ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস সংকটের জন্য দুঃখ প্রকাশ প্রতিমন্ত্রীর, সংস্থাগুলোর মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটঃ ০৪:০৯:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৪
  • / ১০২৮ বার পঠিত

দিনের বেশির ভাগ সময় রান্নার চুলায় হয় গ্যাস থাকে না, নয়তো গ্যাসের চাপ খুবই কম থাকে। কয়েক মাস ধরেই রাজধানীর শাহজাহানপুর, যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর, কাজীপাড়া, রায়েরবাজারসহ বেশ কিছু এলাকায় এ অবস্থা চলছে।

 

প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতি রাজধানীর পাশের জেলা গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ অন্য বড় শহরগুলোতেও। চুলায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস থাকুক বা না থাকুক, একজন গ্রাহককে মাসে গ্যাস বিল (দুই চুলা) দিতে হয় ১ হাজার ৮০ টাকা। এই বিল এখন ৫১২ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে।

 

দেশব্যাপী গ্যাস সঙ্কটের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি এই সঙ্কট সমাধানের জন্য আগামী মার্চ পর্যন্ত সময় চেয়েছেন। মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার তিনি এ কথা বলেন।

 

এই সময়ের (মার্চ) মধ্যে গ্যাস সংকট সমাধান হয়ে যাবে বলেও আশ্বাস দেন নসরুল হামিদ। আশার খবর তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিবিয়ানাতে আরও ১ দশমিক ৬ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন কিউবিক ফিট) গ্যাসের নতুন মজুদ পাওয়া গেছে। সেটি আগামী কিছু দিনের মধ্যে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

 

চলমান গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের দুটি এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে একটি সংস্কারের জন্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে। এ কারণে শীতে চলমান গ্যাস সংকট আরও বেড়েছে। এলএনজি টার্মিনালটি সংস্কার শেষে দেশে না আসা পর্যন্ত গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো পেট্রোবাংলার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

 

অন্যদিকে, গ্যাস বিতরণ সংস্থাগুলোর মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব মানা হলে দুই চুলার ক্ষেত্রে মাসে বিল আসবে ১ হাজার ৫৯২ টাকা। অন্যদিকে এক চুলার জন্য এখন মাসে বিল দিতে হয় ৯৯০ টাকা। এই বিলও ৩৯০ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে কারিগরি কমিটি গঠন করেছে জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এ কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের সপক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে জমা দিতে দেশের ছয়টি গ্যাস বিতরণ সংস্থাকে গতকাল সোমবার চিঠি দিয়েছে ওই কমিটি। তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের পর চলতি জানুয়ারি মাসের মধ্যেই নিজেদের সিদ্ধান্ত কমিশনকে জানাবে তারা।

 

যাদের বাসায় গ্যাসের চুলা রয়েছে, তাদের একটি অংশ মাস শেষে গ্যাসের বিল জমা দেয়। তাদের বলা হয় মিটারবিহীন গ্রাহক। অন্যদিকে যাদের বাসায় গ্যাসের মিটার রয়েছে, তাঁরা যতটুকু গ্যাস ব্যবহার করেন, ঠিক ততটুকুই বিল দেন। তাঁদের বলা হয় প্রিপেইড মিটার গ্রাহক।

 

প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের মধ্যে যাঁদের বাসায় দুই চুলা রয়েছে, সে ধরনের একজন গ্রাহক মাসে সাধারণত সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪৫ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করেন। সেখানে মিটারবিহীন গ্রাহকেরা মাসে ৬০ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করেন, এমন হিসাব করে বিল নেওয়া হয়। মিটারবিহীন গ্রাহকেরা আরও বেশি গ্যাস ব্যবহার করেন। এ রকম হিসাব করে এখন বিল বৃদ্ধি করতে চায় বিতরণ সংস্থাগুলো।

 

বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৪৩ লাখ গ্রাহকের বাসাবাড়িতে গ্যাসের সংযোগ রয়েছে। এর মধ্যে প্রিপেইড গ্রাহক প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার।

