ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইএমএফের লক্ষ্যমাত্রা কখনও পূরণ করা যাবে না

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটঃ ০৫:৫২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৪
  • / ৯৪৬ বার পঠিত

 

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) রিজার্ভের যে লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে তা কখনো পূরণ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আমাদের অর্থনীতির প্রাণ। অন্য দেশের তুলনায় আমাদের রিজার্ভ ভালো অবস্থায় আছে। তবে আইএমএফ যে টার্গেট দিয়েছে, সেটা কখনো পূরণ সম্ভব নয়।

 

মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে নিজ দফতরে সংবাদকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

 

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের লক্ষ্যমাত্রা কখনো পূরণ করা যাবে না। দেশে যত প্রবাসী আয় আসে, তা দ্বিগুণ করা সম্ভব। এত টালমাটাল পরিস্থিতির পরও দেশের রিজার্ভ ২৫-২৬ বিলিয়ন ডলার। এ বছর আমরা তা কোনোভাবেই ৩০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামতে দেব না। এটা সম্ভব।’

 

ব্যাংকের সুদহার বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ‘সুদহার আগের পর্যায়ে রেখে দিলে এখন তা ২২-২৪ শতাংশে উঠে যেত। তাতে আমাদের অর্থনীতি ও দেশের মানুষ হারিয়ে যেত, কিন্তু আমরা তা হতে দিইনি।

 

সুদহার আবার বাড়ার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সুদহার বাড়ছে, তা ঠিক। বাজার যদি তা নিতে পারে, তাহলে কেন বাড়বে না? কিন্তু সুদহার যখন বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, সে সময় ছোট, মাঝারি, এমনকি বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে বেশি সুদ দেওয়া সম্ভব ছিল না। এরপর খেলাপি ঋণ বেড়ে গেলে ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়িয়ে আমরা তা বাড়তে দিইনি। কিছু ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে বলে পত্রিকা থেকে জেনেছি, তা থাকবে না।

 

আবার অর্থমন্ত্রী হলে কী করবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘কে অর্থমন্ত্রী হবেন, তা জানি না। শপথ হলেই তা জানা যাবে।’ তবে সামগ্রিকভাবে তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিতে এখনো অনেক অনাবিষ্কৃত খাত আছে, এগিয়ে যেতে হলে আমাদের সেগুলো কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশকে আরও অনেক দূর যেতে হবে, সেটা সম্ভব।’

 

তখন এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, যথাযথ নীতি প্রণয়ন করা না হলে তা কীভাবে সম্ভব; কারণ, নতুন খাত আবিষ্কার করতে যথাযথ নীতির বিকল্প নেই। জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা ঠিক। আমরা সঠিক নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চাই।’

 

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলছে, ২০০৮ থেকে ২০২৩—এই ১৫ বছরে দেশের ব্যাংক খাত থেকে ছোট-বড় ২৪টি অনিয়মের মাধ্যমে ৯২ হাজার ২৬১ কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। এ বিষয়ে নতুন সরকারের কোনো পরিকল্পনা থাকবে কি না।

 

প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন সরকার এখনো গঠিত হয়নি। ফলে এখনই এ বিষয়ে কিছু বলা সমীচীন হবে না। তারা এর আগেও টাকার অবমূল্যায়নের কথা বলেছে; তা না হলে আমরা নাকি টিকতে পারব না। কিন্তু আমরা কি না খেয়ে আছি? বাজার থেকে কোনো জিনিস অবিক্রীত ফেরত আসে?’

 

মূল্যস্ফীতির বিষয়ে মুস্তফা কামাল জানান, মূল্যস্ফীতি অর্থনীতির জন্য জরুরি। যারা অর্থনীতি নিয়ে চিন্তা করেন না, তারা মূল্যস্ফীতি না চাইতে পারেন।

অর্থআদালতডটকম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার হতে বিরত থাকুন।

আইএমএফের লক্ষ্যমাত্রা কখনও পূরণ করা যাবে না

আপডেটঃ ০৫:৫২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৪

 

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) রিজার্ভের যে লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে তা কখনো পূরণ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আমাদের অর্থনীতির প্রাণ। অন্য দেশের তুলনায় আমাদের রিজার্ভ ভালো অবস্থায় আছে। তবে আইএমএফ যে টার্গেট দিয়েছে, সেটা কখনো পূরণ সম্ভব নয়।

 

মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে নিজ দফতরে সংবাদকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

 

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের লক্ষ্যমাত্রা কখনো পূরণ করা যাবে না। দেশে যত প্রবাসী আয় আসে, তা দ্বিগুণ করা সম্ভব। এত টালমাটাল পরিস্থিতির পরও দেশের রিজার্ভ ২৫-২৬ বিলিয়ন ডলার। এ বছর আমরা তা কোনোভাবেই ৩০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামতে দেব না। এটা সম্ভব।’

 

ব্যাংকের সুদহার বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ‘সুদহার আগের পর্যায়ে রেখে দিলে এখন তা ২২-২৪ শতাংশে উঠে যেত। তাতে আমাদের অর্থনীতি ও দেশের মানুষ হারিয়ে যেত, কিন্তু আমরা তা হতে দিইনি।

 

সুদহার আবার বাড়ার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সুদহার বাড়ছে, তা ঠিক। বাজার যদি তা নিতে পারে, তাহলে কেন বাড়বে না? কিন্তু সুদহার যখন বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, সে সময় ছোট, মাঝারি, এমনকি বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে বেশি সুদ দেওয়া সম্ভব ছিল না। এরপর খেলাপি ঋণ বেড়ে গেলে ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়িয়ে আমরা তা বাড়তে দিইনি। কিছু ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে বলে পত্রিকা থেকে জেনেছি, তা থাকবে না।

 

আবার অর্থমন্ত্রী হলে কী করবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘কে অর্থমন্ত্রী হবেন, তা জানি না। শপথ হলেই তা জানা যাবে।’ তবে সামগ্রিকভাবে তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিতে এখনো অনেক অনাবিষ্কৃত খাত আছে, এগিয়ে যেতে হলে আমাদের সেগুলো কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশকে আরও অনেক দূর যেতে হবে, সেটা সম্ভব।’

 

তখন এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, যথাযথ নীতি প্রণয়ন করা না হলে তা কীভাবে সম্ভব; কারণ, নতুন খাত আবিষ্কার করতে যথাযথ নীতির বিকল্প নেই। জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা ঠিক। আমরা সঠিক নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চাই।’

 

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলছে, ২০০৮ থেকে ২০২৩—এই ১৫ বছরে দেশের ব্যাংক খাত থেকে ছোট-বড় ২৪টি অনিয়মের মাধ্যমে ৯২ হাজার ২৬১ কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। এ বিষয়ে নতুন সরকারের কোনো পরিকল্পনা থাকবে কি না।

 

প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন সরকার এখনো গঠিত হয়নি। ফলে এখনই এ বিষয়ে কিছু বলা সমীচীন হবে না। তারা এর আগেও টাকার অবমূল্যায়নের কথা বলেছে; তা না হলে আমরা নাকি টিকতে পারব না। কিন্তু আমরা কি না খেয়ে আছি? বাজার থেকে কোনো জিনিস অবিক্রীত ফেরত আসে?’

 

মূল্যস্ফীতির বিষয়ে মুস্তফা কামাল জানান, মূল্যস্ফীতি অর্থনীতির জন্য জরুরি। যারা অর্থনীতি নিয়ে চিন্তা করেন না, তারা মূল্যস্ফীতি না চাইতে পারেন।