ঢাকা , রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কমেছে সামিট পাওয়ারের মুনাফা

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটঃ ০৪:৫৮:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ৯২৬ বার পঠিত

বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি সামিট পাওয়ার লিমিটেডের (এসপিএল) সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে মুনাফা কমেছে ৪৬ শতাংশ। একই হিসাব বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। গতকাল কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৮৭ পয়সা। সে হিসাবে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস কমেছে ৪৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ৭ টাকা ৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ৯১ পয়সা। গত ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৮ টাকা ২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩৫ টাকা ৭২ পয়সা।

 

সামিট পাওয়ার জানিয়েছে, মূলত তিনটি কারণে তাদের মুনাফা কমেছে। প্রথমত, প্রতিকূল বিনিময় হারের কারণে জ্বালানির দামের তুলনায় এটি সংগ্রহে ব্যয় বেশি হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে দেরিতে বিল পাওয়ার কারণে স্থানীয় ব্যাংকের কাছ থেকে নেয়া চলতি মূলধন সহায়তার বিপরীতে নিট আর্থিক ব্যয় বেড়ে গেছে। তৃতীয়ত, বিদেশী উৎস থেকে নেয়া প্রকল্প অর্থায়নের কিস্তির অর্থ প্রতি প্রান্তিকে পরিশোধের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রাজনিত ক্ষতি বেড়ে গেছে। এসব কারণে কোম্পানিটির মুনাফার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

 

গত মাসের শুরুতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছ থেকে আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য দ্বিতীয় দফায় বাড়তি সময় পায় কোম্পানিটি। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য বিএসইসির কাছ সময় পেয়েছিল কোম্পানিটি। বাড়তি সময় পাওয়ার বিষয়ে এক মূল্যসংবেদনশীল তথ্যে (পিএসআই) বলা হয়েছিল, ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, চলতি ২০২৩-২৪ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ও দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর ডিসেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় বাড়িয়েছে বিএসইসি। এর আগে গত বছরের অক্টোবরে সামিট পাওয়ার জানিয়েছিল, ডলারের বিপরীতে টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়নের পাশাপাশি বিপিডিবি কর্তৃক বিদ্যুতের মাসিক বিল দিতে বিলম্ব হওয়ার কারণে সামিট অয়েল অ্যান্ড শিপিং কোম্পানি লিমিটেড (এসওএসসিএল) তীব্র অর্থ সংকটে ভুগছে। এসওএসসিএল সামিট পাওয়ারের মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য হেভি ফার্নেস অয়েল (এইচএফও) আমদানি ও সরবরাহ করে।

 

বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে এসওএসসিএলকে অতিরিক্ত তহবিল সহায়তা প্রদানের অনুমোদন নিয়েছিল। বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারজনিত বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টি বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইপিপিএ) সঙ্গে মিলে এরই মধ্যে বিপিডিবি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে সামিট পাওয়ার। বিল জমা দেয়ার তারিখ ও বিল পরিশোধের তারিখের মধ্যে বিনিময় হারে ওঠানামার কারণে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর যে লোকসান হয় সেটির ক্ষতিপূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েছে তারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে সামিট পাওয়ার বিপিডিবির কাছে সম্পূরক বিল জমা দিয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে বাকি আছে এবং আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়ার কারণে এটি খুব দ্রুত অনুমোদন হবে বলে মনে করছে না কোম্পানিটি। এ পরিস্থিতিতে কোম্পানিটির পক্ষে বার্ষিক আর্থিক বিবরণী চূড়ান্ত করা কঠিন।

 

ফলে বিপিডিবির কাছ থেকে অর্থ পাওয়ার আগে আন্তর্জাতিক হিসাব মান অনুসরণ করে স্বচ্ছ ও প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে সর্বশেষ ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করা সম্ভব হবে না। এ কারণে চলতি ২০২৩-২৪ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনও প্রস্তুত করা সম্ভব হবে না। এজন্য সামিট বিএসইসির কাছে আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময় বাড়ানোর জন্য দুই দফা আবেদন করে সময় নেয়।

 

২০২১-২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করে সামিট পাওয়ারের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৮৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ২৫ পয়সা।

