গাইবান্ধায় টানা ৭ দিন সূর্যের দেখা নেই
- আপডেটঃ ০১:২৩:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৪
- / ১০২৭ বার পঠিত
টানা সাত দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গাইবান্ধার জনজীবন। সূর্যের দেখা না যাওয়ায় ঠাণ্ডা বেশি অনুভূত হচ্ছে। এর আগে সর্বশেষ গত রোববার সূর্যের দেখা পাওয়া যায়।
আজ রোববার সকাল ৯টার দিকে জেলায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এই জেলায় এবার মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। ২৪ ঘণ্টা আগেও জেলার তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে বাড়ছে শীতজনিত বিভিন্ন রোগীর সংখ্যা। জেলা সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ক্লিনিকগুলোতে শীতজনিত রোগ নিয়ে শিশু ও বয়স্ক রোগীরা বেশি আসছে। এদের মধ্যে সর্দি, কাশি, জ্বর ও অ্যাজমায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।
অপরদিকে হিমেল হাওয়া ও মৃদু শৈত্যপ্রবাহে মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়ছেন খামারিসহ প্রান্তিক কৃষকরা। গবাদিপশুগুলোকে পুরনো কাঁথা, কম্বল, বস্তা, পুরনো জামা এবং যার যা আছে তাই দিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। তবে সব থেকে বেশি সমস্যায় রয়েছে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের গবাদিপশুগুলো।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের একজন বলেন, শীতে অবস্থা খুব কাহিল। এরকম ঠাণ্ডা ও শীত হলে আমার মতো বয়স্ক মানুষগুলোর খুব সমস্যা। এমনিতেই অসুখে চলতে পারি না।
রিকশাচালক মোখলেছুর রহমান বলেন, শীতে হাত-পা তব্দা লেগে আসে। রিকশার হ্যান্ডেল ধরে রাখা যায় না। তাই কষ্ট হলেও কিছুক্ষণ আগুন পোহানোর পর আবারও রিকশা নিয়ে বের হতে হয়।
কৃষক আব্দুল হাই মণ্ডল বলেন, ঠাণ্ডা বাতাসে গরু-ছাগল নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে শীতের হাত থেকে বাঁচতে গরুর গায়ে চট দিয়েছি।
কামারজানি ইউনিয়নের বাসিন্দা দিনমজুর আইনুল হক বলেন, সাত দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। ঠাণ্ডায় ছোট বাচ্চাদের নিয়ে চিন্তায় পড়েছি। ঠাণ্ডার কারণে জমিতে কাজ করতে যেতেও পারছি না।
রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দিন দিন গাইবান্ধা জেলার তাপমাত্রা কমে আসছে। শীত মৌসুমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীত আরও বাড়তে পারে। তবে আগামী ১৬ জানুয়ারি থেকে মেঘের আনাগোনা শুরু হতে পারে।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার জুয়েল মিয়া বলেন, শীতার্ত মানুষদের জন্য জেলার সাত উপজেলায় ৪৫ হাজার কম্বল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কম্বলগুলো ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিতরণ শুরু হয়েছে।










