গাজায় সহায়তা বন্ধ করল ৯ দেশ, জাতিসংঘের নিন্দা
- আপডেটঃ ০৫:৪৩:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৪
- / ৯০৯ বার পঠিত
সাড়ে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে ফিলিস্তিনের গাজায় আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার ইসরায়েলি সেনারা। তাদের নির্বিচার হামলায় ইতোমধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে অবরুদ্ধ উপত্যকার বেশিরভাগ অংশ। নিরাপদ পানি, খাদ্য আর ওষুধের অভাবে মানবেতর জীবন পার করছে সেখানকার প্রতিটা বাসিন্দা। এমন পরিস্থিতিতেই মার্কিন নেতৃত্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজাবাসীর জন্য সব ধরনের ত্রাণ সহায়তা বন্ধ ঘোষণা করল ৮টি দেশ।
এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক জাতিসংঘের এজেন্সি ইউএনআরডব্লিউএ। দেশগুলোর এমন সিদ্ধান্তকে তারা হতাশাজনক বলে অভিহিত করেছে।
ইউএনআরডব্লিউএর প্রধান ফিলিপ্পে লাজারিনি বলেছেন, গাজায় প্রাথমিক মানবিক সহায়তাদানকারী এজেন্সি ইউএনআরডব্লিউএ। কমপক্ষে ২০ লাখ মানুষের বেঁচে থাকার জন্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলে রকেট হামলা চালায় হামাস। কিন্তু ইসরাইলের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয় এ হামলায় হামাসের সঙ্গে ইউএনআরডব্লিউএর কিছু স্টাফও জড়িত।
ফলে ব্রিটেনসহ ৯ দেশ গাজায় শরণার্থীদের জন্য যে অর্থ সহায়তা দিত তা স্থগিত করেছে। এ সহায়তা যেত ইউএনআরডব্লিউএর মাধ্যমে। যাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এসেছে, তাদের পরে বরখাস্ত করেছে ইউএনআরডব্লিউএ। কিন্তু সহায়তা বন্ধ হয়ে আছে। সহায়তা বন্ধ করা দেশগুলো হলো- অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র।
১৯৪৯ সালে সৃষ্টি করা হয় ইউনাইটেড রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্কস এজেন্সি (সংক্ষেপে যা ইউএনআরডব্লিউএ)। গাজায় কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী এটিই জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় এজেন্সি।
তারা গাজা, পশ্চিমতীর, জর্ডান, লেবানন ও সিরিয়ায় ফিলিস্তিনিদের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অন্য মানবিক সহায়তা দিয়ে থাকে। গাজার ভেতরে আছে তাদের ১৩ হাজার কর্মী। হামাসের রকেট হামলার জবাবে ইসরাইল ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু করলে ইউএনআরডব্লিউএ গাজাজুড়ে তাদের বিভিন্ন স্থাপনায় আশ্রয় দেয় বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে। ইউএনআরডব্লিউএর কিছু কর্মী হামাসের হামলার সঙ্গে যুক্ত, এই অভিযোগ করে ইসরাইল। তাদের অভিযোগ জাতিসংঘের বিভিন্ন শাখা সেখানে পক্ষপাতিত্ব করছে।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার লাজারিনি বলেন, অল্প কিছু স্টাফের বিরুদ্ধে অভিযোগের জবাবে এজেন্সির তহবিল সরবরাহ স্থগিত করা হতাশাজনক। অভিযুক্ত স্টাফদের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে একটি এজেন্সির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া দায়িত্বহীনের কাজ। অল্প কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগে এমনটা করা হয়েছে। বিশেষ করে তা করা হয়েছে যুদ্ধের সময়, যখন বাস্তুচ্যুত এবং রাজনৈতিক সংকটে অঞ্চলটি ভুগছে। তিনি আরও বলেন, ইসরাইলসহ যেসব দেশ তহবিল দেয় তাদের কাছে প্রতি বছর স্টাফদের তালিকা সরবরাহ করে থাকে ইউএনআরডব্লিউএ। কোনো নির্দিষ্ট সদস্যের বিষয়ে কখনই কোনো অভিযোগ পায়নি এজেন্সি।
লাজারিনি বলেন, জাতিসংঘের অফিস অব ইন্টারনাল ওভারসাইট সার্ভিসেসের তদন্তে এ অভিযোগের সত্যতা বেরিয়ে আসবে।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই জাতিসংঘের এই সংস্থার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে আসছে ইসরায়েল। সর্বশেষ জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থাটিতে অর্থায়ন না করার ঘোষণা দিয়ে বসলো যুক্তরাষ্ট্র ও ৮ টি দেশ। যদিও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বরখাস্ত ও একটি সুষ্ঠু তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘের এই সংস্থাটি।










