গাছ-বাঁশের খুঁটিতে বিদ্যুতের লাইন, ঝুঁকিতে শত শত মানুষ
- আপডেটঃ ১২:০৬:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৪
- / ১০৩০ বার পঠিত
গাছ, বাঁশ ও জীবন্ত গাছকে খুঁটি বানানো হয়েছে। এসব খুঁটি দিয়েই বিদ্যুতের তার টেনে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব খুঁটির কোনোটা ভেঙে বিদ্যুতের তার মাটি ছুঁইছুঁই। অনিরাপদ এই লাইনের কারণে মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা। বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা এলাকাবাসীর। বিদ্যুৎপ্রবাহ আইন ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) নীতিমালা পরিপন্থী বিদ্যুৎ লাইনের এমন অব্যবস্থাপনার চিত্র মৌলভীবাজারের বড়লেখায়। পাশাপাশি ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল, লো ভোল্টেজের ভোগান্তিতে আছেন এলাকার দুইশতাধিক গ্রাহক।
কুলাউড়া উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নের গাজীপুর গাঙপাড় গ্রামে ৭০০ মিটার জায়গায় বিদ্যুৎ সঞ্চালনের পাকা খুঁটি নেই। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চললেও ঝুঁকিপূর্ণ লাইনটি সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুলাউড়া উপজেলা সদর থেকে গাজীপুর চা-বাগানে যাওয়ার পাকা সড়কের পাশে গাজীপুর গাঙপাড় গ্রাম পড়েছে। সেখানে গোগালিছড়া নদীর পারে বেশ কিছু পরিবারের বসবাস। গ্রামের মাহবুব আহমেদের বাড়ি থেকে গাজীপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসা পর্যন্ত অন্তত ৭০০ মিটার জায়গায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে কোনো খুঁটি নেই। সেখানে বিভিন্ন বাড়ির সুপারিগাছ ও বেড়ায় লাগানো বাঁশ-কাঠের খুঁটির ওপর ভর করে ৪৪০ ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন টানানো হয়। ওই লাইন থেকে আশপাশের বাড়িঘরে সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসী বলেন, ওই স্থানটি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) আওতায় পড়েছে। এ ঝুঁকিপূর্ণ লাইন থেকে অন্তত শতাধিক পরিবারে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বেশির ভাগ পরিবার দরিদ্র। ঝোড়োবাতাসে প্রায়ই লাইন ছিঁড়ে পড়ে। তখন গ্রাহকেরা চাঁদা তুলে স্থানীয় মিস্ত্রিদের দিয়ে লাইন মেরামত করান।
এলাকাবাসী আরও বলেন, কয়েকটি পাকা খুঁটি স্থাপন করে লাইন টানার বিষয়ে চার-পাঁচ বছর আগে তাঁরা বিউবোর স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় খরচ বাবদ ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই টাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। এর পর থেকে লাইনটি এভাবে পড়ে রয়েছে।
বিউবো কুলাউড়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী উসমান গণি বলেন, ‘এলাকাবাসীর লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। গাছ ও বাঁশ দিয়ে জোর করে তো কারো বাড়িতে লাইন দেওয়া হয়নি। তখন স্থানীয় নেতাদের জোরাজুরি, তদবিরে লাইন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এটা ঠিক গাছ ও বাঁশের খুঁটি এবং এক লাইন দিয়ে বিদ্যুৎ দেওয়ার কোনো বিধান নাই।
তবে এখন নতুন করে এভাবে লাইন দেওয়া হচ্ছে না। একটা প্রজেক্ট আসছে। সমস্যার সমাধান হবে। কিছু পরিবর্তন কাজ শুরু হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘রবিউল নামে আমাদের কোনো কর্মী নাই। বিউবোর নামে যদি কেউ চাঁদাবাজি করে আমরা কি করব।’










