শুরুর ধাক্কা কিছুটা সামলে নিয়েছে শেয়ারবাজার
- আপডেটঃ ০৫:০০:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৪
- / ৯২৯ বার পঠিত
তৃতীয় দফায় ফ্লোর প্রাইস আরোপের ১০ মাসেরও বেশি সময় পর গত বৃহস্পতিবার তা প্রত্যাহার করে নেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর গতকালই প্রথম লেনদেন হয়েছে শেয়ারবাজারে। এদিন লেনদেনের শুরুতেই বড় দরপতন ঘটে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তায় দিনশেষে শুরুর ধাক্কা কিছুটা সামাল দিতে পেরেছে শেয়ারবাজার।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতকাল লেনদেন শুরুর ৬ মিনিট পর শেয়ার বিক্রির চাপে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ২১৪ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট বা ৩ শতাংশের বেশি কমে যায়। দেড় ঘণ্টা পর বেলা সাড়ে ১১টায় সূচক দাঁড়ায় ৬ হাজার ১৯২ পয়েন্ট।
দিনশেষে অবশ্য সূচকটি সাড়ে ৯৬ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫২ শতাংশ কমে ৬ হাজার ২৪০ পয়েন্টে অবস্থান নেয়। এর আগের কার্যদিবস (গত বৃহস্পতিবার) লেনদেন শেষে সূচকটির অবস্থান ছিল ৬ হাজার ৩৩৭ পয়েন্টে। গতকাল সূচকটির পতনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ন্যাশনাল ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের শেয়ার।
ডিএসইর অন্য সূচকগুলোর মধ্যে গতকাল লেনদেন শেষে শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১৪ দশমিক ১২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭৪ পয়েন্টে। আগের দিন সূচকটির অবস্থান ছিল ১ হাজার ৩৮৮ পয়েন্টে। বাছাইকৃত শেয়ারের সমন্বয়ে গঠিত ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ দিনের ব্যবধানে ৭ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৩৭ পয়েন্টে। আগের দিন শেষে সূচকটির অবস্থান ছিল ২ হাজার ১২৯ পয়েন্টে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ফ্লোর প্রাইসে যেসব শেয়ারের দর আটকে ছিল না গতকাল লেনদেন শুরুর পর থেকেই সেগুলো বিক্রি করে দিতে শুরু করেন বিনিয়াগকারীরা। এতে লেনদেনের শুরুতেই বড় দরপতন হয়। তবে প্রাতিষ্ঠানিকসহ একশ্রেণীর বিনিয়োগকারী যেসব শেয়ারে বেশি বিক্রির আদেশ ছিল, সেগুলো কিনে নিতে শুরু করলে দরপতনের তীব্রতা কিছুটা স্তিমিত হয়ে আসে।
অবশ্য দিনভরই শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা গেছে। ফ্লোর প্রাইসের বাইরে থাকা প্রভাবশালী দুই কোম্পানি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের শেয়ার গতকাল সূচকের দরপতনের রাশ টেনে ধরতে ভূমিকা রেখেছে।
গতকাল ডিএসইতে মোট ৫৮৮ কোটি ৮৭ লাখ ৪ হাজার টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে। এর আগের দিন যেখানে লেনদেন হয়েছিল ৬৩৭ কোটি ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। সে হিসাবে এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন কমেছে ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৪৮৬টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিনশেষে দর বেড়েছে ৫৪টির, কমেছে ২৯৬টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৩৬টি সিকিউরিটিজের শেয়ারদর।
লেনদেনচিত্র অনুসারে, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ দখলে ছিল প্রকৌশল খাতের। ৯ দশমিক ৯ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে ছিল ব্যাংক খাত। মোট লেনদেনের ৯ দশমিক ৩ শতাংশের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল সাধারণ বীমা খাত।
আর খাদ্য খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। গতকাল ডিএসইতে ইতিবাচক রিটার্নের দিক দিয়ে শীর্ষে পাট, সিমেন্ট ও বিবিধ খাত। অন্যদিকে নেতিবাচক রিটার্নের শীর্ষে ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বস্ত্র ও মিউচুয়াল ফান্ড খাত।
সিএসইর নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ২৮৩ পয়েন্ট কমে ১০ হাজার ৯৬৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১১ হাজার ২৪৭ পয়েন্টে। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই গতকাল ৪৭৭ পয়েন্ট কমে ১৮ হাজার ৩২৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১৮ হাজার ৭৮৩ পয়েন্টে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ২১৮টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৪১টির, কমেছে ১৫৮টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৯টির বাজারদর। গতকাল সিএসইতে ১২ কোটি ৭৪ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে। এর আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
প্রসঙ্গত, ফ্লোর প্রাইসের কারণে গত বছর দেশের পুঁজিবাজার এক প্রকার স্থির হয়ে ছিল। এ সময় সূচকের ওঠানামা সীমাবদ্ধ ছিল ২০০ পয়েন্টে এবং আগের বছরের তুলনায় দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। ফ্লোর প্রাইস আরোপের কারণে বাজারে থাকা শেয়ারের বড় একটি অংশই লেনদেন হয়নি এবং এতে বাজারের তারল্যপ্রবাহ কমে গেছে।