অর্থআদালতডটকম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার হতে বিরত থাকুন।

কমেছে সামিট পাওয়ারের মুনাফা

আপডেটঃ ০৪:৫৮:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি সামিট পাওয়ার লিমিটেডের (এসপিএল) সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে মুনাফা কমেছে ৪৬ শতাংশ। একই হিসাব বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। গতকাল কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৮৭ পয়সা। সে হিসাবে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস কমেছে ৪৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ৭ টাকা ৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ৯১ পয়সা। গত ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৮ টাকা ২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩৫ টাকা ৭২ পয়সা।

 

সামিট পাওয়ার জানিয়েছে, মূলত তিনটি কারণে তাদের মুনাফা কমেছে। প্রথমত, প্রতিকূল বিনিময় হারের কারণে জ্বালানির দামের তুলনায় এটি সংগ্রহে ব্যয় বেশি হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে দেরিতে বিল পাওয়ার কারণে স্থানীয় ব্যাংকের কাছ থেকে নেয়া চলতি মূলধন সহায়তার বিপরীতে নিট আর্থিক ব্যয় বেড়ে গেছে। তৃতীয়ত, বিদেশী উৎস থেকে নেয়া প্রকল্প অর্থায়নের কিস্তির অর্থ প্রতি প্রান্তিকে পরিশোধের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রাজনিত ক্ষতি বেড়ে গেছে। এসব কারণে কোম্পানিটির মুনাফার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

 

গত মাসের শুরুতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছ থেকে আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য দ্বিতীয় দফায় বাড়তি সময় পায় কোম্পানিটি। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য বিএসইসির কাছ সময় পেয়েছিল কোম্পানিটি। বাড়তি সময় পাওয়ার বিষয়ে এক মূল্যসংবেদনশীল তথ্যে (পিএসআই) বলা হয়েছিল, ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, চলতি ২০২৩-২৪ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ও দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর ডিসেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় বাড়িয়েছে বিএসইসি। এর আগে গত বছরের অক্টোবরে সামিট পাওয়ার জানিয়েছিল, ডলারের বিপরীতে টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়নের পাশাপাশি বিপিডিবি কর্তৃক বিদ্যুতের মাসিক বিল দিতে বিলম্ব হওয়ার কারণে সামিট অয়েল অ্যান্ড শিপিং কোম্পানি লিমিটেড (এসওএসসিএল) তীব্র অর্থ সংকটে ভুগছে। এসওএসসিএল সামিট পাওয়ারের মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য হেভি ফার্নেস অয়েল (এইচএফও) আমদানি ও সরবরাহ করে।

 

বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে এসওএসসিএলকে অতিরিক্ত তহবিল সহায়তা প্রদানের অনুমোদন নিয়েছিল। বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারজনিত বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টি বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইপিপিএ) সঙ্গে মিলে এরই মধ্যে বিপিডিবি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে সামিট পাওয়ার। বিল জমা দেয়ার তারিখ ও বিল পরিশোধের তারিখের মধ্যে বিনিময় হারে ওঠানামার কারণে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর যে লোকসান হয় সেটির ক্ষতিপূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েছে তারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে সামিট পাওয়ার বিপিডিবির কাছে সম্পূরক বিল জমা দিয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে বাকি আছে এবং আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়ার কারণে এটি খুব দ্রুত অনুমোদন হবে বলে মনে করছে না কোম্পানিটি। এ পরিস্থিতিতে কোম্পানিটির পক্ষে বার্ষিক আর্থিক বিবরণী চূড়ান্ত করা কঠিন।

 

ফলে বিপিডিবির কাছ থেকে অর্থ পাওয়ার আগে আন্তর্জাতিক হিসাব মান অনুসরণ করে স্বচ্ছ ও প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে সর্বশেষ ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করা সম্ভব হবে না। এ কারণে চলতি ২০২৩-২৪ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনও প্রস্তুত করা সম্ভব হবে না। এজন্য সামিট বিএসইসির কাছে আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময় বাড়ানোর জন্য দুই দফা আবেদন করে সময় নেয়।

 

২০২১-২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করে সামিট পাওয়ারের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৮৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ২৫ পয়সা।