ঢাকা , বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথানত না করতে: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটঃ ০৪:৪২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ৯৭৯ বার পঠিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘একুশ (২১ ফেব্রুয়ারি) আমাদের শিখিয়েছে মাথানত না করতে। কাজেই আমরা মাথানত করে নয়, মাথা উঁচু করেই চলব এবং বিশ্ব দরবারে মর্যাদা নিয়ে এগিয়ে যাব।’

 

আজ মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির মাঝে ‘একুশে পদক-২০২৪’ প্রদান অনুষ্ঠানে দেওয়া প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন সরকারপ্রধান।

 

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২১তম বারের মতো বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘একুশে পদক’ বিজয়ীদের হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মরণোত্তর পদক বিজয়ীদের পক্ষে তাদের স্বজনরা পদক গ্রহণ করেন।

 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথানত না করতে। কাজেই আমরা মাথানত করে নয়, মাথা উঁচু করেই চলব এবং বিশ্বদরবারে মর্যাদা নিয়ে এগিয়ে যাব।’

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জাতির পিতা আমাদের শুধু স্বাধীনতাই দিয়ে যাননি, তিনি সেই সঙ্গে আমাদের একটা মর্যাদাবোধ দিয়ে গেছেন। বিজয়ী জাতি হিসেবে সারা বিশ্বে আমরা মাথা উঁচু করেই চলতে চাই। এই কথাটা সকলকে মনে রাখতে হবে।’

 

১৯৭২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে জাতির পিতা যখন শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন, সে সময় তাঁর দেওয়া ভাষণের চুম্বকাংশ উদ্ধৃত করেন প্রধানমন্ত্রী। জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘১৯৫২ সালের আন্দোলন কেবলমাত্র ভাষা আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; এই আন্দোলন ছিল সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা আমাদের যে মর্যাদা দিয়ে গিয়েছিলেন, সেই মর্যাদাটা পঁচাত্তরের পর বাঙালি জাতি হারিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু আজ আমি অন্তত এইটুকু দাবি করতে পারি, আবার বাঙালি বিশ্বের দরবারে এখন মাথা উঁচু করে চলতে পারে। সেই মর্যাদা আমরা ফিরিয়ে এনেছি। আর এই মর্যাদা আমাদের সমুন্নত রেখেই আগামীর দিনে এগিয়ে যেতে হবে।’

 

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘কারও কাছে হাত পেতে নয়, ভিক্ষা করে নয়, আমরা আত্মমর্যাদা নিয়ে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে চলব। কারণ, একুশ আমাদের মাথানত না করা শিখিয়েছে। কাজেই, আমরা মাথানত করে নয়, মাথা উঁচু করে চলব।’

 

এবার একুশে পদকে ভূষিত ব্যক্তিরা হচ্ছেন, ভাষা আন্দোলনে মৌ. আশরাফুদ্দীন আহমদ (মরণোত্তর), ভাষা আন্দোলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলী মিয়া (মরণোত্তর), শিল্পকলায় (সংগীত) জালাল উদ্দীন খাঁ (মরণোত্তর), শিল্পকলায় (সংগীত) বীর মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণী ঘোষ, শিল্পকলায় (সংগীত) বিদিত লাল দাস (মরণোত্তর), শিল্পকলায় (সংগীত) এন্ড্রু কিশোর (মরণোত্তর), শিল্পকলায় (সংগীত) শুভ্রদেব, শিল্পকলায় (নৃত্যকলা) শিবলী মহম্মদ, শিল্পকলায় (অভিনয়) ডলি জহুর, শিল্পকলায় (অভিনয়) চিত্রনায়ক এম এ আলমগীর, শিল্পকলায় (আবৃত্তি) খান মো. মুস্তাফা ওয়ালীদ (শিমুল মুস্তাফা), শিল্পকলায় (আবৃত্তি) রূপা চক্রবর্তী, শিল্পকলায় (চিত্রকলা) শাহজাহান আহমেদ বিকাশ, শিল্পকলায় (মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ ও আর্কাইভিং) কাওসার চৌধুরী, সমাজসেবায় মো. জিয়াউল হক, সমাজসেবায় রফিক আহামদ, ভাষা ও সাহিত্যে মুহাম্মদ সামাদ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য), ভাষা ও সাহিত্যে লুৎফর রহমান রিটন, ভাষা ও সাহিত্যে মিনার মনসুর, ভাষা ও সাহিত্যে রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ (মরণোত্তর) ও শিক্ষায় অধ্যাপক জিনবোধি ভিক্ষু।

 

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন পদক বিতরণ পর্ব সঞ্চালনা করেন এবং পদক বিজয়ীদের ‘সাইটেশন’ পাঠ করেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসনা জাহান খানম স্বাগত বক্তব্য দেন।

 

সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, দেশবরেণ্য বুদ্ধিজীবী, কবি, সাহিত্যিক, শিল্পীসহ বিশিষ্ট আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অর্থআদালতডটকম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার হতে বিরত থাকুন।

একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথানত না করতে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটঃ ০৪:৪২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘একুশ (২১ ফেব্রুয়ারি) আমাদের শিখিয়েছে মাথানত না করতে। কাজেই আমরা মাথানত করে নয়, মাথা উঁচু করেই চলব এবং বিশ্ব দরবারে মর্যাদা নিয়ে এগিয়ে যাব।’

 

আজ মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির মাঝে ‘একুশে পদক-২০২৪’ প্রদান অনুষ্ঠানে দেওয়া প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন সরকারপ্রধান।

 

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২১তম বারের মতো বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘একুশে পদক’ বিজয়ীদের হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মরণোত্তর পদক বিজয়ীদের পক্ষে তাদের স্বজনরা পদক গ্রহণ করেন।

 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথানত না করতে। কাজেই আমরা মাথানত করে নয়, মাথা উঁচু করেই চলব এবং বিশ্বদরবারে মর্যাদা নিয়ে এগিয়ে যাব।’

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জাতির পিতা আমাদের শুধু স্বাধীনতাই দিয়ে যাননি, তিনি সেই সঙ্গে আমাদের একটা মর্যাদাবোধ দিয়ে গেছেন। বিজয়ী জাতি হিসেবে সারা বিশ্বে আমরা মাথা উঁচু করেই চলতে চাই। এই কথাটা সকলকে মনে রাখতে হবে।’

 

১৯৭২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে জাতির পিতা যখন শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন, সে সময় তাঁর দেওয়া ভাষণের চুম্বকাংশ উদ্ধৃত করেন প্রধানমন্ত্রী। জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘১৯৫২ সালের আন্দোলন কেবলমাত্র ভাষা আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; এই আন্দোলন ছিল সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা আমাদের যে মর্যাদা দিয়ে গিয়েছিলেন, সেই মর্যাদাটা পঁচাত্তরের পর বাঙালি জাতি হারিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু আজ আমি অন্তত এইটুকু দাবি করতে পারি, আবার বাঙালি বিশ্বের দরবারে এখন মাথা উঁচু করে চলতে পারে। সেই মর্যাদা আমরা ফিরিয়ে এনেছি। আর এই মর্যাদা আমাদের সমুন্নত রেখেই আগামীর দিনে এগিয়ে যেতে হবে।’

 

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘কারও কাছে হাত পেতে নয়, ভিক্ষা করে নয়, আমরা আত্মমর্যাদা নিয়ে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে চলব। কারণ, একুশ আমাদের মাথানত না করা শিখিয়েছে। কাজেই, আমরা মাথানত করে নয়, মাথা উঁচু করে চলব।’

 

এবার একুশে পদকে ভূষিত ব্যক্তিরা হচ্ছেন, ভাষা আন্দোলনে মৌ. আশরাফুদ্দীন আহমদ (মরণোত্তর), ভাষা আন্দোলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলী মিয়া (মরণোত্তর), শিল্পকলায় (সংগীত) জালাল উদ্দীন খাঁ (মরণোত্তর), শিল্পকলায় (সংগীত) বীর মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণী ঘোষ, শিল্পকলায় (সংগীত) বিদিত লাল দাস (মরণোত্তর), শিল্পকলায় (সংগীত) এন্ড্রু কিশোর (মরণোত্তর), শিল্পকলায় (সংগীত) শুভ্রদেব, শিল্পকলায় (নৃত্যকলা) শিবলী মহম্মদ, শিল্পকলায় (অভিনয়) ডলি জহুর, শিল্পকলায় (অভিনয়) চিত্রনায়ক এম এ আলমগীর, শিল্পকলায় (আবৃত্তি) খান মো. মুস্তাফা ওয়ালীদ (শিমুল মুস্তাফা), শিল্পকলায় (আবৃত্তি) রূপা চক্রবর্তী, শিল্পকলায় (চিত্রকলা) শাহজাহান আহমেদ বিকাশ, শিল্পকলায় (মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ ও আর্কাইভিং) কাওসার চৌধুরী, সমাজসেবায় মো. জিয়াউল হক, সমাজসেবায় রফিক আহামদ, ভাষা ও সাহিত্যে মুহাম্মদ সামাদ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য), ভাষা ও সাহিত্যে লুৎফর রহমান রিটন, ভাষা ও সাহিত্যে মিনার মনসুর, ভাষা ও সাহিত্যে রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ (মরণোত্তর) ও শিক্ষায় অধ্যাপক জিনবোধি ভিক্ষু।

 

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন পদক বিতরণ পর্ব সঞ্চালনা করেন এবং পদক বিজয়ীদের ‘সাইটেশন’ পাঠ করেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসনা জাহান খানম স্বাগত বক্তব্য দেন।

 

সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, দেশবরেণ্য বুদ্ধিজীবী, কবি, সাহিত্যিক, শিল্পীসহ বিশিষ্ট আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।