনো এত বেশি হতে দেখিনি।’
বাজারে নতুন আলু আসতে শুরু করায় স্থানীয় কৃষকদের সুরক্ষা দিতে নতুন করে আমদানির অনুমতি দেওয়ার চিন্তা নেই সরকারের। অন্যদিকে বাজারে পর্যাপ্ত আলু না আসায় দামও কমছে না।
বাজার–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ভারত থেকে আলু আমদানি বন্ধ হওয়ার কারণেও বাজার চড়ে গেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এ সময়ে এবারই সর্বোচ্চ দামে আলু বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া নভেম্বরেও আলুর কেজি ৫০ টাকার আশপাশে ছিল। এবার অন্যান্য সবজির দামও বেশি। এটিও আলুর বাড়তি দামের আরেকটি কারণ।
শুধু রাজধানী ঢাকাতেই নয়, আলুর উৎপাদনস্থলেও বেশি দাম দেখা গেছে। যেমন গতকাল সোমবার জয়পুরহাট শহরের নতুনহাটে নতুন আলু খুচরায় ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সেখানকার এক আলু ব্যবসায়ী বলেন, আগাম জাতের আলুর সরবরাহ কম হওয়ায় দাম কমছে না। তবে কয়েক দিনের মধ্যে আলুর সরবরাহ বাড়বে। তখন দাম দ্রুত নেমে আসবে বলে মনে করেন তিনি।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) গত রোববারের বাজারদরের তালিকানুযায়ী, ঢাকায় মানভেদে প্রতি কেজি নতুন ও পুরোনো আলু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। সরকারি সংস্থাটির হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত এক মাসে আলুর দাম বেড়েছে ৩৭ শতাংশের মতো। গত বছরের এই সময়ে ঢাকার বাজারে নতুন ও পুরোনো আলুর কেজি ছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা। এর মানে, দেশে এক বছরের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে ১৮৯ শতাংশ।
বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, হিমাগারে পুরোনো আলু শেষ। এখন নতুন আলুর সময়। তবে এবার উঁচু জমিতে আগাম জাতের আলুর ফলন ব্যাহত হয়েছে। অন্যথায় ডিসেম্বরের মাঝামাঝি বাজারে আলুর সরবরাহ ব্যাপকভাবে বাড়ত এবং দামও কমত।
সরবরাহ ঘাটতি দেখা দেওয়ায় গত অক্টোবরে দেশে আলুর দাম অস্বাভাবিক বেড়েছিল। তখন সর্বোচ্চ ৭০ টাকায় উঠে আলুর কেজি। দাম বাড়তে থাকায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আলুর সর্বোচ্চ খুচরা দর ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা বেঁধে দেয়। এরপরও বাজার নিয়ন্ত্রণে না আসায় কৃষি মন্ত্রণালয় গত ৩০ অক্টোবর আলু আমদানির অনুমতি দেয়। ভারত থেকে আমদানিও হয়েছে আলু। তাতে দাম কিছুটা কমে কেজি নেমেছিল ৪৪ থেকে ৪৫ টাকায়। সপ্তাহ খানেক ধরে ফের বাড়তে শুরু করেছে দাম।










