যুক্তরাষ্ট্র ইইউ যুক্তরাজ্যের নতুন নিষেধাজ্ঞা ইরানের ওপর
- আপডেটঃ ০২:০৩:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
- / ৯৪৪ বার পঠিত
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র দমনপীড়নের প্রতিক্রিয়ায় তেহরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ পশ্চিম এশীয় দেশটির মোল্লাতন্ত্রের ওপর চাপ বাড়াতে সোমবার তারা এ নিষেধাজ্ঞা দেয় বলে জানা গেছে।
ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর সম্পর্ক এমনিতেই ভালো না, সেপ্টেম্বরে নীতি পুলিশ হেফাজতে কুর্দি নারী মাহ্শা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতা দমনে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির সরকারি বাহিনীগুলো যে ভয়াবহ দমনপীড়ন চালায়, তার প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কের ফাটল আরো বৃদ্ধি করেছে।
গত সপ্তাহে জর্ডানে সিরিয়া সীমান্তবর্তী মার্কিনঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় তিন সেনা নিহত ও ৪০ জনের বেশি আহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে শুক্রবার ইরাক ও সিরিয়ায় সাতটি ইরানি স্থাপনার ৮৫ লক্ষ্য বস্তুতে বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এর পরই প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নতুন এ নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন দিলেন।
মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছে, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো আইআরজিসির সাইবার-ইলেক্ট্রনিক কমান্ডের ৬ কর্মকর্তা এবং ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন কর্মসূচির জন্য উপকরণ সরবরাহকারী ইরান ও হংকংভিত্তিক সরবরাহকারীদের একটি নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করে দেওয়া হয়েছে।
তাতে দেখা যাচ্ছে, নতুন নিষেধাজ্ঞায় ১৮ ব্যক্তি ও ১৯টি প্রতিষ্ঠান পড়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া কর্মকর্তারা ইইউ-তে যেতে পারবেন না, ইইউ-তে থাকা তাদের সম্পদও জব্দ হতে পারে। সদস্যভুক্ত অনেক দেশ পুরো আইআরজিসিকে ইইউ-র ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর’ তালিকায় অন্তর্ভুক্তের জোর দাবি জানালেও জোটের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান জোসেফ বোরেল বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া কেবল তখনই সম্ভব হবে যখন ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত কোনো দেশ আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী বলে দোষী সাব্যস্ত করবে।
যুক্তরাজ্যও সোমবার ইরানি জনগণের ওপর ‘নির্মম নিপীড়ন’ চালানোর অভিযোগে একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাজ্যে ইরানের সহকারী প্রসিকিউটর জেনারেল আহমাদ ফাজেলিয়ানের কোনো সম্পদ থেকে থাকলে, তা জব্দ হবে। অন্যায্য বিচার ব্যবস্থা, যেখানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মৃত্যুদণ্ডকে ব্যবহার করা হয়, তার জন্য ফাজেলিয়ানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর।
সোমবার যুক্তরাজ্য যাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তাদের মধ্যে আরো আছে ইরানের স্থলবাহিনীগুলোর কমান্ডার কিউমারস হাইদারি, আইআরজিসির ডেপুটি কমান্ডার হোসেইন নেজাত। বাসিজ প্রতিরোধ বাহিনী এবং এর ডেপুটি কামন্ডার সালার আবনুশ, বাসিজ মিলিশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাসিজ কোঅপারেটিভ ফাউন্ডেশন এবং ইরানের আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার কাসেম রেজাই-র নামও এই তালিকায় ঢুকেছে। এ নিয়ে মাহ্শা আমিনির মৃত্যুর পর যুক্তরাজ্য ইরানের ওপর নতুন অর্ধশত নিষেধাজ্ঞা দিল, বলেছে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর।










