বিলাওয়ালকে প্রধানমন্ত্রী করার শর্তে পিএমএল-এনের সাথে জোটে রাজি পিপিপি
- আপডেটঃ ০৬:৫৯:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
- / ৯৭১ বার পঠিত
পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান ও ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিকে প্রধানমন্ত্রী বানানোর শর্তে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) দলের সাথে পিপিপি সমঝোতায় রাজি আছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়াও আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পিপিকে দেওয়া হলে শেহবাজ শরিফের দলের সাথে পিপিপি জোট সরকার গঠন করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচনে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর কোনোটিই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় জোট সরকারই অবধারিত। সেই লক্ষ্যেই দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন প্রধান প্রধান দলগুলোর নেতারা।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, জোট সরকার গড়তে গত শুক্রবার (৯ ফ্রেব্রুয়ারি) থেকে পাকিস্তান পিপল’স পার্টি (পিপিপি) ও মুত্তাহিদা কোমি মুভমেন্ট পাকিস্তানের (এমকিউএম-পি) সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ (পিএমএল-এন)।
জিও নিউজের এক প্রতিবেদন মতে, আলোচনায় পিএমএল-এনের সঙ্গে জোট সরকারের ব্যাপারে একমত হয়েছে পিপিপির কো-চেয়ারম্যান আসিফ আলি জারদারি। তবে শর্ত একটাই। ছেলে বিলাওয়ালকে প্রধানমন্ত্রী পদে বসাতে হবে। তবে জারদারির এই প্রস্তাবে পিএমএল-এন রাজি হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে এখনও জানা যায়নি। শাহবাজ শরিফ বা পিএমএল-এনের অন্য কোনো নেতা বিষয়টি স্পষ্ট করেননি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগারে রেখে ও তার দল তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক দমনপীড়নের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচিত অনুষ্ঠিত হয়। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির ২৬৬টি আসনের মধ্যে ২৬৫টির (একটিতে স্থগিত) পাশাপাশি প্রাদেশিক সরকার নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হয়।পরদিন শুক্রবারের (৯ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে পুরো ফলাফল ঘোষণা করার কথা থাকলেও পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন (ইসিপি) তা পারেনি বা করেনি। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার প্রায় ১২ ঘণ্টা পর ফল প্রকাশ শুরু হলেও তা ছিল খুবই ধীরগতিতে।
ফলাফল প্রকাশে দেরি হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন রাজনৈতিক দলগুলো। উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও। চারদিন পর রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এসে ২৬৫টি আসনের মধ্যে ২৬৪টির ফল জানা গেছে। একটিতে স্থগিত করা হয়েছে।
ইসিপির ফল অনুযায়ী, ২৬৪ আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০১ আসনে জয় পেয়েছেন ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ৭৫ আসনে জয় পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)।
প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো ও সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) পেয়েছে ৫৪ আসন।
আর মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট পাকিস্তান (এমকিউএম) ১৭ আসনে জয়ী হয়েছে। কোনো দলই এককভাবে সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় ১৩৪ আসন না পাওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোকে জোটের পথেই যেতে হচ্ছে।










