বছরজুড়ে হামলা চলবে গাজা উপত্যকায় ঘোষণা দিলো ইসরায়েল
- আপডেটঃ ০৩:৫১:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জানুয়ারী ২০২৪
- / ১০৪৬ বার পঠিত
হামলা দিয়েই বছর শেষ। নতুন বছরের শুরুটাও সেই হামলায়ই! অবরুদ্ধ গাজায় পুরোনো বছরের বিদায় আর নতুন বছরের অভ্যর্থনা এবার বোমা-বারুদেই হলো! নতুন বছরের প্রথম প্রহরে দেশে দেশে যখন বর্ষবরণের আতশবাজি ফুটছিল, গাজায় তখন ইসরাইলের বোমা! ঠিক যেন ২০২৩ সালেরই পুনরাবৃত্তির পূর্বাভাস ছড়িয়ে দিল ইসরাইল। চারদিকে ধ্বংসস্তূপ আর লাশ-পচা দুর্গন্ধ।
বছরজুড়ে হামলা চলবে গাজা উপত্যকায় বলে ঘোষণা দিলো ইসরায়েল। সোমবার (১ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে ইউরো নিউজ এ খবর জানায়।
মর্গে লাশের পাহাড়, হাসপাতালে হাসপাতালে গণকবর, খাবার নেই, পানি নেই, বাসস্থান নেই, চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই- আছে শুধু লাশ আর আকাশ ভরা হাহাকার! জাতিকে মেরুদণ্ডহীন করতে শিশুদের হত্যা- গত বছরের শেষ দুই মাসে এসবই ছিল গাজার দৈনন্দিন চিত্র। নিরীহ নিরস্ত্র বেসামরিকদের রক্তে প্রতিদিনই রক্তাক্ত হয়েছে গাজার শুকনো মাটি।
বর্বর ইসরাইলের নৃশঃসতায় এভাবেই শেষ হয় গাজার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর বছর। নির্দয়তায় এ কালো অধ্যায় থেকে নতুন বছরেও মুক্তি পাবে না গাজাবাসী। বরং ২০২৪ সালে জুড়েই চলবে গাজা যুদ্ধ। বছরের প্রথম দিনে সে হুঁশিয়ারিই দিল ইসরাইল। এএফপি, রয়টার্স, বিবিসি।
সোমবার ইসরাইলের সামরিক মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইডিএফ (ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী) অবশ্যই এই বছরজুড়ে অতিরিক্ত কাজ করবে এবং যুদ্ধের জন্য আমাদের কী প্রয়োজন হবে তা বুঝে আগে থেকে পরিকল্পনা করতে হবে। ’তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধের উদ্দেশ্য হাসিলে যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করতে হবে এবং আমরা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি।
সোমবার ইসরাইলের সামরিক মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইডিএফ (ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী) অবশ্যই এই বছরজুড়ে অতিরিক্ত কাজ করবে এবং যুদ্ধের জন্য আমাদের কী প্রয়োজন হবে তা বুঝে আগে থেকে পরিকল্পনা করতে হবে। ’তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধের উদ্দেশ্য হাসিলে যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করতে হবে এবং আমরা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
এমনকি নতুন বছরে লড়াইয়ের জন্য কয়েক হাজার সংরক্ষিত সেনার প্রয়োজন হবে বলেও জানিয়েছে সামরিক সেনা। নতুন বছরের শুরু হওয়ার আগে এক বার্তায় হাগারি আরও বলেন, ‘সেনাবাহিনী এখন পরিকল্পনা করছে কীভাবে সামনের মাসগুলোতে সেনা মোতায়েন করা যায়।
কিছু সংরক্ষিত সেনা এই সপ্তাহে তাদের পরিবার অর্থাৎ কর্মসংস্থানে ফিরে আসবে। এটি উল্লেখযোগ্যভাবে অর্থনীতির ওপর বোঝা কমিয়ে দেবে এবং তাদের আগামী বছরে আসন্ন কার্যক্রমের জন্য শক্তি সংগ্রহ করার অনুমতি দেবে, কারণ লড়াই অব্যাহত থাকবে এবং তাদের এখনো প্রয়োজন হবে।’
সোমবার ঘড়ির কাঁটা ঠিক ১২টায় হামাসের রকেট হামলার পর পালটা আক্রমণ চালায় ইসরাইলও। ইসরাইলের ভয়াবহ হামলায় রাতারাতি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে দুই ডজন মানুষ মারা যায়। হামাসের সশস্ত্র শাখা আল-কাসেম ব্রিগেড সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিওতে হামলার দায় স্বীকার করেছে। বলেছে, ইসরাইল দ্বারা পরিচালিত ‘বেসামরিক গণহত্যার প্রতিক্রিয়া’ হিসাবে এম৯০ রকেট ছুড়েছে তারা। তবে চলমান এ যুদ্ধে হতাশার দীর্ঘশ্বাস গাজার প্রতিটি ঘরে ঘরে।
পুরোনো স্মৃতি স্মরণ করে হামদান আবু (২০) বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে আমি আমার বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলছিলাম এবং আমাদের মনে পড়েছিল কীভাবে বছরের শেষ দিনে আমরা বাইরে যেতাম এবং সময় উপভোগ করতাম। কিন্তু এই নববর্ষের প্রাক্কালে সেখানে কেবল মিসাইলের অবশিষ্টাংশ রয়েছে।’ বাসাম হানা (২৯) নামে আরেক বাস্তচ্যুত বলেন, ‘আমরা ক্লান্ত এই যুদ্ধে আমরা পাঁচবার বাস্তুচ্যুত হয়েছি। আমরা আশা করি ২০২৪ সালে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং আমরা অন্য মানুষের মতোই বেঁচে থাকব। বর্তমানে আমরা পশুদের মতো বাস করছি।’ উল্লেখ্য, গাজায় ইসরাইলের প্রতিশোধমূলক স্থল, সমুদ্র ও বিমান হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ২১,৮২৮ জন নিহত হয়েছে।
ভূমধ্যসাগর ছাড়ছে মার্কিন রণতরি :
দুই মাসেরও বেশি সময় পর ভূমধ্যসাগর ছাড়ছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রোববার সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভার্জিনিয়ার নরফোক বন্দরে ফিরে যাবে বিমানবাহী রণতরি ও অন্যান্য জাহাজ। ক্যারিয়ার গ্রুপটি ভবিষ্যতে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুতি নিতে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসছে।’
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা থাকবে এবং ভূমধ্যসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ক্রুজার ও ডেস্ট্রয়ার মোতায়েনের নমনীয়তা থাকবে।’ দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘আজ তাদের ঘোষণা করার মতো কিছুই নেই।’ ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরাইল অভিযানের পরের দিন নৌবাহিনীকে এই অঞ্চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন। এবিসি নিউজ।










