গাজা যুদ্ধের শততম দিন আজ, ধ্বংস, মৃত্যু ও ক্ষুধার সঙ্গে লড়ছে
- আপডেটঃ ০২:২৫:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৪
- / ৯১৩ বার পঠিত
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের ১০০তম দিন আজ। গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে আকস্মিক রকেট হামলা চালিয়েছিল ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এর জেরে গাজায় আকাশপথে অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। পরবর্তীতে বিমান হামলার পাশাপাশি স্থল অভিযানে নামে ইসরায়েলি সেনারা।
টানা ছয় সপ্তাহ সংঘর্ষের পর গত ২৪ নভেম্বর সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় হামাস ও ইসরাইল। প্রথমে ৪ দিন বিরতি দিয়ে বন্দী বিনিময় চুক্তি হলেও পরে তা দুই দফায় আরও ৩ দিন বাড়ানো হয়। সাময়িক বিরতির সময় ইসরাইল থেকে জিম্মি হওয়া বন্দিদের মধ্যে বেশ কিছু জিম্মিকে মুক্তি দেয় হামাস। বিনিময়ে মুক্তি পাওয়া জিম্মিদের চেয়ে তিনগুণ বেশি ফিলিস্তিনি ইসরাইলের কারাগার থেকে ছাড়া পায়। পরে যুদ্ধবিরতি শেষে ফের ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় অভিযান শুরু করে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী।
গত ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হামলার ১০০তম দিন পর্যন্ত নিহত হয়েছে ২৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি। যাদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু। আর আহত হয়েছে ৬০ হাজারের বেশি। এ ছাড়া নিখোঁজ কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি। বিভিন্ন ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে গাজায় চলমান যুদ্ধ ১০০ দিনে গড়ানো এবং ইসরায়েলের নির্বিচার হামলা বন্ধের দাবিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ জানিয়েছেন। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে শনিবার ইসরায়েলের মিত্র আমেরিকাকে বার্তা দিতে মার্কিন দূতাবাসের সামনে এক সমাবেশে হাজারও মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। বেশ কয়েকটি এনজিওর সহযোগিতায় মালয়েশিয়ায় এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এই সময়ে আহত হয়েছেন ৬৪ হাজারের বেশি। এর মধ্যে গাজায় ৬০ হাজার ৫ এবং পশ্চিম তীরে ৪ হাজারের বেশি। বিপরীতে ইসরাইলে আহত হয়েছে ১২ হাজার ৪১৫। পাশাপাশি নিখোঁজ রয়েছেন কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি। ধারণা করা হয়, হামলার ঘটনায় তারা বিভিন্ন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন। অভিযানে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি ইসরাইলি সেনা আহত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিগত ১০০ দিনের হামলায় গাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে ৪৫-৫৬ শতাংশ। গাজার হাসপাতাল আংশিকভাবে কাজ করছে ৩৬টির মধ্যে মাত্র ১৫টি। ৫ লাখ ৭৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক ‘বিপর্যয়কর ক্ষুধা ও অনাহারের’ সম্মুখীন হয়েছে। গাজায় স্কুল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬৯ শতাংশের বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদের সংখ্যা ১৪২টি। ক্ষতিগ্রস্ত গীর্জার সংখ্যা ৩টি। ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাম্বুলেন্স ১২১টি। সোয়া ৬ লাখ স্কুল শিক্ষার্থীর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে।
আল জাজিরা আরও জানিয়েছে, গাজায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ১৮ লাখের বেশি। এছাড়া পশ্চিম তীরে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ১ হাজার ২০৮ ফিলিস্তিনি। অপরদিকে উত্তর ও দক্ষিণ সীমান্ত এলাকা থেকে আড়াই লাখের মতো ইসরাইলি বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
গত ৭ অক্টোবর হামাসের হাতে জিম্মি হয় ২৫০ জন। এর মধ্যে ১২১ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। হামাসের কাছে বন্দী থাকা অবস্থায় ইসরাইলি হামলায় ৩৩ জন বন্দী মারা গেছে। বর্তমানে হামাসের কাছে ১৩৬ জন জিম্মি আছে। অপরদিকে সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতির সময় ২৪০ ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে ইসরাইল।
উল্লিখিত সময়ে গাজায় ২৯ হাজার বোমা, গোলাবারুদ এবং শেল ফেলা হয়েছে। আর ইসরাইলের দিকে রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে ১৪ হাজার। যুদ্ধের শততম দিনে গাজার রাফাহ কুয়েতি হাসপাতালের চিকিৎসক সুহাইব আল-হামস সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই ১০০ দিন কীভাবে কেটে গেল? গাজাবাসী এই সময়গুলো তিক্ততার সঙ্গে, শহীদদের সঙ্গে, আহতদের নিয়ে সময় পার করেছে। তারা বেদনা, নিষ্ঠুরতা এবং দুঃখের দৃশ্য নিয়ে পার করেছে।’
তার কথায়, ‘শুধু বাড়িঘরই নয়, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলেরও ধ্বংস প্রত্যক্ষ করেছি। ইসরাইল বোমা হামলা করেছে হাসপাতাল, রাস্তা, মেডিকেল দল বা অ্যাম্বুলেন্স সবকিছুর ওপর। তারা কোনো কিছু বাদ দেয়নি।’
এদিকে যুদ্ধের ১০০তম দিনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুমকি দিয়ে বলেছেন, আমাদের অভিযান কেউ বন্ধ করতে পারবে না।
শনিবার এক প্রেস কনফারেন্সে তিনি বলেন, গাজা উপত্যকায় হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরাইলকে বিজয় অর্জন থেকে কেউ বাধা দিতে পারবে না। বিজয় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের যা করা প্রয়োজন, তা করব।
গতকাল শনিবার ইসরায়েলি হামলা বন্ধের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশে যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে ফিলিস্তিনপন্থী ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। গাজার প্রতি সংহতি জানিয়ে ডাক দেওয়া ‘গ্লোবাল ডে অব অ্যাকশন’-এর অংশ হিসেবে রাজপথে নেমে তারা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের দাবি জানায়। তবে গাজায় নির্বিচার হামলা ও গণহত্যা বন্ধের কোনো জোরালো সম্ভাবনা এখনো দেখা যাচ্ছে না।










