শরীয়তপুরে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা, ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড
- আপডেটঃ ০৪:৩৭:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৪
- / ১০১৮ বার পঠিত
শরীয়তপুরের ডামুড্যায় এক নারীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে পাঁচ ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে শরীয়তপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সোহেল আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন। এ ছাড়া প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সাজা পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন নিজাম বালী (৪৫), মোহাম্মদ আলী (৩৫), ওমর ফারুক ব্যাপারী (২৪), আল আমীন ব্যাপারী (২০) ও ইব্রাহীম মোল্লা (২১)। তাঁরা ডামুড্যা উপজেলার দক্ষিণ শীতলকাঠী এলাকার বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর তিন আসামি পলাতক।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের ভূঁইয়া বাজার গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী নারী ফিরোজা বেগম ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল বিকেল ৫টার দিকে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। ২১ এপ্রিল বাড়ি থেকে দশ কিলোমিটার দূরে পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের বড় নওগাঁ এলাকার আব্দুর রহমান মাস্টারের বাড়ির পূর্ব পাশের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে তার ক্ষত-বিক্ষত মরেদহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরেরদিন ওই নারীর ছোট ভাই লাল মিয়া সরদার বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে ২ থেকে ৩ জনকে অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে শরীয়তপুর আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন। আসামিদের মধ্যে পাঁচজন জড়িত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করে পুলিশ। পরে ২৮ এপ্রিল ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিজাম বালীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরেরদিন ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা ওই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণের পর হত্যা করার কথা আদালতের কাছে স্বীকার করেন। আর অন্য দুই আসামি ইব্রাহিম ও আল-আমীন পলাতক আছেন। আর ওমর ফারুক জামিনে গিয়ে পলাতক। এ ঘটনায় পরবর্তীতে পুলিশ ওই পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ দুপুরে শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এ হত্যা ও ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
নিহত নারীর ছেলে বলেন, ‘আমার মাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আজ অভিযুক্ত পাঁচজনের ফাঁসির রায় দিয়েছেন আদালত। আমরা রায়ে খুশি হয়েছি। তবে সরকারের কাছে একটাই দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন এ রায় কার্যকর করা হয়। পলাতক তিনজনকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’
শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি অ্যাডভোকেট সানাল মিয়া বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক রায়। এক নারীকে গণধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই মামলায় পাঁচজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে সন্তুষ্ট।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাসরিন আক্তার বলেন, আমি এ মামলার রায়ে অসন্তুষ্ট ও এটা একটি মিথ্যে মামলা। প্রথম যখন মামলা হয়েছিলো, তখন এটা সিএ মামলা ছিল। সে মামলায় আসামি ছিল সব অন্য। আজকে যাদের আসামি করা হয়েছে, এদের ষড়যন্ত্র করে আসামি করা হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম আসামিরা খালাস পাবে কিন্তু আমাদের কাঙ্ক্ষিত রায় হয়নি। আমরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমরা উচ্চ আদালতে যাবো, আমরা আপিল করবো। আমরা আশা রাখি উচ্চ আদালত আসামিদের খালাস প্রদান করবেন।










