ধুলা পরিষ্কারের যন্ত্রেই ধুলার আস্তর
- আপডেটঃ ০৩:৪১:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৪
- / ১০৯২ বার পঠিত
সড়কে ধুলাবালুর যন্ত্রণায় নগরবাসী যখন অতিষ্ঠ, তখন রাস্তা পরিষ্কারের কাজে কোটি টাকায় কেনা রোড সুইপার ট্রাকগুলো অচল পড়ে আছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ধুলা পরিষ্কারের এসব যন্ত্রের গায়েই জমেছে ধুলার আস্তর।
সব মিলিয়ে ডিএনসিসিতে ধুলা পরিষ্কারের রোড সুইপার ট্রাক রয়েছে ১২টি। এর মধ্যে ৮টিই বর্তমানে অচল হয়ে পড়ে আছে ওয়ার্কশপে। অচল যন্ত্রগুলোর তিনটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া। বাকি পাঁচটির দুটি ঢাকা উত্তর সিটি নিজেদের টাকায় কিনেছে। তিনটি ডিএনসিসিতে বাস্তবায়িত একটি প্রকল্প থেকে পাওয়া।
সংস্থাটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রকৌশলীরা বলছেন, ছোট আকারের তিনটি (৫০০ কেজি ধারণক্ষমতার) রোড সুইপার দিয়ে রাস্তা ঝাড়ু দিতে গেলে ধুলা পরিষ্কার হওয়ার বদলে বাতাসে ওড়ে। তাই ব্যবহার করা যাচ্ছে না। মাঝারি আকারের (৩ টনের) দুটি রোড সুইপারের ধুলা পরিষ্কারের ব্রাশ ক্ষয় হয়ে গেছে। বড় আকারের তিনটির যান্ত্রিক ত্রুটি আছে। যন্ত্রাংশ বাইরে থেকে আনতে হবে।
অচল যন্ত্রের বিষয়ে তিনি বলেন, নিজেদের কেনা দুটি সুইপারের বিষয়ে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা বাইরে থেকে যন্ত্রাংশ আমদানি করে সচল করে দেবে। আর প্রকল্প থেকে পাওয়া দুটি সচল করতে ব্রাশ কেনার বিষয়ে দরপত্র প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়ে গেছে।
সরেজমিনে রাজধানীর গাবতলীতে ঢাকা উত্তর সিটির যান্ত্রিক শাখার ওয়ার্কশপে গিয়ে দেখা যায়, একটির পেছনে আরেকটি দাঁড় করিয়ে রাখা ছোট আকারের রোড সুইপার ২, ৩ ও ৪ নম্বরের তিনটি ট্রাকে ধুলা জমে আছে। ধুলার আস্তরে ঢেকে গেছে চালকের আসনের সামনের গ্লাসে থাকা ঢাকা উত্তর সিটির নাম লেখা স্টিকারও।
সেখানে বড় আকারের আরও ৫টি ধুলা পরিষ্কারের যন্ত্র। এগুলো রোড সুইপার ৮, ৯, ১০, ১১ ও ১২ নম্বরের। এর মধ্যে ১০ ও ১১ নম্বর বাদে বাকি তিনটিই দীর্ঘদিন অচল থাকায় যন্ত্রগুলোর ওপর ধুলা জমেছে। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটিতে থাকা আরও ৪টি রোড সুইপারের মধ্যে মাঝারি আকারের তিনটি রাখা হয়েছে মহাখালী আঞ্চলিক কার্যালয়ে, যার দুটি অচল। আর বড় আকারের সচল আরেকটি বেশির ভাগ সময় রাখা হয় ধলপুর ওয়ার্কশপে।
রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকা ধুলাদূষণে আক্রান্ত। এই বায়ুদূষণে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন বয়স্ক, শিশু, অন্তঃসত্ত্বা ও জটিল রোগে ভোগা ব্যক্তিরা। জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম)
২০২০ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অভিভাবকেরা যত শিশুকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান, তাদের ৪৯ শতাংশ শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত। এই সময়ে রাজধানীর বাতাসে ধুলা ও দূষণ বেড়ে যায়।