অর্থআদালতডটকম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার হতে বিরত থাকুন।

গ্যাস সংকটের জন্য দুঃখ প্রকাশ প্রতিমন্ত্রীর, সংস্থাগুলোর মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব

আপডেটঃ ০৪:০৯:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৪

দিনের বেশির ভাগ সময় রান্নার চুলায় হয় গ্যাস থাকে না, নয়তো গ্যাসের চাপ খুবই কম থাকে। কয়েক মাস ধরেই রাজধানীর শাহজাহানপুর, যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর, কাজীপাড়া, রায়েরবাজারসহ বেশ কিছু এলাকায় এ অবস্থা চলছে।

 

প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতি রাজধানীর পাশের জেলা গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ অন্য বড় শহরগুলোতেও। চুলায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস থাকুক বা না থাকুক, একজন গ্রাহককে মাসে গ্যাস বিল (দুই চুলা) দিতে হয় ১ হাজার ৮০ টাকা। এই বিল এখন ৫১২ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে।

 

দেশব্যাপী গ্যাস সঙ্কটের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি এই সঙ্কট সমাধানের জন্য আগামী মার্চ পর্যন্ত সময় চেয়েছেন। মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার তিনি এ কথা বলেন।

 

এই সময়ের (মার্চ) মধ্যে গ্যাস সংকট সমাধান হয়ে যাবে বলেও আশ্বাস দেন নসরুল হামিদ। আশার খবর তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিবিয়ানাতে আরও ১ দশমিক ৬ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন কিউবিক ফিট) গ্যাসের নতুন মজুদ পাওয়া গেছে। সেটি আগামী কিছু দিনের মধ্যে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

 

চলমান গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের দুটি এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে একটি সংস্কারের জন্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে। এ কারণে শীতে চলমান গ্যাস সংকট আরও বেড়েছে। এলএনজি টার্মিনালটি সংস্কার শেষে দেশে না আসা পর্যন্ত গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো পেট্রোবাংলার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

 

অন্যদিকে, গ্যাস বিতরণ সংস্থাগুলোর মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব মানা হলে দুই চুলার ক্ষেত্রে মাসে বিল আসবে ১ হাজার ৫৯২ টাকা। অন্যদিকে এক চুলার জন্য এখন মাসে বিল দিতে হয় ৯৯০ টাকা। এই বিলও ৩৯০ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে কারিগরি কমিটি গঠন করেছে জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এ কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের সপক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে জমা দিতে দেশের ছয়টি গ্যাস বিতরণ সংস্থাকে গতকাল সোমবার চিঠি দিয়েছে ওই কমিটি। তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের পর চলতি জানুয়ারি মাসের মধ্যেই নিজেদের সিদ্ধান্ত কমিশনকে জানাবে তারা।

 

যাদের বাসায় গ্যাসের চুলা রয়েছে, তাদের একটি অংশ মাস শেষে গ্যাসের বিল জমা দেয়। তাদের বলা হয় মিটারবিহীন গ্রাহক। অন্যদিকে যাদের বাসায় গ্যাসের মিটার রয়েছে, তাঁরা যতটুকু গ্যাস ব্যবহার করেন, ঠিক ততটুকুই বিল দেন। তাঁদের বলা হয় প্রিপেইড মিটার গ্রাহক।

 

প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের মধ্যে যাঁদের বাসায় দুই চুলা রয়েছে, সে ধরনের একজন গ্রাহক মাসে সাধারণত সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪৫ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করেন। সেখানে মিটারবিহীন গ্রাহকেরা মাসে ৬০ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করেন, এমন হিসাব করে বিল নেওয়া হয়। মিটারবিহীন গ্রাহকেরা আরও বেশি গ্যাস ব্যবহার করেন। এ রকম হিসাব করে এখন বিল বৃদ্ধি করতে চায় বিতরণ সংস্থাগুলো।

 

বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৪৩ লাখ গ্রাহকের বাসাবাড়িতে গ্যাসের সংযোগ রয়েছে। এর মধ্যে প্রিপেইড গ্রাহক প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার।